খুঁজুন
শনিবার, ১১ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জুমার দিনে যে আমলগুলো বদলে দেয় জীবন জুমার দিনে মুমিনের করণীয়

মুফতি সাইফুল ইসলাম
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ
জুমার দিনে যে আমলগুলো বদলে দেয় জীবন জুমার দিনে মুমিনের করণীয়

জুমার দিনে যে আমলগুলো বদলে দেয় জীবন
জুমার দিন ইসলামে এক বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ দিন। এটি সাপ্তাহিক ঈদের দিন, যেদিন মুসলমানরা সম্মিলিতভাবে ইবাদত করে, আল্লাহর রহমত লাভের সুযোগ পায় এবং নিজেদের আত্মিক উন্নতির জন্য বিশেষ আমল করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দিনের জন্য কিছু সুন্নত ও আদব নির্ধারণ করে দিয়েছেন, যা অনুসরণ করলে দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ লাভ হয়।

জুমার দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো গোসল করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,

إِذَا جَاءَ أَحَدُكُمْ الْجُمُعَةَ فَلْيَغْتَسِلْ

‘তোমাদের মধ্যে কেউ জুমার সালাতে আসলে সে যেন গোসল করে।’ (বুখারী, হাদিস: ৮৭৭;)

গোসলের সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করাও সুন্নত। নখ কাটা, চুল পরিপাটি করা ইত্যাদি এই দিনের প্রস্তুতির অংশ। হাদীসে এসেছে,

“‏ غُسْلُ يَوْمِ الْجُمُعَةِ عَلَى كُلِّ مُحْتَلِمٍ وَسِوَاكٌ وَيَمَسُّ مِنَ الطِّيبِ مَا قَدَرَ عَلَيْه‏ “‏.

‘প্রত্যেক বালেগ ব্যক্তির ওপর জুমার দিনে গোসল করা, মিসওয়াক করা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী সুগন্ধি ব্যবহার করা আবশ্যক।’ (মুসলিম, হাদিস: ৮৪৬)

সুগন্ধি ব্যবহার করা জুমার দিনের একটি সুন্দর আমল। এটি শুধু ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার অংশ নয়, বরং অন্য মুসল্লিদের জন্যও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরি করে।

এ দিনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো উত্তম পোশাক পরিধান করা। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে আদম সন্তান! তোমরা প্রত্যেক সালাতের সময় তোমাদের সুন্দর পোশাক গ্রহণ কর।’
(সূরা আল-আ‘রাফ, আয়াত : ৩১) মুফাসসিরগণ বলেন, এই আয়াতের একটি প্রয়োগ হলো জুমা ও ঈদের দিনে সুন্দর পোশাক পরিধান করা।

জুমার দিনের বিশেষ আমলের মধ্যে সূরা আল-কাহফ তিলাওয়াত অন্যতম। রাসুল (সা.) বলেছেন,
‘যে ব্যক্তি জুমার দিন সূরা কাহফ তিলাওয়াত করবে, তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তী সময় আলোকিত হয়ে থাকবে।’ (আল-কুবরা (বাইহাকী), হাদিস: ৫৮৫৬; সহীহুল জামে‘, হাদিস: ৬৪৭০)

মসজিদে তাড়াতাড়ি যাওয়া জুমার দিনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। মহানবী (সা.) বলেছেন,
‘যে ব্যক্তি জুমার দিন প্রথম সময়ে মসজিদে যায়, সে যেন একটি উট কুরবানি করল, এরপর ক্রমান্বয়ে গরু, ছাগল, মুরগি ও ডিম দান করার সমান সওয়াব পায়।’ (সহীহ বুখারী, হাদিস: ৮৮১; সহীহ মুসলিম, হাদিস: ৮৫০)

মসজিদে গিয়ে মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আমল। রাসুল (সা.) বলেছেন,

إِذَا قُلْتَ لِصَاحِبِكَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ أَنْصِتْ وَالْإِمَامُ يَخْطُبُ فَقَدْ لَغَوْتَ.

