খুঁজুন
সোমবার, ১৬ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অস্ট্রেলিয়ায় ৫ বছরের ওয়ার্ক ভিসায় পরিবারসহ থাকতে পারবেন! জানুন ধাপে ধাপে এপ্লাইয়ের প্রক্রিয়া

সুন্দরবন নিউজ২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১১ আগস্ট, ২০২৫, ১:৫৬ অপরাহ্ণ
অস্ট্রেলিয়ায় ৫ বছরের ওয়ার্ক ভিসায় পরিবারসহ থাকতে পারবেন! জানুন ধাপে ধাপে এপ্লাইয়ের প্রক্রিয়া

অস্ট্রেলিয়া দক্ষ কর্মীদের জন্য এক আকর্ষণীয় গন্তব্য, বিশেষ করে যারা পরিবার নিয়ে উন্নত জীবনযাত্রা ও পেশাগত ভবিষ্যতের খোঁজে থাকেন। এই উদ্দেশ্যে, অস্ট্রেলিয়ান সরকার Skilled Employer Sponsored Regional (Provisional) Visa – Subclass 494 চালু করেছে, যা অভিবাসনপ্রত্যাশী কর্মীদের আঞ্চলিক অস্ট্রেলিয়ায় কাজ ও বসবাসের সুযোগ দেয় ৫ বছরের জন্য। এর মাধ্যমে স্থায়ী নাগরিকত্ব পাওয়ার একটি সুস্পষ্ট পথও খোলা থাকে।

এই প্রতিবেদনটিতে Subclass 494 ভিসার উদ্দেশ্য, যোগ্যতা, আবেদন প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, এবং পরিবারের সদস্যদের জন্য সুযোগ-সুবিধা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

Subclass 494 ভিসা কী?
এই ভিসাটি আঞ্চলিক এলাকায় কর্মী সংকট পূরণের জন্য তৈরি করা হয়েছে। কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের একজন অনুমোদিত নিয়োগদাতা যদি স্থানীয় যোগ্য কর্মী না পান, তাহলে তারা বিদেশি দক্ষ কর্মীকে স্পনসর করতে পারেন এই ভিসার মাধ্যমে।

এটি একটি অস্থায়ী (provisional) ভিসা, তবে তিন বছর পর স্থায়ী বাসিন্দার (Subclass 191) জন্য আবেদন করা যায়, যদি নির্দিষ্ট আয়ের ও বসবাসের শর্ত পূরণ করা হয়।

প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:

মেয়াদ: সর্বোচ্চ ৫ বছর
আপনি এবং আপনার পরিবার আঞ্চলিক অস্ট্রেলিয়ায় থাকতে, কাজ করতে ও পড়াশোনা করতে পারবেন
স্পনসর প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন
পরিবার নিয়ে আবেদন করা যায়
স্থায়ী নাগরিকত্বের সুযোগ (Subclass 191 এর মাধ্যমে)
নোট: সিডনি, মেলবোর্ন, ও ব্রিসবেন ছাড়া প্রায় সব শহরই “আঞ্চলিক এলাকা” হিসেবে বিবেচিত — যেমন অ্যাডিলেইড, পার্থ, হোবার্ট।
Subclass 494 ভিসার প্রধান দুটি ধারা (Stream):

Employer Sponsored Stream – অনুমোদিত নিয়োগকর্তা দ্বারা স্পনসরকৃত দক্ষ কর্মীদের জন্য
Labour Agreement Stream – নিয়োগদাতাদের সাথে চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের জন্য
এই প্রতিবেদনের মূল ফোকাস Employer Sponsored Stream এ।

আবেদনকারীর যোগ্যতা:

বয়স ৪৫ বছরের নিচে
আঞ্চলিক এলাকায় কাজের অফার থাকা আবশ্যক
নির্ধারিত পেশায় স্কিল অ্যাসেসমেন্ট পাস
ন্যূনতম ৩ বছরের প্রাসঙ্গিক কাজের অভিজ্ঞতা
প্রমাণিত ইংরেজি দক্ষতা (IELTS: প্রতিটি বিভাগে ন্যূনতম ৬ / PTE: প্রতিটি বিভাগে ৫০)
স্বাস্থ্য ও চরিত্রের মাপকাঠি পূরণ করতে হবে
নিয়োগদাতার যোগ্যতা:

