খুঁজুন
রবিবার, ২৯শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৫ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মধ্যপ্রাচ্যের সব মার্কিন ঘাঁটি ধ্বংস!

সুন্দরবন নিউজ২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬, ৯:৪২ অপরাহ্ণ
মধ্যপ্রাচ্যের সব মার্কিন ঘাঁটি ধ্বংস!

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি সামরিক ঘাঁটির সবগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। সফলতার সঙ্গে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুলফজল শেখারচি।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) এক সাক্ষাৎকারে সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুলফজল শেখারচি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। খবর মেহের নিউজ।

সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের মুখপাত্র তিনি বলেন, ‘পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের ১৭টি ঘাঁটি স্থাপন করেছিল এবং ১৭টি ঘাঁটিই এখন পর্যন্ত ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী ধ্বংস করে দিয়েছে। আমেরিকানরা তাদের ঘাঁটি ও সেনাবাহিনী রক্ষা করতে পারেনি।’

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে শেখারচি বলেন, ‘ওই যুদ্ধের পর ইরানের প্রতিরক্ষামূলক পরিবর্তিত নীতি অনুযায়ী গত ৪৭ বছরে ইরান কোনো দেশকে আক্রমণ করেনি এবং ভবিষ্যতেও অন্য দেশে আগ্রাসন চালাবে না। ইরানের আক্রমণাত্মক নীতির অর্থ হলো, যদি কোনো দেশ আমাদের ওপর হামলা চালায়, আমরা পাল্টা আঘাত করব যতক্ষণ না তা ধ্বংস হয় এবং আমরা তাদের ছেড়ে দেব না।’

হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর এই মুখপাত্র বলেন, ‘যুদ্ধ শেষ হলেও হরমুজ প্রণালি আর আগের মত হবে না। দেশগুলোকে আমাদের নির্ধারিত শর্ত মেনে চলতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তা দেয়ার মিথ্যা দাবিতে যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক দেশগুলোর কাছে সামরিক অস্ত্র ও সরঞ্জাম বিক্রি করেছে। ওই দেশগুলোর অর্থায়নে সেখানে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেছে।

শেখারচি আঞ্চলিক মুসলিম দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীকে আশ্রয় দেওয়া বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের সক্ষমতা প্রতিদিনই আরও শক্তিশালী হচ্ছে। আমরা আমাদের সামরিক ব্যবস্থা ক্রমাগত উন্নত করছি, যাতে যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা যায়।’

শারীরিক সম্পর্কের বিনিময়ে নারী এমপিদের মন্ত্রিত্ব দেওয়ার অভিযোগ মোদির বিরুদ্ধে

সুন্দরবন নিউজ২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ৯:৪৯ অপরাহ্ণ
শারীরিক সম্পর্কের বিনিময়ে নারী এমপিদের মন্ত্রিত্ব দেওয়ার অভিযোগ মোদির বিরুদ্ধে

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে।

একাধিক নারী এমপিকে শারীরিক সম্পর্কের বিনিময়ে মন্ত্রিপদ দেওয়ার অভিযোগ সামনে এনে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বিজেপি নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামী।

প্রধানমন্ত্রী কোনো কোনো এমপিকে শারীরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে মন্ত্রী করেছেন- সেই নামগুলি হিন্দুত্ববাদী মহলের অনেকেরই জানা। এমনকি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী এবং এস জয়শঙ্করের নাম উল্লেখ করে তিনি ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন, তাদের মন্ত্রী হওয়ার পেছনেও ‘বিশেষ পরিষেবার’ কথা শোনা গিয়েছিল।

সেই মন্তব্যকে সমর্থন করে আরও চাঞ্চল্য বাড়িয়েছেন হিন্দুত্ববাদী লেখিকা মধুপূর্ণিমা কিশওয়ার।
সম্প্রতি একটি পডকাস্টে আন্তর্জাতিক বিতর্কিত ব্যক্তি জেফ্রি এপস্টেইনের প্রসঙ্গ তুলতে গিয়ে সুব্রহ্মণ্যম স্বামী দাবি করেন, ভারতে আরও বড় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দিকে নজর দেওয়া উচিত। তার অভিযোগ, দেশের প্রধানমন্ত্রী শারীরিক সম্পর্কের বিনিময়ে একাধিক নারীকে এমপি ও মন্ত্রী করেছেন। এ বিষয়টি নিয়ে গভীর তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