‘জুমার দিন যখন তোমার পাশের মুসল্লিকে চুপ থাকতে বলবে, অথচ ইমাম খুৎবাহ দিচ্ছেন, তা হলে তুমি একটি অনর্থক কথা বললে।’ (সহীহ বুখারী, হাদিস: ৯৩৪)

খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা শুধু আদব নয়, বরং তা জুমার নামাজের পূর্ণ সওয়াব লাভের শর্তগুলোর একটি।

এ ছাড়া জুমার দিনে বেশি বেশি দরুদ শরীফ পড়ারও বিশেষ ফজিলত রয়েছে। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা জুমার দিনে আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো, কারণ তোমাদের দরুদ আমার কাছে পেশ করা হয়।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৭)

জুমার দিনের একটি বিশেষ মুহূর্ত আছে, যখন দোয়া কবুল হয়। আবূ হুরাইরাহ্ (রা.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (সা.) জুমার দিন সম্পর্কে আলোচনা করেন এবং বলেন, এ দিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, যে কোন মুসলিম বান্দা যদি এ সময় সালাতে দাঁড়িয়ে আল্লাহর নিকট কিছু প্রার্থনা করে, তবে তিনি তাকে অবশ্যই তা দিয়ে থাকেন এবং তিনি হাত দিয়ে ইঙ্গিত করে বুঝিয়ে দিলেন যে, সে মুহূর্তটি খুবই সংক্ষিপ্ত। (বুখারী, হাদিস: ৯৩৫)

এই সময়টি অধিকাংশ আলেমের মতে আসরের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত হতে পারে, তাই এই সময় দোয়া করা বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়।

মিসওয়াক করা জুমার দিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। এটি মুখকে পবিত্র করে এবং ইবাদতের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘মিসওয়াক মুখকে পবিত্র করে এবং রবকে সন্তুষ্ট করে।’ (সুনান নাসাঈ, হাদিস: ৫; সহীহুল জামে, হাদিস: ৩৬৯৫)

জুমার দিনের এই সুন্নাতগুলো শুধু কিছু আনুষ্ঠানিকতা নয়; এগুলো মানুষের ব্যক্তিত্ব, পরিচ্ছন্নতা, সামাজিক শৃঙ্খলা এবং আত্মিক উন্নয়নকে একত্রে গড়ে তোলে। যে ব্যক্তি এগুলো আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করে, সে শুধু একটি দিনের ইবাদতই সম্পন্ন করে না, বরং তার পুরো জীবনধারাকে সুন্দর ও পরিপূর্ণ করে তোলে।

লেখক: প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠকের আগে পাকিস্তানের নতুন ঘোষণা

সুন্দরবন নিউজ২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৩২ অপরাহ্ণ
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠকের আগে পাকিস্তানের নতুন ঘোষণা

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আসন্ন বৈঠকের আগে আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) থেকে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই দিনের স্থানীয় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ।

ইসলামাবাদ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গতকাল বুধবার রাতে প্রকাশিত এক নোটিশে এই ছুটি ঘোষণা করা হয়। তবে নোটিশে ছুটির কারণ উল্লেখ করা হয়নি। যদিও সাধারণত উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক কর্মসূচির আগে নিরাপত্তাজনিত কারণে ইসলামাবাদে প্রায়ই এ ধরনের ছুটি বা বিধিনিষেধ জারি করা হয়।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে পাকিস্তান।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই সপ্তাহান্তে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠেয় আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন।

যুদ্ধবিরতির পরও লেবাননে দফায় দফায় ইসরায়েলের হামলা

ইসলামাবাদের উপকমিশনার দপ্তর এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বৃহস্পতি ও শুক্রবারের এই ছুটি শুধু ইসলামাবাদ ক্যাপিটাল টেরিটরিতে কার্যকর থাকবে।

নোটিশে বলা হয়েছে, যেসব দপ্তর-সংস্থা জরুরি সেবা দিয়ে থাকে, সেগুলোর কার্যক্রম ছুটির সময়ও চালু থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে, পুলিশ, হাসপাতাল, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থা। পাশাপাশি নাগরিকদের নিজেদের কার্যক্রম সে অনুযায়ী সাজানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

হুমকি থেকে কেন যুদ্ধবিরতির পথে গেলেন ট্রাম্প

সুন্দরবন নিউজ২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:০৬ অপরাহ্ণ
হুমকি থেকে কেন যুদ্ধবিরতির পথে গেলেন ট্রাম্প

