খুঁজুন
শুক্রবার, ২০শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গাজায় ‘তাৎক্ষণিকভাবে’ যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের ঘোষিত ২০ দফা পরিকল্পনায় কী আছে

সুন্দরবন নিউজ২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ২:০৮ অপরাহ্ণ
গাজায় ‘তাৎক্ষণিকভাবে’ যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের ঘোষিত ২০ দফা পরিকল্পনায় কী আছে

গাজায় যুদ্ধ বন্ধ করতে ঐতিহাসিক পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে হোয়াইট হাউস। এই পরিকল্পনা নিয়ে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এরপরই পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়। এই পরিকল্পনায় আছে ২০ দফা প্রস্তাব। বলা হয়েছে, এই প্রস্তাব মেনে নিলে ইসরাইল তাৎক্ষণিকভাবে যুদ্ধ বন্ধ করতে পারে। হোয়াইট হাউস থেকে বলা হয়েছে, যদি ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের যোদ্ধাগোষ্ঠী হামাস প্রস্তাব মেনে নেয়, তবে যুদ্ধ মুহূর্তের মধ্যেই থেমে যাবে। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের এ পরিকল্পনা মেনে নিয়েছেন। তবে হামাসের কর্মকর্তা মাহমুদ মারদাভি বলেছেন, তারা গাজার জন্য কোনো লিখিত শান্তি পরিকল্পনা পাননি।

২০ দফা পরিকল্পনায় কি আছে তা এখানে তুলে ধরা হলো-

১. গাজাকে উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসমুক্ত অঞ্চলে পরিণত করা হবে।

২. গাজাকে পুনর্গঠন করা হবে।

৩. উভয় পক্ষ প্রস্তাবে রাজি হলে যুদ্ধ সঙ্গে সঙ্গেই শেষ হবে। ইসরাইলি বাহিনী জিম্মি মুক্তির প্রস্তুতির জন্য নির্ধারিত সীমারেখায় সরে যাবে। এ সময় সব সামরিক অভিযান-বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণ বন্ধ থাকবে। যুদ্ধক্ষেত্রের সীমারেখা স্থির থাকবে, যতক্ষণ না ধাপে ধাপে পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহারের শর্ত পূরণ হয়। অর্থাৎ, দুপক্ষই তাদের জায়গা বদলাবে না। সব শর্ত যেমন, জিম্মি ও বন্দীমুক্তি, নিরাপত্তাব্যবস্থা ঠিক করা ইত্যাদি পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এ অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে।

৪. ইসরাইল প্রকাশ্যে এই চুক্তি মেনে নেয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সব জিম্মিকে (জীবিত ও মৃত) ফিরিয়ে দেয়া হবে।

৫. সব জিম্মি ফেরত আসার পর ইসরাইল যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত ২৫০ ফিলিস্তিনি বন্দীকে মুক্তি দেবে। এর সঙ্গে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর আটক করা ১ হাজার ৭০০ গাজাবাসীকেও মুক্তি দেবে।

৬. সব জিম্মি ফেরত আসার পর, হামাসের যেসব সদস্য শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান মেনে অস্ত্র ত্যাগ করতে রাজি হবেন, তাদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হবে। হামাসের যেসব সদস্য গাজা ছাড়তে চান, তাদের নিরাপদে অন্য দেশে যেতে দেয়া হবে।

৭. চুক্তি মেনে নেয়ার পরই গাজায় পুরোপুরি মানবিক সহায়তা প্রবেশ করবে। ন্যূনতম সহায়তা সেই মাত্রায় থাকবে, যা গত ১৯ জানুয়ারির মানবিক সহায়তা চুক্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছিল। এতে অবকাঠামো (পানি, বিদ্যুৎ, নর্দমা ব্যবস্থা), হাসপাতাল, বেকারি মেরামত এবং ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে রাস্তা খোলার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আনার বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

৮. জাতিসংঘ ও এর সংস্থাগুলো, রেড ক্রিসেন্ট এবং অন্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো, যারা কোনো পক্ষের সঙ্গে যুক্ত নয়, তারা গাজায় সহায়তা সরবরাহ ও বিতরণ করবে। রাফাহ সীমান্ত দুই দিকে খোলার বিষয়টি ১৯ জানুয়ারির চুক্তির অধীনে একই ব্যবস্থায় চলবে। অর্থাৎ, সীমান্ত খোলা ও বন্ধ হবে পুরোনো চুক্তির নিয়মে, দুপক্ষের সম্মতি ও তত্ত্বাবধানে।

