প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত চাই

সম্পাদকীয়

আজ ১৯ এপ্রিল রোববার মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত শ্যামনগর ও কালিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে কয়েকশত ভাটা শ্রমিক দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিনের ন্যায় আবারো এ জনপদে প্রবেশ করেছে।

প্রথমদিকে কয়েকদিন শ্রমিকরা শ্যামনগর কালিগঞ্জ হাইওয়েটি ব্যবহার করে সরাসরি শ্যামনগরে আসছিল। গেল কয়েকদিন কৌশল পরিবর্তন করে কালীগঞ্জ বাস টার্মিনাল, পিরোজপুর ও মৌতলা এলাকা দিয়ে তাদের পরিবহন ট্রাক বিকল্প পথে নুরনগর ইউনিয়ন হয়ে শ্যামনগরের গোডাউন মোড় নামক স্থানে উঠছে। অধিকাংশ শ্রমিক কালিগঞ্জ বাস টার্মিনালে নেমে পরবর্তীতে তাদের ব্যবহৃত জিনিসপত্র নিয়ে নসিমন-করিমন যোগে শ্যামনগর কালীগঞ্জের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে যাচ্ছে। বিষয়টা নিয়ে এত লেখালেখির পরেও প্রশাসন বিষয়টি তেমন গুরুত্ব সহকারে দেখছে না।

বিষয়টি নিয়ে লেখালেখি করায় একটি মহল আমার ওপর ভীষণ বিরক্ত ও ক্ষুব্দ।জনপ্রতিনিধিদের গাছাড়া ভাব। সামনে ইউপি নির্বাচন তাই তারা শ্রমিকদের ভোটের চিন্তায় ব্যস্ত। প্রতিটি গাড়ির জন্য একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা কালেকশন করেই শ্যামনগর ও কালীগঞ্জের রাত্রিকালীন কর্তব্যরত পুলিশ শ্রমিকদের বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে। নামকাওয়াস্তে দুই একটি গাড়ি ধরে থানায় নিয়ে যাচ্ছে।

ইতিমধ্যেই সাতক্ষীরায় হাজার হাজার শ্রমিক বিভিন্ন জেলা থেকে এসে ঢুকে পড়েছে। করোনা ভাইরাস নিয়ে প্রশাসনের এত তোড়জোড় থাকার পরেও এমন বিপদজনক কাজটি কিভাবে হচ্ছে ভাবতে কষ্ট হচ্ছে। এখনো সাতক্ষীরা জেলায় সিভিল সার্জনের তথ্য অনুসারে কোন করোনা পজেটিভ রোগী ধরা পড়েনি এটি আমাদের জন্য সুখবর। তবে বাইরের জেলা থেকে যেভাবে বন্যার স্রোতের মতো শ্রমিক ঢুকছে এই অবস্থা কতক্ষণ থাকবে সেটি চিন্তার বিষয়।

তারা নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যাওয়ার পরে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারান্টাইনে থাকবে কিনা এটিও নিশ্চিত করছে না। সাতক্ষীরা ৪ এর সম্মানিত মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব জগলুল হায়দার, শ্যামনগর ও কালিগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমরা এসব শ্রমিক ভাইদের বিপক্ষে নই। তারাও তো মানুষ তাদের প্রতি আমাদের সহানুভূতি আছে। শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত চাই।