জাহাজে ৭ খু ন: কর্মী আকাশ মণ্ডল গ্রে প্তা র

সুন্দরবন নিউজ ২৪ ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৪ । ৩:১৭ অপরাহ্ণ

চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলায় মেঘনা নদীতে সার বহনকারী এমভি আল বাখেরা জাহাজে সাতজন খুনের ঘটনায় আকাশ মণ্ডল ওরফে ইরফান (২৬) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিষয়টি জানিয়েছেন র‌্যাব-১১ কুমিল্লা-২ এর উপ-অধিনায়ক মেজর সাকিব হোসেন।

এসময় আকাশের কাছ থেকে একটি হ্যান্ড গ্লাভস, ব্যাগ, ঘুমের ওষুধের খালি পাতা, খুন হওয়া ব্যক্তিদের ব্যবহৃত পাঁচটিসহ সাতটি মোবাইল ফোন, রক্ত মাখানো একটি জিন্সের প্যান্ট উদ্ধার করা হয়েছে।

বাগেরহাটের চিতলমারী থেকে মঙ্গলবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আকাশ মণ্ডল বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট এলাকার জগদীশ মণ্ডলের ছেলে।

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) উপ-অধিনায়ক মেজর কর্মকর্তা সাকিব বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বেতন ভাতা না পাওয়া ও দুর্ব্যবহারের কারণে ক্ষোভ জন্মে জাহাজের লস্কর আকাশ মণ্ডলের মনে। এ ক্ষোভ থেকেই জাহাজের মাস্টার গোলাম কিবরিয়াসহ সাতজনকে হত্যা করেন তিনি।

তিনি জানান, আকাশ জাহাজে চাকরি করতেন। জাহাজের মাস্টার গোলাম কিবরিয়া দীর্ঘ আট মাস ধরে তাকে কোনো বেতন-ভাতা দিতেন না। তার ওপর তিনি আকাশের সঙ্গে দুর্ব্যবহারও করতেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আকাশ মণ্ডল সবাইকে হত্যা করেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে আকাশ মণ্ডল জানান, জাহাজের বাজার করার জন্য তিনি পাবনার একটি বাজারে নেমেছিলেন। সেখান থেকে তিনি তিন পাতা ঘুমের ওষুধ কেনেন। আর যে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে সবাইকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়, সেটি জাহাজেই ছিল। কুড়ালটি জাহাজের নিরাপত্তার জন্য রাখা হয়েছিল।

র‌্যাবের দাবি, আকাশ প্রথমে খাবারের মধ্যে ঘুমের ওষুধ মিশিয়েছিলেন। সেই খাবার সবাই খেয়ে শুয়ে পড়েন। পরে হাতে গ্লাভস পরে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে তিনি জাহাজের মাস্টার গোলাম কিবরিয়াকে কুপিয়ে হত্যা করেন। তার ক্ষোভ মূলত জাহাজের মাস্টারের ওপর। কিন্তু অন্যরা তাকে হত্যা করতে দেখে ফেলায় তাদেরও হত্যার উদ্দেশে কোপান তিনি। এরপর নিজে জাহাজ চালিয়ে হাইমচর এলাকায় নোঙর করে ট্রলারে করে পালিয়ে যান আকাশ। এদিকে তার এলোপাতাড়ি কোপে সাতজনের মৃত্যু হলেও বেঁচে গেছেন সুকানি জুয়েল।

চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার মেঘনা নদীর ইশানবালা খালের মুখে নোঙর করে রাখা সারবাহী জাহাজ থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এসময় রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুজনের মৃত্যু হয়।

খুন হওয়া ব্যক্তিরা হলেন-মাস্টার গোলাম কিবরিয়া, গ্রিজার সজিবুল ইসলাম, লস্কর মাজেদুল ইসলাম, শেখ সবুজ, আমিনুর মুন্সী, ইঞ্জিনচালক সালাউদ্দিন ও বাবুর্চি রানা কাজী। এছাড়া আহত সুকানি জুয়েল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

সম্পাদক: আলহাজ্ব আকবর কবীর, মোবা: +৮৮০১৭১২-৩৩৩৬২৩, +৮৮০১৭১১-৩৮১২৯০, বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯৭২-৩৩৩৬২৩, ঠিকানা: ঢাকা, বাংলাদেশ। ই-মেইল: akborkabir9@gmail.com

প্রিন্ট করুন