অনুমোদিত স্পনসর হতে হবে
আঞ্চলিক এলাকায় ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে
কমপক্ষে ৫ বছরের জন্য পূর্ণকালীন চাকরির অফার দিতে হবে
প্রমাণ দিতে হবে যে কোনো স্থানীয় প্রার্থী খুঁজে পাওয়া যায়নি
কোন কোন পেশা যোগ্য?
শুধুমাত্র Regional Occupation List (ROL)-এ থাকা পেশাগুলো Subclass 494 ভিসার আওতায় পড়ে। এর মধ্যে রয়েছে:

স্বাস্থ্যসেবা
প্রকৌশল
কৃষি
নির্মাণ
আইটি
শিক্ষা
প্রার্থীদের অবশ্যই নির্ধারিত অথরিটি থেকে বৈধ স্কিল অ্যাসেসমেন্ট নিতে হবে।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:
আবেদনকারীর জন্য:

বৈধ পাসপোর্ট
স্কিল অ্যাসেসমেন্ট রিপোর্ট
কাজের অভিজ্ঞতার প্রমাণ
বিস্তারিত সিভি
শিক্ষাগত সনদপত্র ও মার্কশিট
পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা
নিয়োগদাতার জন্য:

ব্যবসার নিবন্ধন ও কার্যক্রমের প্রমাণ
লেবার মার্কেট টেস্টিং রিপোর্ট
চাকরির চুক্তিপত্র
বেতনের বিবরণ
পরিবারের জন্য:

পাসপোর্ট
জন্ম ও বিবাহ সনদ
পুলিশ ক্লিয়ারেন্স
স্বাস্থ্য পরীক্ষা
ধাপে ধাপে আবেদন প্রক্রিয়া:

স্কিল অ্যাসেসমেন্ট সম্পন্ন করুন
আঞ্চলিক চাকরির অফার জোগাড় করুন
নিয়োগকর্তা দ্বারা স্পনসরশিপ আবেদন
ভিসা আবেদন অনলাইনে জমা দিন (ImmiAccount এর মাধ্যমে)
অপেক্ষা করুন (৬-১০ মাস প্রক্রিয়াকরণ সময়)
ভিসা অনুমোদন হলে পরিবারসহ অস্ট্রেলিয়া যাত্রা করুন
এই ভিসায় আপনার অধিকার:

আঞ্চলিক এলাকায় বসবাস ও কাজের পূর্ণ অধিকার
পরিবারের সদস্যদেরও কাজ ও পড়াশোনার সুযোগ
নির্দিষ্ট ইনকাম থ্রেশহোল্ড পূরণ করলে ৩ বছর পর স্থায়ী নাগরিকত্বের আবেদন
Subclass 191 – স্থায়ী নাগরিকত্বের পথ:
৩ বছর Subclass 494 ভিসায় থাকার পর এবং বার্ষিক ইনকাম থ্রেশহোল্ড পূরণ করলে Subclass 191 ভিসার জন্য আবেদন করা যায়। নতুন স্পনসর প্রয়োজন হয় না, এবং পরিবারের সদস্যরাও অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন।

খরচ:

আবেদন ফি (প্রধান আবেদনকারী): প্রায় AUD 4,640
অতিরিক্ত ফি: প্রতিটি পরিবার সদস্যের জন্য আলাদা
অন্যান্য খরচ: স্কিল অ্যাসেসমেন্ট, ইংরেজি পরীক্ষা, মেডিকেল, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, ইত্যাদি
সাধারণ প্রশ্নাবলি (FAQs):
১. স্পনসর পরিবর্তন করা যাবে কি?
হ্যাঁ, তবে নতুন নিয়োগকর্তার কাছ থেকে নতুন মনোনয়ন নিতে হবে।

