খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বহুমুখী তদবিরে চাপে প্রশাসন

সুন্দরবন নিউজ২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০২৪, ১০:২০ পূর্বাহ্ণ
বহুমুখী তদবিরে চাপে প্রশাসন

সম্প্রতি একজন দুর্নীতিগ্রস্ত তহশিলদারকে পৌর ভূমি অফিস থেকে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বদলি করে জেলা প্রশাসন। তার বদলি ঠেকাতে সাবেক একজন মন্ত্রী ও একটি রাজনৈতিক দলের প্রথম সারির নেতা মরিয়া হয়ে তদবির করতে থাকেন। বদলি ঠেকাতে স্থানীয় একাধিক সাংবাদিকও জেলা প্রশাসককে (ডিসি) নানা চাপ ও হুমকি দেন। এর পরও বদলি ঠেকানো যায়নি। তবে ডিসিকে নানা ঝামেলা পোহাতে হয়েছে। এভাবে সরকারের মাঠ প্রশাসন থেকে কেন্দ্রীয় প্রশাসন পর্যন্ত বদলি-পদায়ন কিংবা ঠিকাদারির তদবির চলছে। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সময়ে তদবির হতো একমুখী। এখন সরকার সমর্থক নানা গোষ্ঠী ও দেশের সক্রিয় রাজনৈতিক দলগুলোর নেতার কাছ থেকে বহুমুখী তদবির হচ্ছে। তদবিরের চাপে হাঁপিয়ে উঠেছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

কর্মকর্তারা অভিযোগ করে বলেন, টানা সাড়ে ১৫ বছরে দেশের প্রশাসনিক কাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে তা দলীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল। আওয়ামী ঘরানার কিংবা শীর্ষ কর্মকর্তাদের পছন্দের না হলে মিলত না পদোন্নতি কিংবা পদায়ন। প্রবল জনআকাঙ্ক্ষার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকার প্রশাসনকে দলীয় ও তদবিরমুক্ত করবে—এমন প্রত্যাশা ছিল সবার। কিন্তু এমন আশার গুড়ে বালি দিয়ে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ও বহুমুখী তদবিরের বোঝা মাথায় নিয়েই চলছে হাসিনার দুঃশাসনকালে রেখে যাওয়া ভঙ্গুর প্রশাসন।

তদবিরে এগিয়ে রাজনীতিকরা: কর্মকর্তারা বলেন, গত সাড়ে ১৫ বছর শুধু আওয়ামী লীগ, গণভবন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেই প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণ করা হতো। সব ধরনের তদবির, আদেশ-নিষেধ ছিল একমুখী। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আওয়ামী লীগ ও তাদের জোটের রাজনৈতিক দলগুলো ছাড়া রাজপথে সক্রিয় রাজনৈতিক দলের নেতারাই এখন তদবির করে বেড়াচ্ছেন। বদলি, পদোন্নতি কিংবা ঠিকাদারির কাজ পাইয়ে দেওয়ার মতো সচিবালয়কেন্দ্রিক এসব তদবির অতীতের চেয়ে বেড়েছে। বড় দলগুলোর নেতাদের প্রায়ই সচিবালয়ে দেখা যায়। বিশেষ করে বিএনপি-জামায়াত ও তাদের সমমনা দলগুলোর নেতারা প্রশাসনে প্রভাব খাটিয়ে চলেছেন। তারা নিজেদের নির্বাচনী এলাকায় পছন্দের ডিসি-এসপি নিয়োগ দিতে তদবির করে বেড়াচ্ছেন। এ ছাড়া বদলি-পদায়ন কিংবা ঠিকাদারি কাজের পেছনে দৌড়াচ্ছেন রাজনীতিকরা। বড় দলের নেতাদের পাশাপাশি ছোট নতুন-পুরোনো দলের শীর্ষ নেতাদের সচিবালয়ে দেখা যাচ্ছে। নেতারা আওয়ামী লীগের শাসনামলে সুবিধা নেওয়া দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের জন্যও তদবির করছেন।

তারা আরও বলেন, চতুর্মুখী তদবিরের যন্ত্রণায় প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা ঠিকমতো কাজ করতে পারছেন না। প্রায় ২ হাজার ছাত্র-জনতার রক্তের ওপর দিয়ে ফ্যাসিবাদের পতনের পরও তদবিরবাজি চলছে বলে মনে করেন তারা।