স্বামীর এ বক্তব্য সামনে আসার পরই সামাজিক মাধ্যমে দীর্ঘ পোস্ট করে মধুপূর্ণিমা কিশওয়ার একই সুরে কথা বলেন।

মধুপূর্ণিমা কিশওয়ার দীর্ঘদিন ধরে হিন্দুত্ববাদী মতাদর্শের সমর্থক হিসেবে পরিচিত। এক সময় তিনি মোদির ঘনিষ্ঠ হিসেবেও বিবেচিত হতেন। এমনকি তিনি মোদিকে জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গেও তুলনা করেছিলেন। ফলে তার এ হঠাৎ অবস্থান পরিবর্তন রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এতো গুরুতর অভিযোগের পক্ষে এখনো পর্যন্ত কোনো প্রমাণ সামনে আনতে পারেননি কিশওয়ার বা স্বামী— এই বিষয়টিও সমানভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

তার দাবি, প্রধানমন্ত্রী কোনো কোনো এমপিকে শারীরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে মন্ত্রী করেছেন- সেই নামগুলি হিন্দুত্ববাদী মহলের অনেকেরই জানা। এমনকি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী এবং এস জয়শঙ্করের নাম উল্লেখ করে তিনি ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন, তাদের মন্ত্রী হওয়ার পেছনেও ‘বিশেষ পরিষেবার’ কথা শোনা গিয়েছিল।

এখানেই থেমে থাকেননি কিশওয়ার। তিনি সাবেক শিক্ষামন্ত্রী স্মৃতি ইরানির নাম উল্লেখ করে প্রশ্ন তোলেন। কীভাবে তিনি মন্ত্রী হলেন- তা নিয়ে নানা গল্প প্রচলিত থাকলেও সেসব বিষয় জনসমক্ষে আসেনি।

কিশওয়ারের দাবি, ২০১৪ সালে বিদেশ সফরের সময়ও তিনি প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা বিতর্কিত কথা শুনেছেন।

জানা যায়, মধুপূর্ণিমা কিশওয়ার দীর্ঘদিন ধরে হিন্দুত্ববাদী মতাদর্শের সমর্থক হিসেবে পরিচিত। এক সময় তিনি মোদির ঘনিষ্ঠ হিসেবেও বিবেচিত হতেন। এমনকি তিনি মোদিকে জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গেও তুলনা করেছিলেন। ফলে তার এ হঠাৎ অবস্থান পরিবর্তন রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এতো গুরুতর অভিযোগের পক্ষে এখনো পর্যন্ত কোনো প্রমাণ সামনে আনতে পারেননি কিশওয়ার বা স্বামী— এই বিষয়টিও সমানভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

এদিকে সর্বভারতীয় সংবাদ সংস্থা সূত্রে জানা যাচ্ছে, এ মন্তব্যগুলি প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হলেও সরকার বা শাসকদলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। বিরোধী শিবিরের পক্ষে বিষয়টি নিয়ে সরব হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

সমগ্র ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে। এটি কি শুধুই ব্যক্তিগত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ, নাকি এর পেছনে আরও বড় কোনো ইঙ্গিত লুকিয়ে রয়েছে। যদিও প্রমাণ ছাড়া এ ধরনের অভিযোগ কতটা গ্রহণযোগ্য, তা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

পে-স্কেল: ১১ জুনের দিকে তাকিয়ে সরকারি

সুন্দরবন নিউজ২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬, ১০:৩৯ অপরাহ্ণ
পে-স্কেল: ১১ জুনের দিকে তাকিয়ে সরকারি

২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতেই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো সরকারি পে-স্কেলের পর্যালোচনা ও সুপারিশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ। তবে বিএনপি সরকার গঠিত হওয়ার পর এখনো এ বিষয়ে কোনো পরিষ্কার ঘোষণা না আসায় সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি ধরনের অস্পষ্টতা দেখা দিয়েছে।