২. আমার স্ত্রী/স্বামী কি যেকোনো চাকরি করতে পারবে?
হ্যাঁ, তারা আঞ্চলিক এলাকায় যেকোনো পেশায় কাজ করতে পারবেন।

৩. Subclass 494 কি স্থায়ী ভিসা?
না, এটি একটি অস্থায়ী ভিসা তবে এটি স্থায়ী ভিসার পথ খুলে দেয়।

৪. আমি যদি আঞ্চলিক এলাকা ছেড়ে যাই?
এতে ভিসা বাতিল হতে পারে অথবা স্থায়ী নাগরিকত্বের প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে।

৫. কি আমি নিজেরাই আবেদন করতে পারি, না কি মাইগ্রেশন এজেন্ট দরকার?
নিজেরাই আবেদন করতে পারেন, তবে জটিলতা থাকলে একজন অভিজ্ঞ এজেন্টের সাহায্য নিতে পারেন।

Subclass 494 ভিসা হলো দক্ষ কর্মীদের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় পরিবারসহ বসবাস এবং কাজ করার একটি অসাধারণ সুযোগ। এটি স্থায়ী নাগরিকত্বের স্পষ্ট পথ খুলে দেয়, যদি আপনি প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করেন। যারা আঞ্চলিক অস্ট্রেলিয়ায় নিজেদের নতুন জীবন শুরু করতে চান, তাদের জন্য এটি একটি উপযুক্ত ও বাস্তবসম্মত পছন্দ।

প্রয়োজনে আরও তথ্য বা সাহায্যের জন্য একজন রেজিস্টার্ড মাইগ্রেশন এজেন্টের সঙ্গে পরামর্শ করুন।
আপনার অস্ট্রেলিয়া যাত্রা শুভ হোক!

হারেৎজের প্রতিবেদন ইসরায়েলের পরমাণু অস্ত্র প্রকল্পে গোপনে অর্থায়ন করেছিল জার্মানি

সুন্দরবন নিউজ২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ৮:৪৬ অপরাহ্ণ
হারেৎজের প্রতিবেদন ইসরায়েলের পরমাণু অস্ত্র প্রকল্পে গোপনে অর্থায়ন করেছিল জার্মানি

ইসরায়েলের নেগেভ মরুভূমিতে অবস্থিত ডিমোনা পারমাণবিক চুল্লির অস্তিত্ব প্রথম প্রকাশ্যে আসে ১৯৬০ সালের ডিসেম্বরে। এরপর থেকে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তর গবেষণা, বই এবং অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, জার্মানি গোপনভাবে এই প্রকল্পে অর্থায়ন করেছিল।

ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজ জানিয়েছে, অ্যাভনার কোহেনের ‘ইসরায়েল অ্যান্ড দ্য বোম্ব’সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থের পাশাপাশি সিমুর হার্শ, জাকি শালোম এবং আদম রাজের গবেষণায় এই কর্মসূচির উৎস, বিকাশ এবং গোপনীয়তা বিশদভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ২০২৪ সালে সাংবাদিক শ্যানি হাজিজারের প্রামাণ্যচিত্র সিরিজ ‘দ্য অ্যাটম অ্যান্ড মি’ এই ইতিহাসে ব্যক্তিগত ও সামাজিক মাত্রা যোগ করেছে।

তবে দশকের পর দশক গবেষণার পরও দুটি বড় প্রশ্নের উত্তর অমীমাংসিত রয়ে গেছে—প্রকল্পের মোট খরচ কত হয়েছিল এবং সেই অর্থ কে জুগিয়েছিল।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ১৯৬১ থেকে ১৯৭৩ সালের মধ্যে বন সরকার (তৎকালীন পশ্চিম জার্মানির সরকার) গোপন ঋণ ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিবছর ১৪০ থেকে ১৬০ মিলিয়ন জার্মান মার্ক ইসরায়েলে পাঠিয়েছে। মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২ বিলিয়ন মার্ক, যা বর্তমান মূল্যে প্রায় ৫ বিলিয়ন ইউরো বা ৫.৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

