খুঁজুন
শুক্রবার, ৩রা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২০শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শুক্রবার কেনো সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন!

সুন্দরবন নিউজ২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:২১ পূর্বাহ্ণ
শুক্রবার কেনো সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন!

জুমার দিন বা জুমাবার বা শুক্রবার সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন। ইসলামে এ দিনটির মর্যাদা ও তাৎপর্য অনেক।
উল্লেখ্য, বিশেষ ফজিলতের কারণে জুমার দিনকে সাপ্তাহিক ঈদের দিন এবং সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন বলা হয়ে থাকে।

জুমার দিনের ফজিলত সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য হাদিস গ্রন্থগুলোতে একাধিক হাদিস বর্ণিত হয়েছে।
যেমন-

বিশ্বনবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিঃসন্দেহে জুমার দিন সেরা দিন ও আল্লাহর কাছে সর্বোত্তম দিন। আল্লাহর কাছে তা ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিনের চেয়েও উত্তম। (ইবনে মাজাহ)

অন্য হাদিসে আছে, যেসব দিনে সূর্য উদিত হয়েছে এরমধ্যে সর্বোত্তম হলো জুমার দিন। জুমার দিনকে মুসলমানদের সাপ্তাহিক ঈদের দিন হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

জুমার ফজিলত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, এক জুমা থেকে অপর জুমা উভয়ের মাঝে (গুনাহের জন্য) কাফফারা হয়ে যায়, যদি কবিরা গুনাহের সঙ্গে সম্পৃক্ত না হয়ে থাকে। (মুসলিম)

জুমার দিন সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মনে রাখবে সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন পবিত্র জুমাবার। জুমার নামাজ আদায়ে রয়েছে অশেষ কল্যাণ।

জুমার নামাজ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা.) আরো বলেছেন, যে ব্যক্তি বিনা কারণে ৩ জুমার নামাজে যাওয়ায় অবহেলা করে সে যেন ইসলামকে অবজ্ঞা করল এবং তার হৃদয়ে মরিচা পড়ে যায়।

জুমার দিনে মুসলমান ধনী-দরিদ্র, উচু-নীচু, ছোট-বড় সবাই একই কাতারে দাঁড়িয়ে জুমার নামাজ আদায় করে। কেন না মহান আল্লাহ তাআলা জুমার নামাজ আমাদের ওপর অপরিহার্য করেছেন।

সুতরাং জুমার নামাজ মুসলিম উম্মাহর জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদাত। আর জুমার দিনের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য অন্যান্য দিনের চেয়ে অনেকগুণ বেশি।

লিটানি নদী পর্যন্ত লেবাননের ১০ শতাংশ ভূখণ্ড দখলের হুমকি ইসরায়েলের

সুন্দরবন নিউজ২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ৫:২৫ অপরাহ্ণ
লিটানি নদী পর্যন্ত লেবাননের ১০ শতাংশ ভূখণ্ড দখলের হুমকি ইসরায়েলের

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে লেবাননের সার্বভৌমত্বের ওপর এক বড় ধরনের আগ্রাসনের হুমকি দিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ইসরায়েল সীমান্ত থেকে শুরু করে লেবাননের অভ্যন্তরে অবস্থিত লিটানি নদী পর্যন্ত পুরো অঞ্চলটি সামরিকভাবে দখল করার পরিকল্পনা করছে তারা। এই বিশাল ভূখণ্ডটি আয়তনে সমগ্র লেবাননের প্রায় ১০ শতাংশের সমান। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং হিজবুল্লাহর তৎপরতা বন্ধ করতে সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত সব ঘরবাড়ি মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হবে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, তাদের চলমান সামরিক অভিযানের কারণে সীমান্ত অঞ্চল থেকে বাস্তুচ্যুত হওয়া অন্তত ৬ লাখ লেবানিজ নাগরিক নিকট ভবিষ্যতে তাঁদের নিজ ঘরবাড়িতে ফিরতে পারবেন না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলের নিরাপত্তা পুরোপুরি নিশ্চিত না হচ্ছে এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় হিজবুল্লাহর উপস্থিতির অবসান না ঘটছে, ততক্ষণ এই পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকবে। ইসরায়েলের এই কঠোর অবস্থান মূলত লেবাননের দক্ষিণ সীমান্তে একটি বিশাল ‘বাফার জোন’ তৈরির দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনাকেই ইঙ্গিত করছে।

বর্তমান এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছিল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে এক ভয়াবহ বিমান হামলা চালায়। সেই ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পর থেকে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইরানের পক্ষ নিয়ে ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে নিয়মিত মিসাইল ও রকেট হামলা চালিয়ে যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করে। হিজবুল্লাহর এই পাল্টা আক্রমণের মুখে ইসরায়েল তাদের সীমান্ত এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