সাবেক সচিব ও প্রশাসন বিশ্লেষক একেএম আব্দুল আউয়াল মজুমদার কালবেলাকে বলেন, তদবির করা অযোগ্যতা। নীতি-নৈতিকতাহীন কাজ। যারা তদবির করতে আসেন তাদের বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রক্রিয়াটা মনে রাখা উচিত। সরকার শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। সুতরাং নীতিবিরুদ্ধ তদবির-দৌড়ঝাঁপ থেকে সবাইকে দূরে থাকতে হবে। যোগ্য ও সৎ কর্মকর্তাদের খুঁজে বের করে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বসাতে হবে। তাহলে রাষ্ট্র ও প্রশাসনের কল্যাণ নিশ্চিত করতে পারবে সরকার।

দৌড়াচ্ছেন প্রভাবশালী কর্তারা: বিএনপি-জামায়াতপন্থি হিসেবে পরিচিত কর্মকর্তারা গত ৫ আগস্টের পর দাপটের সঙ্গেই চাকরি করছেন। এরই মধ্যে তাদের অনেকেই পছন্দের দপ্তরে পদায়ন নিয়েছেন। নিজেদের বঞ্চিত দাবি করে পদোন্নতিও পেয়েছেন। প্রশাসনে এখন তারা প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন। নিজেদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতের পর তারা সহকর্মী-ব্যাচমেট কিংবা স্বজনদের জন্য দৌড়াদৌড়িতে ব্যস্ত। কে কোন দপ্তরে যাবেন, তা তারা ঠিক করছেন। এমনকি আওয়ামী লীগের সময়ে সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা ভোগ করা কর্মকর্তাদের জন্যও অনেকে তদবির করছেন। ফলে পতিত সরকারের সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিত অনেক কর্মকর্তা এখনো বহাল তবিয়তে বড় বড় দপ্তরে বসে আছেন। ছাত্র-জনতার জীবনের বিনিময়ে পাওয়া নতুন বাংলাদেশে এসব কর্মকর্তার এমন দৌড়ঝাঁপকে নীতিবিরুদ্ধ বলে মনে করছেন প্রশাসন বিশেষজ্ঞরা। তাদের ভাষ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশাসনকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া উচিত।

স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের চাপে মাঠ কর্তারা: মাঠ প্রশাসনে কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও তদবিরের চাপে অতিষ্ঠ। স্থানীয় রাজনীতিকদের পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীদের তদবির ও চাপকে ভয় হিসেবেই দেখেন কর্মকর্তারা। ফলে অনেক অযৌক্তিক তদবির রাখতে হচ্ছে কর্মকর্তাদের। স্থানীয় সাংবাদিকরাও তাদের নানা আবদার নিয়ে আসেন। এগুলো রাখলেও বিপদ, না রাখলেও ভয়ে থাকতে হয়। কখন কে নেতিবাচক নিউজ করে দেয়!