এদিকে পে-স্কেলের অর্থায়নকৃত প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার অর্থ অন্য খাতে ব্যয় হওয়ার খবর প্রকাশ পেলে সরকারি কর্মচারীদের ক্ষোভ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে ইরানকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত বৈশ্বিক উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সব কিছু মিলিয়ে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দৃষ্টি এখন মূলত আগামী অর্থবছরের বাজেটের দিকে নিবদ্ধ।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানিয়েছেন, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট ১১ জুন (বৃহস্পতিবার) বিকাল ৩টায় জাতীয় সংসদে পেশ করা হবে। এটি বিএনপি সরকারের অধীনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রথম বাজেট। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রায় ৯ লাখ কোটি টাকার একটি বিস্তৃত বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে। নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাজেটে দারিদ্র্য কমানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টিকরণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সরকারি চাকরিজীবীরা এখন আলোচনায় রয়েছেন— পে-স্কেলের সুপারিশ কি এ বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হবে, তা নিয়ে এখনো নিশ্চয়তা নেই। অনিশ্চয়তা এবং প্রত্যাশার এ মিলিত পরিবেশে, সরকারি কর্মচারীদের নজর বাজেট ঘোষণার দিকে সর্বাধিক নিবদ্ধ।

সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রশাসনের ভেতরে চাপা অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতে অস্থিরতায় রূপ নেবে— এমন শঙ্কাও প্রকাশ করেছেন অনেকে। জানা গেছে, পে-স্কেল সংক্রান্ত ইস্যুতে সচিবালয়সহ বিভিন্ন সরকারি দফতরে কর্মসূচি ও আন্দোলনের ঘোষণা আসতে পারে। এতে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বিশৃঙ্খলার সম্ভাবনা বেড়ে যাচ্ছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক পরিপ্রেক্ষিত ও বৈশ্বিক চাপ মোকাবিলায় সরকার জটিল পরিস্থিতির মুখে রয়েছে; এই অবস্থায় নতুন কোনো আন্দোলন শুরু হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পে-স্কেলের জন্য বরাদ্দকৃত ৪০ হাজার কোটি টাকার একটি বড় অংশ ফ্যামিলি কার্ড ও জ্বালানি তেলের ভর্তুকিতে ব্যয় হয়েছে।

বর্তমানে মূল্যস্ফীতির চাপ এবং মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে সরকারের ওপর চরম অর্থনৈতিক চাপ রয়েছে। ফলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রস্তাবিত নবম পে-স্কেল একবারে বাস্তবায়ন করা কতখানি সম্ভব হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, সরকারি চাকরিজীবীদের এ নতুন বেতন কাঠামো এখনই পুরোপুরি দেওয়া সম্ভব নয়; বরং এটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন হতে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য সরকার পে-স্কেল ইস্যুটি রিভিউ করার ঘোষণাও দিয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ইতোমধ্যে জানান, পে-স্কেলের সুপারিশ না দেখে কিছু বলা যাবে না। মোট কত টাকা লাগবে, তা দেখতে হবে। এটা কতটুকু বাস্তবায়ন করা সম্ভব, তা দেখতে হবে। বর্তমানে দেশের ট্যাক্স রেভিনিউ, ট্যাক্স জিডিপি রেশিও সবচেয়ে খারাপ। এমনকি দক্ষিণ এশিয়াতেও সবচেয়ে খারাপ। এসব দেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, কখন কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়। এগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহবায়ক আব্দুল মালেক বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের বাজেট বর্তমান সরকার অন্য খাতে ব্যয় করতেই পারে। তবে আগামী বাজেটে যেন পে-স্কেলের বরাদ্দ রাখে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে সম্ভব না হলেও জুলাই থেকে যেন হয়।

তিনি আরও বলেন, বড় আন্দোলন না হলেও সরকারি কর্মচারীদের অভ্যন্তরীণ স্মারকলিপি, অবস্থানের মতো কর্মসূচি থাকবে। এভাবে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করবেন তারা। বাজেটের দিকেও সবার নজর থাকবে।