৯. গাজার প্রশাসন সাময়িকভাবে একটি ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট কমিটির হাতে থাকবে। রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ এ কমিটি গাজার মানুষের জন্য দৈনন্দিন সেবা পরিচালনা করবে। কমিটিতে যোগ্য ফিলিস্তিনি ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ থাকবেন। তাদের তত্ত্বাবধান করবে একটি নতুন আন্তর্জাতিক সংস্থা- ‘বোর্ড অব পিস’। এর প্রধান থাকবেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। সংস্থার সদস্য হিসেবে সাবেক বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারসহ অন্য রাষ্ট্রপ্রধানদের নাম পরে ঘোষণা করা হবে। এ সংস্থা গাজা পুনর্গঠনের জন্য অর্থ ও কাঠামো ঠিক করবে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (পিএ) সংস্কারপ্রক্রিয়া শেষ করে আবারও কার্যকরভাবে গাজার নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম না হওয়া পর্যন্ত সংস্থা কাজ চালাবে। সংস্থাটির লক্ষ্য হবে গাজায় আধুনিক, কার্যকর ও বিনিয়োগবান্ধব প্রশাসন গড়ে তোলা। সব জিম্মি ফেরত আসার পর ইসরাইল যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত ২৫০ ফিলিস্তিনি বন্দীকে মুক্তি দেবে। এর সঙ্গে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর আটক করা ১ হাজার ৭০০ গাজাবাসীকেও মুক্তি দেবে। এতে ওই সময় আটক সব নারী ও শিশুও থাকবে। প্রত্যেক ইসরাইলি জিম্মির মরদেহের বিনিময়ে ইসরাইল ১৫ জন গাজাবাসীর মরদেহ ফিরিয়ে দেবে।

১০. অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনা অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের কিছু সফল আধুনিক শহরের পরিকল্পনায় কাজ করা বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গাজা পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার বিনিয়োগ-প্রস্তাব ও উন্নয়ন-পরিকল্পনা বিবেচনা করা হবে; যাতে কর্মসংস্থান, সুযোগ ও ভবিষ্যতের আশা তৈরি হয়।

১১. গাজায় একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হবে। অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর সঙ্গে শুল্ক ও প্রবেশাধিকারের বিষয়ে আলোচনা হবে।

১২. কাউকে গাজা ছাড়তে বাধ্য করা হবে না। যারা যেতে চাইবেন, যেতে পারবেন এবং ইচ্ছা করলে ফিরে আসতেও পারবেন। তবে মানুষকে গাজায় থাকতে উৎসাহ দেওয়া হবে; যাতে তাঁরা নতুন গাজা গড়ে তুলতে পারেন।

১৩. হামাস ও অন্যান্য সংগঠন প্রত্যক্ষ, পরোক্ষ বা অন্য কোনোভাবে গাজার প্রশাসনে অংশ নেবে না। সব সামরিক অবকাঠামো- টানেল, অস্ত্র কারখানা ধ্বংস করা হবে এবং পুনর্নির্মাণের অনুমতি থাকবে না। নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকদের তত্ত্বাবধানে নিরস্ত্রীকরণ করা হবে। অস্ত্র নিষ্ক্রিয় করে সরিয়ে ফেলা হবে। অস্ত্র জমা দেওয়ার বিনিময়ে আন্তর্জাতিক তহবিল দিয়ে এটির ক্রয় কার্যক্রম চালানো হবে। নতুন গাজা অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে।

১৪. আঞ্চলিক অংশীদাররা নিশ্চয়তা দেবে যে, হামাস ও অন্যান্য গোষ্ঠী তাদের প্রতিশ্রুতি মানবে এবং নতুন গাজা প্রতিবেশী দেশ বা নিজের জনগণের জন্য হুমকি হবে না।

১৫. আরব ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে মিলে যুক্তরাষ্ট্র গাজার জন্য একটি অস্থায়ী বাহিনী ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ)’ গঠন করবে। এটি দ্রুত গাজায় মোতায়েন হবে। আইএসএফ গাজার জন্য বাছাই করা ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে এবং জর্ডান ও মিসরের সঙ্গে পরামর্শ করবে; যাদের এ বিষয়ে অভিজ্ঞতা রয়েছে। এ বাহিনী দীর্ঘমেয়াদে গাজার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে। আইএসএফ ইসরাইল ও মিসরের সঙ্গে মিলে সীমান্ত সুরক্ষার কাজও করবে। মূল লক্ষ্য হবে, গাজায় অস্ত্র প্রবেশ ঠেকানো এবং দ্রুত পুনর্গঠনের জন্য পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করা। এ বিষয়ে একটি সমন্বয়প্রক্রিয়ায় উভয়পক্ষ রাজি হবে।