১৯৮৯ সালে স্বাক্ষরিত পরবর্তী এক পরিশোধ চুক্তির মাধ্যমে এই ঋণ কার্যত অনুদানে পরিণত হয়।

এই দাবি সত্য হলে, ইসরায়েলের পারমাণবিক প্রকল্পের বড় অংশ ইসরায়েলি করদাতা বা ব্যক্তিগত দাতাদের অর্থে নয়, বরং জার্মান সরকারের অর্থে নির্মিত হয়েছিল।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান কে হবেন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ে জানা গেল

সুন্দরবন নিউজ২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬, ৪:৩৫ অপরাহ্ণ
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান কে হবেন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ে জানা গেল

সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের দেওয়া রায় প্রকাশ করা হয়েছে। রায়ে সবশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হবেন বলে উল্লেখ করা হয়।

রোববার (১৫ মার্চ) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ৭৪ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশ করা হয়। রায়টি লিখেছেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। গত ২০ নভেম্বর ওই রায় দিয়েছিলেন সর্বোচ্চ আদালত।

এই রায়ের ফলে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিধান আবার ফিরল। এ–সংক্রান্ত বিধান পুনরুজ্জীবিত হলেও এখনই তা কার্যকর হচ্ছে না। জাতীয় সংসদের চতুর্দশ নির্বাচন থেকে তা প্রয়োগ হতে পারে।

পূর্ণাঙ্গ রায়ে আপিল বিভাগ বলেন, চতুর্দশ নির্বাচন থেকেই এই ব্যবস্থা কার্যকর হবে। তবে বর্তমান সংসদ চাইলে এ ব্যবস্থার সংযোজন কিংবা বিয়োজন করতে পারবে বলে জানায় আইনজীবীরা।

১৯৯৬ সালে বিএনপি সরকারের আমলে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন হয়েছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০১১ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে রায় দিলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিলোপ ঘটে।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০১১ সালের সেই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন হলে নতুন করে আপিল শুনানির সিদ্ধান্ত নেয় সর্বোচ্চ আদালত। পরে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় অবৈধ ঘোষণা করে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত দেন সর্বোচ্চ আদালত।

সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৭ বিচারকের পূর্ণাঙ্গ আপিল বিভাগ এ রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অপর ৬ বিচারক হলেন– বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম ইমদাদুল হক, বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।

ইরানে স্থল অভিযান মানে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ!

সুন্দরবন নিউজ২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬, ১১:৩৪ পূর্বাহ্ণ
ইরানে স্থল অভিযান মানে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ!

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকে সংঘাত ক্রমেই বাড়ছে। পাল্টাপাল্টি আক্রমণের তীব্রতা যেমন বাড়ছে, তেমনি বিস্তৃত হচ্ছে যুদ্ধক্ষেত্রের পরিধিও। একের পর এক গোষ্ঠী, দেশ আক্রান্ত হচ্ছে, জড়াচ্ছে যুদ্ধে। প্রথমদিকে কেবল ইরানের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হলেও পরে কৌশলগত অবস্থান, জ্বালানি, পানি স্থাপনা, হাসপাতাল, স্কুলে হামলা হয়। তেহরানও ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটির সঙ্গে পানি শোধণাগার, জ্বালানি ডিপোকে ড্রোন হামলা চালায়। এর মধ্যে ইরানের সবচেয়ে বড় চারটি তেল ডিপোতে ইসরায়েলি-মার্কিন হামলার পর জ্বালানির অন্যতম নৌরুট হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে তেহরান। তেল আবিবে হিজবুল্লাহ ও ইরান প্রথমবারের মতো যৌথভাবে আক্রমণ করে। তেহরানের ‘অলআউট’ আক্রমণে সাগরে থাকা মার্কিন রণতরি, আকাশে সামরিক বিমান বিধ্বস্ত, ঘাঁটির পাঁচটি সামরিক বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইসরায়েলজুড়ে ঝোড়ো আক্রমণ চালাচ্ছে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সেনারা। যুদ্ধে সরাসরি জড়িয়েছে ইরানপন্থি লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইরাকের মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো। রাজধানী তেহরানসহ সব প্রদেশে তাণ্ডব চালাচ্ছে মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধ জোট। এর মধ্যে খবর বেরিয়েছে—রাশিয়া মার্কিন সামরিক বাহিনী ও যানের অবস্থানগত গোয়েন্দা তথ্য এবং স্যাটেলাইটের জিপিএস আর প্রযুক্তিগত সুবিধা দিচ্ছে চীন। জাতিসংঘেও তারা ইরানে হামলার বিরুদ্ধে তোপ দেগেছে। এ পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আড়াই হাজার স্থল সেনা পাঠাচ্ছেন। বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, এখন ইরানে স্থল অভিযান শুরু হলে সেটি শুধু আর আঞ্চলিক যুদ্ধে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা বিশ্বকে ঠেলে দিতে পারে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে। ইরান যুদ্ধ ঘিরে বিশ্বযুদ্ধের ঝুঁকি নিয়ে বিস্তারিত জানাচ্ছেন হুমায়ূন কবির