বিরক্ত উপদেষ্টারা: বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও রাজনীতিবিদের লাগামহীন তদবিরে চরম বিরক্ত সরকারের উপদেষ্টা ও সচিবরা। তারা বলছেন, তদবিরের চাপ এতই বেশি যে, ঠিকমতো কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে। কিন্তু সবাই যেভাবে তদবির ও নিজেদের সুবিধার জন্য আসেন, তা শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করার শামিল।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ক্ষোভ জানিয়ে তার ভেরিফায়েড ফেসবুকে লেখেন, ‘দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বলেছিলাম, ব্যক্তিগত তদবির-আবদার নিয়ে কেউ আসবেন না। এখনো প্রতিদিন যদি ৫০ জন দেখা করতে আসেন, তার মধ্যে ৪৮ জনই আসেন নানারকম তদবির নিয়ে। আমাদেরও নতুন বাংলাদেশের উপযুক্ত নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়তে হবে। ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে গিয়ে দেশের স্বার্থে ত্যাগের মানসিকতা, কাজ করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে শহীদদের স্পিরিটকে ধারণ করে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ সম্প্রতি গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের কাছে প্রতিদিন নানা ধরনের তদবির আসছে, এটা ঠিক। এতে খুব অসুবিধাও হচ্ছে। কাজের ক্ষতি হচ্ছে। তবে সিদ্ধান্তটা কিন্তু আমরাই নিচ্ছি। তদবির করলেই সেটি গুরুত্ব পাবে, বিষয়টি তেমন নয়।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান কালবেলাকে বলেন, সরকারি খাতে পদোন্নতি, বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে অনেক সময়ে আর্থিক লেনদেনসহ যে তদবির, এটি বাংলাদেশে দীর্ঘ সময়ের প্রশাসনিক সংস্কৃতির অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগের কর্তৃত্ববাদী সরকারে গত ১৬ বছরে তা চূড়ান্ত রূপ নিয়েছিল। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রাজনৈতিক ভিত্তি নেই, এটি দলনিরপেক্ষ সরকার হলেও তার ক্ষমতার বহুমাত্রিক স্তম্ভ রয়েছে। এখানে যেহেতু একাধিক ক্ষমতার ভিত্তি রয়েছে, যারাই নিজেদের কোনোভাবে ক্ষমতার ভিত্তি মনে করছেন তারাই সুযোগটা নিচ্ছেন। যেহেতু দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত সংস্কৃতি, সেটা একটা কারণ সুযোগটি নেওয়ার এবং চর্চাটি অব্যাহত থাকার পেছনে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমদিকে আগের সরকারের আমলাতন্ত্র পরিবর্তন প্রক্রিয়ায় পরিপূর্ণভাবে যোগ্যতানির্ভর পদায়ন, পদোন্নতি বদলি হয়েছে সেটা বলা যাবে না। এখানে সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড কতটুকু অনুসরণ করা হয়েছে, সেটাও প্রশ্নবিদ্ধ।

সাবেক সচিব ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ আব্দুল আউয়াল মজুমদার বলেন, যে লক্ষ্য নিয়ে দেশে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে, সে লক্ষ্য পূরণ করতে হলে সব ধরনের চাপ ও তদবির উপেক্ষা করে সৎভাবে কাজ করতে হবে। তদবিরের দোহাই দিয়ে অযোগ্য-অদক্ষদের পুনর্বাসন করা হলে তা রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে না।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়া কালবেলাকে বলেন, তদবির নিয়ন্ত্রণ করতে হলে সমগ্র প্রশাসনের মধ্য থেকে যোগ্য ও সাহসী কর্মকর্তাদের খুঁজে বের করতে হবে। অপেক্ষাকৃত নিরপেক্ষ কর্মকর্তাকে প্রাধান্য দিতে হবে। তবে সরকারের দায়িত্বশীলদের মধ্যে যদি ব্যক্তিগত পছন্দ, ব্যক্তিগত বিদ্বেষ কাজ করে, তাহলে ভালো প্রশাসন পাওয়া যাবে না। এমন অবস্থা চলতেই থাকবে।

এ প্রসঙ্গে চেষ্টা করেও প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের বক্তব্য জানতে পারেনি কালবেলা।

সূত্র: দৈনিক কালবেলা

নারকেলের পানি ডায়াবেটিসের জন্য বন্ধু নাকি সমস্যা

সুন্দরবন নিউজ ২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
নারকেলের পানি ডায়াবেটিসের জন্য বন্ধু নাকি সমস্যা

ডায়াবেটিসে শুধু খাওয়া-দাওয়াই নয়, কী পান করা হচ্ছে তাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় আমরা ভুলে যাই, যে পানীয় আমরা খাই, তা রক্তে শর্করার মাত্রাকে সরাসরি প্রভাবিত করতে পারে। এই কারণে ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ প্রশ্নগুলোর মধ্যে একটি হলো– নারকেলের পানি কি নিরাপদ? নাকি রক্তে চিনি বাড়িয়ে দিতে পারে?