১৬. ইসরাইল গাজা দখল বা সংযুক্ত করবে না। আইএসএফ স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করলে ইসরাইলি সেনারা ধাপে ধাপে গাজা ছাড়বে। এ জন্য নিরস্ত্রীকরণের অগ্রগতি ও নির্ধারিত সময়সূচির ভিত্তিতে পরিকল্পনা করা হবে। উদ্দেশ্য হবে এমন এক গাজা গড়ে তোলা, যা ইসরাইল, মিসর বা তাদের নাগরিকদের জন্য আর হুমকি হবে না। ইসরাইলি সেনারা ধাপে ধাপে গাজার নিয়ন্ত্রণ আইএসএফের হাতে তুলে দেবে। পুরো সেনা সরানোর পরও শুধু নিরাপত্তা রক্ষায় সামান্য সৈন্য থাকবে; যতক্ষণ না গাজা পুরোপুরি নিরাপদ হয়।

১৭. যদি হামাস এ পরিকল্পনা মানতে দেরি করে বা মেনে না নেয়, তবুও ইসরাইল যে জায়গা ছাড়বে (যেগুলো ‘সন্ত্রাসমুক্ত’ করা হয়েছে) সেই জায়গাগুলো আইএসএফের হাতে তুলে দেবে এবং ওই নিরাপদ এলাকায় সাহায্য ও পুনর্গঠনের কাজ চালু হবে।
১৮. গাজায় সহনশীলতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ভিত্তিতে একটি আন্তধর্মীয় সংলাপ চালু হবে। এর লক্ষ্য হবে, ফিলিস্তিনি ও ইসরাইলিদের দৃষ্টিভঙ্গি ও বর্ণনা বদলানো; যাতে তারা শান্তির সুফল বুঝতে পারেন।

১৯. গাজা পুনর্গঠনের কাজ চলাকালে ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সংস্কারপ্রক্রিয়া বাস্তবায়িত হলে, ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও রাষ্ট্র গঠনে একটি বিশ্বাসযোগ্য পথ তৈরি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, এটাই ফিলিস্তিনি জনগণের আকাঙ্ক্ষা।

২০. যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সংলাপ শুরু করবে; যাতে শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ সহাবস্থানের জন্য একটি রাজনৈতিক দিকনির্দেশনায় তারা একমত হতে পারে।

ইরানের আবেদনে ফিফার না

সুন্দরবন নিউজ২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬, ৩:৪৬ অপরাহ্ণ
ইরানের আবেদনে ফিফার না

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতে ফিফা বিশ্বকাপ সংক্রান্ত ধূম্রজাল শেষ হচ্ছে না। ইরান তাদের ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেক্সিকোয় সরিয়ে নেওয়ার যে দাবি জানিয়েছিল, তা প্রত্যাখ্যান করেছে বিশ্ব ফুটবল সংস্থা। এ অবস্থায় চির শত্রু যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ইরান আদৌ খেলতে যাবে তো!

চলমান অনিশ্চয়তার মধ্যে ইরানের ম্যাচ আয়োজনে দুয়ার খুলে দিয়েছে মেক্সিকো। সূচি বদলের সম্ভাবনা ফিফা উড়িয়ে দেওয়ার পর আপাতত সে সম্ভাবনা নেই। কিন্তু এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বিশ্বকাপের টিকিট পাওয়া ইরানের মৃসণভাবে বিশ্বকাপ খেলার আপাতত কোনো পথও দেখা যাচ্ছে না।

এশিয়ার শক্তিশালী দল ইরান গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো বেলজিয়াম, মিশর ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে লস অ্যাঞ্জেলেস ও সিয়াটলে খেলবে। ম্যাচগুলো মেক্সিকো সিটির আজটেকা, গুয়াদালাহারা বা মন্টেরেতে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টার জবাবে ফিফা দ্রুতই তা প্রত্যাখ্যান করে।

এ প্রসঙ্গে ফিফার এক মুখপাত্র বলেন, ‘ফিফা অংশগ্রহণকারী সব সদস্য দেশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে, যার মধ্যে ইরানও রয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা চলমান। ফিফা ৬ ডিসেম্বর ২০২৫-এ ঘোষিত ম্যাচ সূচি অনুযায়ী সব দলকে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে দেখার অপেক্ষায় আছে।’ মেক্সিকো সিটিতে কথা বলতে গিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম জানান, ইরানের অনুরোধ মানতে তারা প্রস্তুত থাকতে পারেন।

তিনি বলেন, ‘মেক্সিকোর জন্য এতে কোনো সমস্যা নেই, এটি কেবল ফিফার লজিস্টিকসের বিষয়। এটি সম্ভব, কারণ তাদের যুক্তরাষ্ট্রেই যাওয়ার কথা ছিল। যদি তারা মেক্সিকোয় ম্যাচ আয়োজন করতে চায়। বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে এবং যথাসময়ে আমরা জানাব।’

আসর শুরুর মাত্র ১২ সপ্তাহ আগে ১০৪ ম্যাচের সূচি পরিবর্তন হওয়া খুবই অসম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে। এত দেরিতে সূচি পরিবর্তন ফিফার জন্য বড় ধরনের লজিস্টিকস দুর্ভোগ তৈরি করবে।