এদিকে, মাঠ পর্যায়ের লড়াইয়ে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। গত সোমবার দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর যোদ্ধাদের সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে ইসরায়েলের চারজন সেনা নিহত হয়েছেন এবং অন্তত দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহত চার সেনার মধ্যে তিনজনের পরিচয় প্রকাশ করেছে আইডিএফ। তাঁরা হলেন— ক্যাপ্টেন নোম মাদমোনি (২২), স্টাফ সার্জেন্ট বেন কোহেন (২১) এবং স্টাফ সার্জেন্ট ম্যাস্কিম এনটিস (২১)। নিহত অপর সেনার পরিচয় ও পদবি পরবর্তীতে জানানো হবে বলে সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনাদের এই প্রাণহানি এবং লিটানি নদী পর্যন্ত ভূখণ্ড দখলের হুমকি পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসরায়েল যদি সত্যিই লিটানি নদী পর্যন্ত অঞ্চলটি দখল করে নেয় এবং জনবসতি ধ্বংস করে দেয়, তবে তা এই অঞ্চলে এক দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের জন্ম দিতে পারে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষের বাস্তুচ্যুতি এবং ঘরবাড়ি ধ্বংসের এই হুমকিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক নজিরবিহীন মানবিক ও ভূ-রাজনৈতিক সংকটের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে।

সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানো নিয়ে কি ভাবছে সরকার

সুন্দরবন নিউজ২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ৫:০২ অপরাহ্ণ
সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানো নিয়ে কি ভাবছে সরকার

ইরানে চালানো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসনের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এজন্য জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানো, কর্মকর্তাদের জন্য ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা ঘরে বসে কাজ করার সুযোগ এবং অফিসের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনার কথা ভাবছে সরকার।

জ্বালানি সাশ্রয়ে কমপক্ষে আটটি পদক্ষেপ আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে সাপ্তাহিক ছুটিতে বাড়তি একদিন যোগ করা অথবা কর্মকর্তাদের সপ্তাহে দুদিন ঘরে বসে কাজ করার সুযোগ দেওয়া। এছাড়া অফিসের কাজ দ্রুত শুরু করা অথবা কাজের মোট সময় কমিয়ে আনার প্রস্তাবও রয়েছে। বিদ্যুৎ খরচ কমাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সপ্তাহের অর্ধেক ক্লাশ অনলাইনে নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা

এমন পরিস্থিতিতে দেশে জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে শিগগিরই সারা দেশের স্কুলগুলোতে সশরীরের পাশাপাশি অনলাইনেও ক্লাশের ব্যাপারে করছে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

কর্মকর্তারা জানান, জ্বালানি সাশ্রয়ে কমপক্ষে আটটি পদক্ষেপ আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে সাপ্তাহিক ছুটিতে বাড়তি একদিন যোগ করা অথবা কর্মকর্তাদের সপ্তাহে দুদিন ঘরে বসে কাজ করার সুযোগ দেওয়া। এছাড়া অফিসের কাজ দ্রুত শুরু করা অথবা কাজের মোট সময় কমিয়ে আনার প্রস্তাবও রয়েছে। বিদ্যুৎ খরচ কমাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সপ্তাহের অর্ধেক ক্লাশ অনলাইনে নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।

তারা আরও জানান, তবে এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। মন্ত্রিসভায় ঠিক করা হবে কোন পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা হবে।

আজ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেন, আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হবে।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, এখন থেকে সপ্তাহে ৬ দিন ক্লাশ খোলা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। আর দেশের মেট্রোপলিটন এলাকায় অনলাইন ক্লাশের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার দীর্ঘসূত্রতা, বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে পরীক্ষার্থীদের ক্লাশ ও পরীক্ষা শেষ করলেও শিক্ষা বোর্ডগুলো এই দুটি পাবলিক পরীক্ষা সেই বছরের ডিসেম্বরে না নিয়ে পরবর্তী বছরের এপ্রিল ও জুনে নিয়ে থাকে। এ কারণে শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে, যা জাতীয় পর্যায়ে বড় ধরনের ক্ষতির কারণ।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী।

সুয়েজ খালের পর হরমুজ প্রণালি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের মতোই কী শেষ হচ্ছে আমেরিকার মোড়লগিরি?

সুন্দরবন নিউজ২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ৯:৫৭ পূর্বাহ্ণ
সুয়েজ খালের পর হরমুজ প্রণালি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের মতোই কী শেষ হচ্ছে আমেরিকার মোড়লগিরি?

সুয়েজ খালকে ঘিরে একসময় যেভাবে পতন ঘটেছিলো ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের, তেমনি এবার হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে কী শেষ হবে আমেরিকার মোড়লগিরি? বিশ্ব বাণিজ্য ও তেলের সরবরাহের এই গুরুত্বপূর্ণ পথের নিয়ন্ত্রণ এখন ইরানের হাতে থাকায় কমে গেছে আমেরিকার গুরুত্ব।
এরইমধ্যে, হরমুজ প্রণালি পরিচালনা ও টোল আদায়ের জন্য ‘নতুন ব্যবস্থা’ চালুর কথা ভাবছে ইরান। নয়া ব্যবস্থায় ইরানের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ ওই প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে পারবে না, দিতে হবে টোল। তাহলে কি সত্যিই পতন ঘটছে আমেরিকার মোড়লগিরির?