ইরানের ‘পুরো সভ্যতা ধ্বংস’ করে দেওয়ার হুমকির কয়েক ঘণ্টার মাথায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ট্রাম্পের এমন ইউটার্ন নেওয়ার নেপথ্যে আসলে কি ছিল বা কারা ছিল এবং কেন পিছু হটলেন ট্রাম্প—এমন সব প্রশ্নের উত্তর উঠে এসেছে বার্তাসংস্থা এপির বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে।

মঙ্গলবার রাতে নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র দেড় ঘণ্টা আগে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণার সঙ্গে এর যুক্তিও তুলে ধরেন তিনি।

ট্রাম্পের যুক্তি

তিনি লিখেছেন, ‘এটি হবে একটি দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধবিরতি। এর কারণ, আমরা ইতোমধ্যে সমস্ত সামরিক লক্ষ্য পূরণ করেছি এবং ইরানের সাথে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির বিষয়ে একটি চূড়ান্ত চুক্তির পথে আমরা অনেক দূর এগিয়েছি।’

এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প সম্ভবত একটি কঠিন সত্য উপলব্ধি করেছেন—ইরানের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া মানেই আরেকটি ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধে’ আটকা পড়া, যা থেকে তিনি সবসময় যুক্তরাষ্ট্রকে দূরে রাখতে চেয়েছিলেন।

পূর্বসুরিদের এ ধরনের যুদ্ধের কথা ট্রাম্প ইতোমধ্যে অনেকবার উল্লেখ করে কঠোর সমালোচনাও করেছেন।

নেপথ্যের কারিগর
ট্রাম্পের এই নাটকীয় পরিবর্তনের পেছনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে পাকিস্তান।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ট্রাম্পকে তার আলটিমেটাম দুই সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান এবং একইসঙ্গে ইরানকেও দুই সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার আহ্বান জানান। পর্দার আড়ালে থেকে চীনও এই যুদ্ধবিরতির জন্য কলকাঠি নেড়েছে বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই কর্মকর্তা।

পাকিস্তান

এ বিষয়ে অবগত ওই দুই কর্মকর্তা এপিকে বলেন, ‘ইরানের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রতিযোগী চীন যুদ্ধবিরতির একটি পথ খুঁজে বের করার জন্য নীরবে কলকাঠি নাড়ছিল।’

এছাড়া মার্কিন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের তীব্র নিন্দা এবং পোপ লিও চতুর্দশের সতর্কবার্তাও যুদ্ধবিরতির ক্ষেত্রে কিছুটা প্রভাব ফেলেছে বলে উল্লেখ করেছে এপি।

ডেমোক্র্যাটরা, ট্রাম্পের হুমকিকে নৈতিক ব্যর্থতা হিসেবে আখ্যা দেন। অন্যদিকে বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন উল্লেখ করে ট্রাম্পের মন্তব্যকে অগ্রহণযোগ্য বলেন পোপ লিও।

হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণে চড়া মূল্য
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন সামরিক বাহিনী খুব দ্রুত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলেও সেটি ধরে রাখা হতো অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং দীর্ঘমেয়াদী একটি ঝুঁকি।

যুদ্ধ-সংঘাত সংক্রান্ত মার্কিন গবেষণা সংস্থা ‘ব্যাটল রিসার্চ গ্রুপের’ নির্বাহী পরিচালক ও মেরিনের অবসরপ্রাপ্ত গোয়েন্দা কর্মকর্তা বেন কোনাবল এপিকে বলেন, ‘ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আটকাতে হলে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার ভূখণ্ড দখল করে রাখতে হতো যুক্তরাষ্ট্রকে। আর এর জন্য অন্তত ৩০ থেকে ৪৫ হাজার মার্কিন সেনার প্রয়োজন পড়ত।’

হরমুজ

বেন কোনাবলের মতে, এ যুদ্ধ আফগানিস্তান বা ভিয়েতনামের মতো ২০ বছরের একটি অনির্দিষ্টকালীন মিশনে পরিণত হতে পারত।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ভাবিনি যে ২০ বছর আফগানিস্তানে থাকব। আমরা ভাবিনি যে, ভিয়েতনামে এত দীর্ঘ সময় থাকতে হবে বা ইরাকে। সুতরাং ভাবুন এবং ২০ বছর ধরে এই যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকুন।’

