মরক্কান ইহুদি পরমাণু বিজ্ঞানী ইসরায়েলের গোপন পারমাণবিক তথ্য ফাঁস

সুন্দরবন নিউজ২৪ ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬ । ৪:৫৫ অপরাহ্ণ

মোরদেকাই ভানুনু, ইসরায়েলের গোপন পারমাণবিক কর্মসূচি বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা এক শান্তিকামী সাহসী বীরের নাম। মরক্কান বংশোদ্ভূত এই ইহুদি ১৯৭৭ সালে ইসরায়েলের নেগেভ নিউক্লিয়ার রিসার্চ সেন্টার (ডিমোনা প্ল্যান্ট)-এ টেকনিশিয়ান হিসেবে যোগ দেন।

প্রায় ৯ বছর কাজ করার সময় তিনি প্রত্যক্ষ করেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের আড়ালে সেখানে গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা হচ্ছে। ধীরে ধীরে তিনি উপলব্ধি করেন, ইসরায়েল ইতোমধ্যেই ১০০ থেকে ২০০টি পারমাণবিক বোমা তৈরি করেছে, যা দেশটিকে বিশ্বের অন্যতম পারমাণবিক শক্তিতে পরিণত করেছে।

১৯৮২ সালে লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সময় তাকে রিজার্ভ সেনা হিসেবে যোগ দিতে বলা হয়। তিনি সরাসরি যুদ্ধ করতে অস্বীকৃতি জানান। ইসরায়েলে কাউকে সেনাবাহিনী ডাকলে সেখানে যাওয়া বাধ্যতামূলক।

ভানুনু পেশায় প্রকৌশলী হলেও তাকে যুদ্ধে রান্নাঘরে দায়িত্ব পালন করান। শান্তিকামী আদর্শে বিশ্বাসী ভানুনু পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেন, ইসরায়েলের গোপন পারমাণবিক কর্মসূচির তথ্য বিশ্ববাসীর সামনে প্রকাশ করবেন।

১৯৮৫ সালে চাকরি হারানোর আগে তিনি ডিমোনা প্ল্যান্টের ভেতরে গোপনে শত শত ছবি ধারণ করেন। কঠোর নিরাপত্তা ভেঙে কখনো মোজার ভেতরে ফিল্ম লুকিয়ে, কখনো গভীর রাতে তিনি এসব ছবি সংগ্রহ করেন।

পরবর্তীতে বিভিন্ন দেশ ভ্রমণের সময় ১৯৮৬ সালে অস্ট্রেলিয়ায় ব্রিটিশ সাংবাদিক পিটার হাউন্যাম-এর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তার দেওয়া তথ্য ও ছবি যাচাইয়ের জন্য তাকে লন্ডনের সানডে টাইমস অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে বিস্তারিত সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশের প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

তবে এরই মধ্যে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ তার ওপর নজরদারি শুরু করে। লন্ডনে অবস্থানকালে ‘সিন্ডি’ নামে এক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে ভানুনুর। পরে জানা যায়, তিনি আসলে মোসাদের এজেন্ট চেরিল বেনটভ।

তার ফাঁদে পড়ে ইতালির রোমে গেলে ভানুনুকে ড্রাগ দিয়ে অজ্ঞান করে অপহরণ করা হয় এবং গোপনে ইসরায়েলে নিয়ে যাওয়া হয়। এক মাস নিখোঁজ থাকার পর ইসরায়েল সরকার তাকে নিজেদের হেফাজতে থাকার কথা স্বীকার করে এবং রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনে।

পরবর্তীতে আদালত তাকে ১৮ বছরের কারাদণ্ড দেয়। এর মধ্যে ১১ বছর তিনি কাটান সম্পূর্ণ নিঃসঙ্গ কারাবাসে। ২০০৪ সালে মুক্তি পেলেও তার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়— দেশ ত্যাগ, গণমাধ্যমে কথা বলা এবং বিদেশিদের সঙ্গে যোগাযোগে সীমাবদ্ধতা দেওয়া হয়।

সম্পাদক: আলহাজ্ব আকবর কবীর, মোবা: +৮৮০১৭১২-৩৩৩৬২৩, +৮৮০১৭১১-৩৮১২৯০, বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯৭২-৩৩৩৬২৩, ঠিকানা: ঢাকা, বাংলাদেশ। ই-মেইল: akborkabir9@gmail.com

প্রিন্ট করুন