একসময়কার প্রতাপশালী বৃটিশ সাম্রাজ্যের পতন ঘটেছিলো সুয়েজ খালের জন্য! একইভাবে হরমুজ প্রণালী কি বিশ্বজুড়ে আমেরিকার মোড়লগিড়ির পতন ঘটাতে পারে? আজ একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, হরমুজ প্রণালী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক আধিপত্য বা ‘হেজেমনি’র জন্য একই রকম একটি ‘সুয়েজ মুহূর্ত’ বা Suez Moment হয়ে দাঁড়িয়েছে।

১৯৫৬ সালের সুয়েজ সংকট ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের কফিনে শেষ পেরেক। মিশরের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জামাল আবদেল নাসের যখন সুয়েজ খাল জাতীয়করণ করেন, তখন ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং ইসরাইল সামরিক শক্তি দিয়ে তা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়নের হুমকি এবং খোদ যুক্তরাষ্ট্রের অসহযোগিতার মুখে ব্রিটেনকে অপমানজনকভাবে পিছু হটতে হয়। এই ঘটনাই বিশ্বকে জানিয়ে দিয়েছিল যে, ব্রিটেনের আধিপত্যের দিন শেষ।

বর্তমানে পারস্য উপসাগরের প্রবেশদ্বার ‘হরমুজ প্রণালী’কে কেন্দ্র করে ঠিক একই রকম একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একক পরাশক্তি হিসেবে টিকে থাকার পথে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইস্তাম্বুলের জাউম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলাম অ্যান্ড গ্লোবাল অ্যাফেয়ারস বিভাগের পরিচালক সামি আল আরিয়ান মিডেল ইস্ট আই-কে দেয়া এক মতামতে বলেন, সুয়েজ যেমন ব্রিটেনের পতনের ঘণ্টা বাজিয়েছিল, হরমুজও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একই পরিণতি বয়ে আনতে পারে।

বাংলাভিশনের গুগল নিউজ ফলো করতে ক্লিক করুন
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী এই জলপথটি বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্ব অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়বে, যার প্রভাব ইতমধ্যেই দেখতে পাচ্ছে বিশ্ব। মডার্ন ডিপ্লোম্যাসি-র বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী বর্তমান বিশ্বের নতুন ‘সুয়েজ মুহূর্ত’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র দশকের পর দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যে নিজের সামরিক উপস্থিতির মাধ্যমে এই অঞ্চলের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছিল। কিন্তু ইরান এখন এই অঞ্চলে এক শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

পলিসি ম্যাগাজিন-এর একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সুয়েজ সংকটের সময় ব্রিটেন বুঝতে পারেনি যে শক্তির ভারসাম্য লন্ডন থেকে সরে ওয়াশিংটনের দিকে চলে গেছে। একইভাবে ওয়াশিংটনও হয়তো বুঝতে পারছে না যে বিশ্ব এখন বহুমুখী বা Multipolar হয়ে উঠছে। চীন, রাশিয়া এবং ইরানের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন একচ্ছত্র আধিপত্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করছে।

সুয়েজ সংকটের সময় ব্রিটেন তার অর্থনৈতিক সক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী ছিল। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রও বিশাল ঋণের বোঝা এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজনে জর্জরিত। লোহিত সাগর এবং হরমুজ প্রণালীতে হুতি বিদ্রোহী বা ইরানের প্রভাব মোকাবিলা করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো বড় ধরনের সামরিক পরাজয় বা কৌশলগত বাধার সম্মুখীন হয়, তবে তা হবে তাদের বৈশ্বিক নেতৃত্বের অবসানের সংকেত।

ইতিহাস পুনরাবৃত্তি করে, তবে ভিন্ন রূপে। সুয়েজ খাল ব্রিটেনের জন্য ছিল আত্মমর্যাদার লড়াই, যেখানে তারা পরাজিত হয়েছিল। হরমুজ প্রণালী যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কেবল তেলের সরবরাহ নয়, বরং তাদের ডলারের আধিপত্য এবং সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের পরীক্ষা। যদি যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে নিজের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়, তবে হরমুজ হবে মার্কিন সাম্রাজ্যের পতনের এক ঐতিহাসিক মাইলফলক।

অনেক বিশ্লেষকের মতে, বিশ্বের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু এখন পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে সরে যাচ্ছে, আর হরমুজ প্রণালী এই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে। এখন দেখার বিষয়, ওয়াশিংটন কি ইতিহাসের শিক্ষা গ্রহণ করবে, নাকি লন্ডনের মতোই এক অনিবার্য পতনের দিকে এগিয়ে যাবে।