ডেস্ক রিপোর্ট : বিশ্ব বাঘ দিবস আজ। বিশ্বব্যাপী বাঘ নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির এই দিনে বাংলাদেশের কী চেহারা? কেমন আছে বাংলাদেশে বাঘের অভয়াশ্রম সুন্দরবন? জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা কারণে হুমকির মুখে বেঙ্গল টাইগার। অবৈধ শিকার আর মাছ শিকারিদের অপতৎপরতায় ঝুঁকিতে বাঘের আবাস- সুন্দরবন। যদিও সেই হুমকি মোকাবেলা করেই চলছে বাঘ বাঁচানোর চেষ্টা। বাঘের সংখ্যা বাড়াতে সমন্বিতভাবে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমির হোসাইন চৌধুরী। যমুনা নিউজকে তিনি জানান, সুন্দরবন রক্ষায় বেড়েছে তৎপরতা।

অবৈধ শিকার, বাঘ-মানুষের সংঘর্ষসহ নানা প্রাকৃতিক কারণে গত ১৮ বছরে সুন্দরবনে অর্ধ শতাধিক বাঘের মৃত্যু হয়েছে। শিকারিরা ধরাও পড়েছে কোনো কোনো ক্ষেত্রে। এখনও সুন্দরবনজুড়ে সক্রিয়, বাঘ, হরিণ কিংবা অন্য বন্যপ্রাণি শিকারি কয়েকটি চক্র। করোনাকালে বেড়েছে তাদের অপতৎপরতা। সন্দেহভাজন অবৈধ শিকারিদের তালিকা তৈরি করেছে বন বিভাগ।

প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমির হোসাইন চৌধুরী যমুনা নিউজকে জানান, ‘রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার’বিলুপ্ত হওয়ার সতর্ক বার্তা দিলেও বাংলাদেশের সুন্দরবন অংশে বাঘের সংখ্যা বাড়ছে। ২০১৪-২০১৫ সালের বাঘশুমারিতে ১০৬টি বাঘ থাকার কথা বলা হয়েছিল। সর্বশেষ ২০১৮-১৯ সালের জরিপে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৪টি-তে।

তিনি বলেন, ২০১০ সালে সেন্ট পিটার্সবার্গে টাইগার সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী যোগদান করেন এবং এই সম্মেলনে ২০২২ সালের মধ্যে বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করার টার্গেট নেয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আমরা ২০২৭ সাল পর্যন্ত অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করেছি। ২০২২ সালে দেশ প্রধানদের নিয়ে আরও একটি সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে। এই জন্য ২০২১-২২ সালে ক্যামেরা ট্র্যাপিং’র মাধ্যমে আমরা আরও একটি জরিপ করবো। আর তখনই জানা যাবে সুন্দরবনে বাঘের প্রকৃত সংখ্যা।বাঘ রক্ষায় বাংলাদেশকে এখন ‌’এ’ ক্যাটাগরির দেশ হিসেবে অবস্থান করছে। ভারত, নেপাল, রাশিয়ার পরই বাংলাদেশের অবস্থান।

সুন্দরবনের পরিবেশে বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণে উন্নীত করা চ্যালেঞ্জিং উল্লেখ করে তিনি বলেন, বনের পরিবেশ কর্দমাক্ত হওয়ায় বাঘের জন্য টিকে থাকা খুবই কঠিন। বাঘ গবেষক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম এ আজিজ একটি সমীক্ষা করেছেন। এই সমীক্ষায় জানা যাবে সুন্দরবনের পরিবেশে সর্বোচ্চ কতটি বাঘ এখানে থাকতে পারবে। সমীক্ষার রেজাল্ট পাবলিশ হলেই তা আমরা জানাতে পারবো। সুন্দরবনে বাঘের জন্য টিকে থাকা অনেক চ্যালেঞ্জিং। এখানে হিউম্যান টাইগার কনফ্লিক্ট আছে, বাঘ পাচাকারী চক্র আছে, যেটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সমীক্ষায় আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ আছে সেগুলো ধরেই আমরা আমাদের টার্গেট ফিক্স করার চেষ্টা করবো।

বাঘ শিকারিদের বিরুদ্ধে বন বিভাগ তৎপর আছে উল্লেখ করে প্রধান বন সংরক্ষক বলেন, ২০১৬ সালে সুন্দরবনের বেশ কয়েকটি বাঘ পাচারকারী চক্রকে আমরা ধরতে সক্ষম হই এবং তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হয়। এরপর থেকেই সুন্দরবনে স্মার্ট পেট্রোলিং চালু করেছি যেটি প্রতিনিয়ত নজরদারি রেখে চলেছে। এছাড়া র‍্যাব, পুলিশ, কোস্ট গার্ড এবং সিভিল প্রশাসনের সাথে আমাদের স্মার্ট পেট্রোল বাহিনী যোগাযোগ রেখে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

বন রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সুন্দরবন বিশাল একটা এলাকা তাই এখানে শুধু বন বিভাগ কাজ করেই সব সমাধান করতে পরবে না। এজন্য এগিয়ে আসতে হবে উপকূলের মানুষদের। আর এজন্য আমরা নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।