চলতি বছরেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন জানালেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সুন্দরবন নিউজ২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬, ১১:০৭ অপরাহ্ণ
চলতি বছরেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন জানালেন মির্জা  ফখরুল ইসলাম আলমগীর

চলতি বছরেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ ছাড়া চলতি বছরের মধ্যেই বিএনপির সম্মেলনও অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি।

বুধবার (১৮ মার্চ) রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এমনটি জানান মির্জা ফখরুল। মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম মতবিনিময় সভা করলেন তিনি।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কাজ চলছে। নিঃসন্দেহে এ বছরেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং যত দ্রুত সম্ভব এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

বিএনপির সম্মেলন প্রসঙ্গে দলটির মহাসচিব বলেন, ‘বিএনপির সম্মেলন এ বছরের মধ্যেই। এখনো আমরা সময় নির্ধারণ করিনি। কিন্তু আমার মনে হয়, শিগগিরই হবে কাউন্সিল।’ প্রসঙ্গত, বিএনপির সর্বশেষ সম্মেলন হয় ২০১৬ সালে।

বিএনপির মহাসচিবকে উদ্দেশ করে এক সাংবাদিক বলেন, সরকার গঠনের পর সরকার ও দল ‘এক হয়ে গেছে’। দলের কার্যক্রম কবে নাগাদ শুরু হবে? জবাবে তিনি বলেন, দলের কার্যক্রম তো চলছে, ছোট খাটোভাবে তো চলছে। এক মাসে সরকার গঠন করতে তো সময় লেগেছে। দলের লোক বেশিরভাগই সরকারে চলে গেছেন। সেই জায়গাগুলোতে সময় লাগবে; এটা বিচ্ছিন্ন ব্যাপার না। এটা আলাদা করে দেখা যাবে না। সরকার তার কাজ করবে, দল তার কাজ করবে।

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি যখনই সরকারে আসে, তখনই একটা করে বড় রকমের ঝামেলা আসে; এর আগেও এমনটা দেখা গেছে। এবার এসেছে ইরান যুদ্ধ, এই যুদ্ধের ফলে বিশ্বে তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়ে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে বিএনপি সরকার এখন পর্যন্ত যোগ্যতা ও দক্ষতার সঙ্গে এই বিষয়গুলো মোকাবিলা করেছে। এর ফলে দেশে তেলের দাম এখনো বাড়েনি। এ ছাড়াও এবার গার্মেন্টস্‌ ফ্যাক্টরিগুলোতে বেতন না দেওয়ার যেসব ঝামেলা হয়, সেগুলো হয়নি। কারণ, এসব বিষয়ে এবার আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, জুলাই সনদের ব্যাপারে আমরা কিন্তু শতভাগ কমিটেড (প্রতিশ্রুতিবদ্ধ), যেগুলো আমরা সই করেছি। আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, আমরা যেগুলোতে একমত হয়েছি, সেই বিষয়গুলোতে আমরা কমিটেড। সেই কমিটমেন্ট থেকে আমরা এক চুলও নড়ব না। আর যেগুলো আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া- এগুলো মেনে নেওয়া তো আমাদের জন্য নিশ্চয়ই সবসময় সম্ভব নাও হতে পারে। তবে সেটা নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি।

সৌদি আরবে ঈদুল ফিতরের তারিখ ঘোষণা

সুন্দরবন নিউজ২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬, ৯:৩১ অপরাহ্ণ
সৌদি আরবে ঈদুল ফিতরের তারিখ ঘোষণা

সৌদি আরবে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। তাই দেশটিতে পবিত্র ঈদুল ফিতর আগামী শুক্রবার (২০ মার্চ) উদ্‌যাপন করা হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

খালিজ টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কর্তৃপক্ষ চাঁদ দেখার চেষ্টা করে। কিন্তু তা দেখা যায়নি। ফলে সৌদি আরবে পবিত্র রমজান মাস ৩০ দিনে পূর্ণ হবে। এ হিসেবে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) হবে রমজানের শেষ দিন। পরদিন শুক্রবার ঈদ পালিত হবে।

ইসলামি বিধান অনুযায়ী, শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ঈদের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। চাঁদ দেখা না গেলে রমজান ৩০ দিন পূর্ণ করা হয়, এরপর ঈদ উদযাপিত হয়।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চাঁদ দেখার তারতম্যের কারণে ঈদের তারিখ ভিন্ন হতে পারে। সাধারণত সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে শুক্রবার ঈদ উদযাপিত হলেও দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশে একদিন পর ঈদ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। স্ব স্ব দেশগুলোতে স্থানীয় চাঁদ দেখার কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঈদের তারিখ ঘোষণা করা হবে।