নারকেলের পানি বরাবরই গরমে শরীর ঠান্ডা রাখা, ক্লান্তি দূর করা এবং পটাসিয়াম ও অন্যান্য খনিজ উপাদান দেওয়ার জন্য জনপ্রিয়। এতে থাকে পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন সি ও বিভিন্ন খনিজ, যা শরীরের জন্য উপকারী। কিন্তু ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য চিন্তার বিষয় হলো এতে থাকা প্রাকৃতিক চিনি এবং কার্বোহাইড্রেট।

এক গ্লাস (প্রায় ২৫০ মিলিলিটার) নারকেলের পানিতে থাকে প্রায় ১৫ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট এবং ৮ গ্রাম প্রাকৃতিক চিনি। এই চিনি সরাসরি রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতে পারে।

মুম্বাইয়ের ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ ডা. নিখিল প্রভু বলেন, ‘যদি কারও রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে থাকে, তবে মাঝে মাঝে সীমিত পরিমাণে নারকেলের পানি খাওয়া যেতে পারে। তবে এটিকে ওষুধের মতো ভাবা উচিত নয়।’

গবেষণায় দেখা গেছে, নারকেলের পানির গ্লাইসেমিক ইনডেক্স প্রায় ৫৪, যা কম থেকে মাঝারি স্তরে পড়ে। অর্থাৎ এটি রক্তে চিনি হঠাৎ বাড়ায় না। তবে বেশি পরিমাণে খেলে সমস্যা হতে পারে।

নারকেলের পানিতে থাকা ম্যাগনেসিয়াম ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। টাইপ ২ ডায়াবেটিসে প্রায়ই ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি দেখা যায়, যা রক্তের চিনি নিয়ন্ত্রণে বাধা দেয়। এছাড়াও এতে থাকা পটাসিয়াম এবং এল-আর্জিনিন রক্তনালিগুলো শিথিল করতে সাহায্য করে, ফলে রক্ত চলাচল ভালো থাকে। ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে পায়ের স্নায়ু সমস্যা এবং রক্ত চলাচলের সমস্যা সাধারণ, তাই কিছুটা উপকার পাওয়া সম্ভব।

তবে, যদি কারও রক্তে চিনি খুব বেশি থাকে বা HbA1c প্রায় ৯-১০ শতাংশের কাছাকাছি, তবে নারকেলের পানি এড়ানোই ভালো। প্রতিদিন খেলে ধীরে ধীরে রক্তে চিনি বাড়তে পারে। নিরাপদ উপায় হলো, সপ্তাহে এক বা দুবার অল্প পরিমাণে নারকেলের পানি পান করা এবং তা খাবারের সঙ্গে বা শারীরিক পরিশ্রমের পরে নেওয়া। খালি পেটে বা প্রতিদিন নিয়মিত খাওয়া ঠিক নয়।

সারসংক্ষেপে, নারকেলের পানি ডায়াবেটিসের জন্য ‘বিষ নয়, অমৃতও নয়।’ এটি সঠিক সময়ে এবং সীমিত পরিমাণে পান করলে উপকারী হতে পারে। রক্তের চিনি নিয়মিত পরীক্ষা করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

সূত্র : Health Line

সকলে মিলে দেশ গড়ার সময় এসেছে: সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তারেক রহমান

সুন্দরবন নিউজ ২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১১:৪০ অপরাহ্ণ
সকলে মিলে দেশ গড়ার সময় এসেছে: সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সকলে মিলে দেশ গড়ার সময় এসেছে, এখন বাংলাদেশের মানুষ কথা বলার অধিকার ফিরে পেতে চায়।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর পূর্বাচলের ৩০০ ফিটে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

আজ দুপুর ১২টা ৩৫মিনিটে তিনি বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে একটি বিশেষ বাসে করে ৩০০ ফিটের উদ্দেশে রওনা দেন। দলীয় নেতাকর্মীরা রাস্তার দুধারে হাত নেড়ে তাকে স্বাগত জানান। ৩ ঘণ্টা ১৫ মিনিট পর মঞ্চে পৌঁছান বিএনপি নেতা তারেক রহমান।

এর আগে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বহনকারী বিমানটি বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এর কিছুক্ষণ আগে তারেক রহমান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে আবেগঘন বার্তায় লেখেন, দীর্ঘ ৬ হাজার ৩১৪ দিন পর বাংলাদেশের আকাশে!