ইরানের সামরিক শক্তি, ভৌগোলিক অবস্থান এবং রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্কসহ বিস্তৃত আঞ্চলিক প্রভাব—এই তিনের সমন্বয়ে ইরানকে অনেক বিশেষজ্ঞই মধ্যপ্রাচ্যে ‘কৌশলগত কেন্দ্রবিন্দু’ হিসেবে দেখেন। ফলে দেশটিতে সরাসরি সেনা অভিযান মানে শুধু ইরানের সঙ্গে সংঘাত নয়, বরং পুরো অঞ্চলের শক্তির ভারসাম্য ভেঙে পড়ার ঝুঁকি।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক জন জে মিয়ারশেইমার মনে করেন, ইরানের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ দ্রুতই বহু দেশের সম্পৃক্ততায় বড় আকার নিতে পারে। একই ধরনের সতর্কতা দিয়েছেন বৈশ্বিক ঝুঁকি বিশ্লেষক ইয়ান ব্রিমারও। তাদের মতে, ইরানের বৈশ্বিক মিত্র ও প্রক্সি শক্তিগুলো সক্রিয় হলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে লেবানন, সিরিয়া, ইরাক ও ইয়েমেন পর্যন্ত। এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পথগুলোর একটি হরমুজ প্রণালি, যা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্ব অর্থনীতিতেও দেখা দিতে পারে বড় ধরনের ধাক্কা।