ট্রাম্পের ‘ভুল’ ধারণার উপলদ্ধি
ট্রাম্পের ধারণা ছিল, বোমা হামলা চালিয়ে ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে পারবেন তিনি। কিন্তু ছয় সপ্তাহ পার হওয়ার পরও যখন ইরান তার অবস্থানে অটল, তখন তার ধারণা যে ‘ভুল’ সেটা কিছুটা উপলদ্ধি করতে পেরেছেন ট্রাম্প।

আন্তর্জাতিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হওয়া স্বত্বেও ১৯৭৯ সালে ৪৪৪ দিন মার্কিন নাগরিকদের জিম্মি করে রাখা, বছরের পর বছর ধরে ধ্বংসাত্মক ইরান-ইরাক যুদ্ধ চলতে দেওয়া, ৭ অক্টোবর হামলার পরও হামাসের পাশে থাকা—এমন দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতে জড়ানোর দৃষ্টান্ত রয়েছে ইরানের।

এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধের প্রথম দিনই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পরও ইরানের নেতৃত্ব একটি দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পথ বেছে নিতে পারে—এমন সম্ভাবনাকে উপেক্ষা করেছিলেন ট্রাম্প।

ইরান

ছয় সপ্তাহের সংঘাতে ইরানের নেতৃত্বের বড় অংশ বিধ্বস্ত ও অস্ত্র দুর্বল হওয়া সত্ত্বেও তারা শক্তিশালী মার্কিন সামরিক বাহিনীকে পরাজিত করতে না পারলেও একটি ব্যয়বহুল ও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে জড়িয়ে ফেলতে পারবে— এমন আত্মবিশ্বাসে ভরপুর ছিল তেহরান।

এমনকি নিজেদের স্বার্থবিরোধী হলেও ইরান টিকে থাকার লড়াইয়ে এতোটা অনড় থাকবে—এমন ধারণা ট্রাম্পের ছিল না।

ট্রাম্পের ‘পিছু হটার’ পুরনো অভ্যাস
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের একটি পরিচিত কৌশল হলো—তিনি প্রথমে আকাশচুম্বী চাহিদা বা চরম হুমকি দেবেন এবং পরে আলোচনার টেবিলে কিছুটা নমনীয় হন।

এর আগে গ্রিনল্যান্ড দখল বা ইউরোপের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রেও একই ধরনের নাটকীয় অবস্থান পরিবর্তন করেছিলেন ট্রাম্প।

ট্রাম্প

‘দুই সপ্তাহ’ যখন ট্রাম্পের প্রিয় সময়সীমা
এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ‘দুই সপ্তাহ’ ট্রাম্পের প্রিয় সময়সীমা হয়ে উঠেছে।

এর আগে ইরানের বিরুদ্ধে প্রাথমিক বোমা হামলা চালানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে দুই সপ্তাহ সময় নিয়েছিলেন ট্রাম্প।

রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের যুদ্ধ শেষ করার আলোচনার সময় এবং এমনকি প্রথম মেয়াদের সময় থেকেও ট্রাম্প বারবার দুই সপ্তাহের সময়সীমা নির্ধারণ করেছেন, যা শেষ পর্যন্ত খুব সামান্যই ফলপ্রসূ হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে ৯৫ শতাংশ মার্কিন সেনা অবকাঠামো ধ্বংসের দাবি ইরানি গণমাধ্যমের

সুন্দরবন নিউজ২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:১৮ অপরাহ্ণ
মধ্যপ্রাচ্যে ৯৫ শতাংশ মার্কিন সেনা অবকাঠামো ধ্বংসের দাবি ইরানি গণমাধ্যমের

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম তাসনিম নিউজ একটি প্রতিবেদনে দাবি করেছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক সম্পদের একটি বড় অংশ ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ অঞ্চলের ৯৫ শতাংশ মার্কিন সেনার অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ঘাঁটি, যুদ্ধবিমান, ড্রোন এবং সম্পর্কিত অবকাঠামো।