মরক্কান ইহুদি পরমাণু বিজ্ঞানী ইসরায়েলের গোপন পারমাণবিক তথ্য ফাঁস

সুন্দরবন নিউজ২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬, ৪:৫৫ অপরাহ্ণ
মরক্কান ইহুদি পরমাণু বিজ্ঞানী ইসরায়েলের গোপন পারমাণবিক তথ্য ফাঁস

মোরদেকাই ভানুনু, ইসরায়েলের গোপন পারমাণবিক কর্মসূচি বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা এক শান্তিকামী সাহসী বীরের নাম। মরক্কান বংশোদ্ভূত এই ইহুদি ১৯৭৭ সালে ইসরায়েলের নেগেভ নিউক্লিয়ার রিসার্চ সেন্টার (ডিমোনা প্ল্যান্ট)-এ টেকনিশিয়ান হিসেবে যোগ দেন।

প্রায় ৯ বছর কাজ করার সময় তিনি প্রত্যক্ষ করেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের আড়ালে সেখানে গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা হচ্ছে। ধীরে ধীরে তিনি উপলব্ধি করেন, ইসরায়েল ইতোমধ্যেই ১০০ থেকে ২০০টি পারমাণবিক বোমা তৈরি করেছে, যা দেশটিকে বিশ্বের অন্যতম পারমাণবিক শক্তিতে পরিণত করেছে।

১৯৮২ সালে লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সময় তাকে রিজার্ভ সেনা হিসেবে যোগ দিতে বলা হয়। তিনি সরাসরি যুদ্ধ করতে অস্বীকৃতি জানান। ইসরায়েলে কাউকে সেনাবাহিনী ডাকলে সেখানে যাওয়া বাধ্যতামূলক।

ভানুনু পেশায় প্রকৌশলী হলেও তাকে যুদ্ধে রান্নাঘরে দায়িত্ব পালন করান। শান্তিকামী আদর্শে বিশ্বাসী ভানুনু পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেন, ইসরায়েলের গোপন পারমাণবিক কর্মসূচির তথ্য বিশ্ববাসীর সামনে প্রকাশ করবেন।

১৯৮৫ সালে চাকরি হারানোর আগে তিনি ডিমোনা প্ল্যান্টের ভেতরে গোপনে শত শত ছবি ধারণ করেন। কঠোর নিরাপত্তা ভেঙে কখনো মোজার ভেতরে ফিল্ম লুকিয়ে, কখনো গভীর রাতে তিনি এসব ছবি সংগ্রহ করেন।

পরবর্তীতে বিভিন্ন দেশ ভ্রমণের সময় ১৯৮৬ সালে অস্ট্রেলিয়ায় ব্রিটিশ সাংবাদিক পিটার হাউন্যাম-এর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তার দেওয়া তথ্য ও ছবি যাচাইয়ের জন্য তাকে লন্ডনের সানডে টাইমস অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে বিস্তারিত সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশের প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

তবে এরই মধ্যে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ তার ওপর নজরদারি শুরু করে। লন্ডনে অবস্থানকালে ‘সিন্ডি’ নামে এক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে ভানুনুর। পরে জানা যায়, তিনি আসলে মোসাদের এজেন্ট চেরিল বেনটভ।

তার ফাঁদে পড়ে ইতালির রোমে গেলে ভানুনুকে ড্রাগ দিয়ে অজ্ঞান করে অপহরণ করা হয় এবং গোপনে ইসরায়েলে নিয়ে যাওয়া হয়। এক মাস নিখোঁজ থাকার পর ইসরায়েল সরকার তাকে নিজেদের হেফাজতে থাকার কথা স্বীকার করে এবং রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনে।

পরবর্তীতে আদালত তাকে ১৮ বছরের কারাদণ্ড দেয়। এর মধ্যে ১১ বছর তিনি কাটান সম্পূর্ণ নিঃসঙ্গ কারাবাসে। ২০০৪ সালে মুক্তি পেলেও তার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়— দেশ ত্যাগ, গণমাধ্যমে কথা বলা এবং বিদেশিদের সঙ্গে যোগাযোগে সীমাবদ্ধতা দেওয়া হয়।