আঞ্চলিক যুদ্ধ, সীমিত যুদ্ধ বা নানা ধরনের হাইব্রিড ও অসম যুদ্ধের তুলনায় একটি বিশ্বযুদ্ধ মহাশক্তির রাজনীতি, স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ওপর অনেক বেশি প্রভাব ফেলে। হ্যাঁ, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তবে তা অঞ্চল ছাড়িয়ে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। কিন্তু এই বা অন্য কোনো সংঘাতকে বিশ্বযুদ্ধ বলতে হলে চারটি শর্ত পূরণ করতে হবে। প্রথমত, একটি বিশ্বযুদ্ধে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সব বা অধিকাংশ মহাশক্তি সরাসরি পরস্পরের মুখোমুখি হয়। দ্বিতীয়ত, যুদ্ধ-সংক্রান্ত সামরিক অভিযান বৈশ্বিক পরিসরে বিস্তৃত হয় বা অন্তত দুই বা ততোধিক মহাদেশে সংঘটিত হয়। তৃতীয়ত, বিশ্বযুদ্ধ হলো সর্বাত্মক যুদ্ধ, সীমিত যুদ্ধ নয়। অর্থাৎ মহাশক্তিগুলো তাদের সামরিক শক্তি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদের বিপুল অংশ যুদ্ধে নিয়োজিত করে। চতুর্থত, যুদ্ধের ফলাফল হতে হবে পদ্ধতিগত বা কাঠামোগত প্রভাববাহী, অর্থাৎ মহাশক্তিগুলোর শক্তির ভারসাম্যে স্পষ্ট পরিবর্তন ঘটতে হবে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ স্পষ্টতই এই চারটি মানদণ্ড পূরণ করেছিল। এতে তৎকালীন সব মহাশক্তি জড়িত ছিল, যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়েছিল সব বসবাসযোগ্য মহাদেশে, এটি ছিল সর্বাত্মক যুদ্ধ এবং এর ফলাফল ছিল গভীর পদ্ধতিগত পরিবর্তন। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন সুপারপাওয়ার হিসেবে উঠে আসে, আর ইউরোপের পূর্বতন মহাশক্তিগুলো ধীরে ধীরে তাদের মর্যাদা ও উপনিবেশ হারায়। এ যুদ্ধের ফলেই জাতিসংঘ এবং ব্রেটন উডস প্রতিষ্ঠানগুলোর সৃষ্টি হয়, যা বৈশ্বিক ব্যবস্থাকে সংগঠিত করার এক সম্পূর্ণ নতুন পদ্ধতি।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ মূলত ইউরোপকেন্দ্রিক হলেও শেষ পর্যন্ত তৎকালীন সব মহাশক্তিকে এতে জড়িয়ে ফেলে, যার মধ্যে ক্ষয়িষ্ণু ওসমানী সাম্রাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রও ছিল। যুদ্ধটি বৈশ্বিক রূপ নেয়, আফ্রিকা ও এশিয়া-প্রশান্ত অঞ্চলে ইউরোপীয় উপনিবেশগুলোর কারণে একাধিক ফ্রন্ট তৈরি হয়।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের লড়াই: আঞ্চলিক যুদ্ধ

ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এখন পর্যন্ত আঞ্চলিক যুদ্ধ। যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা, জ্বালানির দামে নাটকীয় প্রভাব, আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে বিঘ্ন এবং ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনে বহু দেশের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও এটি আঞ্চলিকই রয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত রাশিয়া ও চীনের মতো সুপারপাওয়ার দেশগুলো সরাসরি যুদ্ধে জড়ায়নি। তবে খবর বেরিয়েছে যে রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য দিচ্ছে এবং চীন জিপিএসসহ প্রযুক্তিগত সুবিধা দিচ্ছে।

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে বিশ্লেষকদের সতর্কতা

ইরানে স্থল অভিযান পরিচালনা করা আফগানিস্তান বা ইরাকের মতো সহজ হবে না। কারণ দেশটির প্রাকৃতিক অবস্থান বিপৎসংকুল। যার চারপাশে পাহাড়, মরুভূমি ও সাগর দিয়ে পরিবেষ্টিত। এর মধ্যে দেশটিতে স্থল অভিযানে পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা হলে ইরানও দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে যেতে পারে।

ইউরোশিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট ইয়ান ব্রিমার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে সফল হলেও ইরান যুদ্ধের রাজনৈতিক ও কৌশলগত পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। যুদ্ধ দীর্ঘ হলে তা আঞ্চলিক সংঘর্ষকে বড় আকারে ছড়িয়ে দিতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিবিদ ও কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক জেফ্রি স্যাকস সতর্ক করে বলেছেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র স্থল অভিযান চালালে খুব সহজেই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরিণত হতে পারে, কারণ ইরানের পেছনে রাশিয়া বা অন্য শক্তির সমর্থন থাকতে পারে।

বাকিংহাম ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও ব্রিটিশ নিরাপত্তা বিশ্লেষক অ্যান্থনি গ্লিস বলেন, ইরানকে কেন্দ্র করে বড় যুদ্ধ শুরু হলে তা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সম্ভাব্য ‘ব্লুপ্রিন্ট’ হয়ে উঠতে পারে—বিশেষ করে যদি আঞ্চলিক মিত্র ও আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো এতে জড়িয়ে পড়ে।