ডেস্ক রিপোর্ট: বেসরকারি রিজেন্ট হাসপাতালে ভুয়া করোনা টেস্টের শিকার ব্যক্তিদের তালিকা প্রকাশ, তাদের কাছ থেকে টেস্টের নামে নেওয়া টাকা ফেরত এবং প্রত্যেক ক্ষতিগ্রস্তকে অন্তবর্তীকালীন ২৫ হাজার টাকা প্রদানের নির্দেশনা চেয়ে দায়ের করা রিটের পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৯ আগস্ট দিন নির্ধারণ করেছেন হাইকোর্ট।

বুধবার (২৯ জুলাই) বিচারপতি তারিক উল হাকিমের নেতৃত্বাধীন ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ব্যারিস্টার মো. আব্দুল হালিম ও অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান। অন্যরিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাস গুপ্ত।

এর আগে গত ২৬ জুলাই হাইকোর্টে এই রিট দায়ের করা হয়। রিটে বেসরকারি হাসপাতালে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত বিল আদায় বন্ধে মনিটরিং সেল গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়।

পাশাপাশি রিট আবেদনে দেশের সব বৈধ ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত  হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও করোনা চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত হাসপাতালের তালিকা প্রকাশ এবং প্রতিটি থানায় স্বাস্থ্য মনিটরিং কমিটি গঠনেরও নির্দেশনা চাওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসানের পক্ষে ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম এ রিট দায়ের করেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিব, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ও রিজেন্ট হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে রিটে বিবাদী করা হয়।

প্রসঙ্গত, এর আগে গত ১৯ জুলাই এসব বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসানের পক্ষে ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম সংশ্লিষ্টদের একটি আইনি নোটিশ পাঠান। তবে সে নোটিশের জবাব না পেয়ে এ রিট দায়ের করা হয়।

নোটিশে বলা হয়েছিলো, লাইসেন্সবিহীন রিজেন্ট হাস্পাতালের সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চুক্তি ও বুথ বানিয়ে করোনা টেস্ট এর অনুমতি প্রদান করেছে। যা  চরম দায়িত্বহীনতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের পরিচয়। ভুয়া করোনা টেস্ট এর রিপোর্ট প্রদান করে রিজেন্ট হাসপাতাল জনগণের সঙ্গে চরমভাবে প্রতারণা করেছে। তাই প্রতারিত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

মাশরুমের মতো গড়ে ওঠা লাইসেন্সবিহীন হাসপাতাল, করোনা টেস্টের ভুয়া রিপোর্ট নিয়ে বিদেশ ভ্রমণ, বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা, বিল নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এর কার্যত কোনও পদক্ষেপ নেই, যা জনগণের বেঁচে থাকার সাংবিধানিক অধিকারকে সুস্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করেছে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

গত ৬ জুলাই র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমের নেতৃত্বে রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। এই সময় পরীক্ষা ছাড়াই করোনার সনদ দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। এরপর ৭ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশে র‌্যাব রিজেন্ট হাসপাতাল ও তার মূল কার্যালয় সিলগালা করে দেয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ এই হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। একইদিন উত্তরা পশ্চিম থানায় রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। এরপর থেকে সাহেদ পলাতক ছিল।  ১৫ জুলাই ভোরে সাতক্ষীরা থেকে সাহেদকে গ্রেফতার করা হয়। সাহেদ বর্তমানে র‌্যাব হেফাজতে রিমান্ডে রয়েছে।