এরও আগে, বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত সোয়া ১২টায় লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে ফ্লাইটটি। একই দিন বাংলাদেশ সময় রাত সোয়া ৮টায় লন্ডনের নিজ বাসা ত্যাগ করেন তারেক রহমান। তিনি স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে রাত সোয়া ১০টায় হিথ্রো বিমানবন্দরে পৌঁছান।

শ্যামনগরে সিপিপি কর্মকর্তার অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানববন্ধন।

সুন্দরবন নিউজ ২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১:৫৭ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে সিপিপি কর্মকর্তার অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানববন্ধন।

শ্যামনগরে এক দুর্নীতিগ্রস্ত সিপিপি কর্মকর্তার দুর্নীতি-অনিয়মের বিরুদ্ধে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল ১১ টায় সিপিপি উপজেলা কার্যালয়,(জেসি কমপ্লেক্স)এর সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করে সিপিপি শ্যামনগর পৌরসভার স্বেচ্ছাসেবকবৃন্দ। এতে ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে শ্যামনগর উপজেলা পৌরসভার সমস্ত নারী ও পুরুষ স্বেচ্ছাসেবকগণ অংশ নেয়।

ঘন্টাব্যাপী চলা এই কর্মসূচিতে অংশ নেয় শ্যামনগর পৌরসভার সিপিপি টিম লিডার মোঃ আব্দুর রশিদ নান্টু, ১নং ইউনিট টিম লিডার নজরুল ইসলাম মুন্না, ২ নং ইউনিট টিম লিডার, ভবেসিন্দু মন্ডল, ৩ নং ইউনিট টিম লিডার হাবিবুর রহমান ৪ নং ইউনিট টিম লিডার ইয়াছিন মোড়ল ৫ নং ইউনিট টিম লিডার রবিন্দ্রনাথ মন্ডল ৬ নং ইউনিট টিম লিডার শাহীন ভূইয়া, ৭ নং ইউনিট টিম লিডার আব্দুর রশিদ নান্টু। ৮ নং ইউনিট টিম লিডার হেলাল মাহমুদ, ৯ নং ইউনিট টিম লিডার দেবাশিস গায়েন সহ অন্যান্য রা বক্তব্য রাখেন।

এ সময় বক্তারা বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি(সিপিপি) সহকারী পরিচালক শ্যামনগর মুন্সি নুর মোহাম্মদ, দুর্যোগে কাজ করা সিপিপি সংগঠনকে একটা বাণিজ্যিক সংগঠন হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।

নীতিমালা তোয়াক্কা না করে নিজের মনগড়া ভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসতেছে, সাধারণ স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি করে স্বেচ্ছাসেবী কাজে মনোভাব নষ্ট করছেন।

সিপিপি স্বেচ্ছাসেবক নির্দেশিকা -২০২১ অনুসারে সিপিপিতে যোগদানের বয়স ১৮ থেকে ৩৫ নির্ধারণ থাকলেও এই নীতিমালা অমান্য করে মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নে নিপা চক্রবর্তী নামক একজন ৪০ উর্ধ্ব বয়স নারী স্বেচ্ছাসেবককে নিয়োগ দিয়েছিলেন।

অপর দিকে রমজাননগর ইউনিয়নের তানিয়া নামক ১৬ বছর বয়সের নারী স্বেচ্ছাসেবককে নিয়োগ দিয়েছিলেন ।

কর্মকর্তার আন অফিসিয়াল তার কথা না শোনার কারনে পদ্মপুকুর ইউনিয়নের মাছুরা নামক নারী স্বেচ্ছাসেবককে বিনা কারণে বাদ দেওয়া হয়েছে।

জেলা পরিষদ নির্বাচনে কর্মকর্তার মনোনীত প্রার্থীকে ভোট না দেওয়ার কারণে রমজাননগরের আছমা মেম্বার, ও কৈখালীর রাবিয়া মেম্বারের সিপিপির আই ডি কার্ড দিতে তালবাহানা করেছে।

বক্তারা আরো বলেন:
এভাবে চলতে থাকলে শ্যামনগরের উপকূলীয় আমজনতা সিপিপি থেকে দুর্যোগের সময় সেবা পাবে না:
কর্মকর্তা মুন্সী নুর মোহাম্মদ একের পর এক নিয়ম বহির্ভূত কর্মকাণ্ড করতে থাকে এবং তার সাথে সঙ্গ না দেওয়ায়, শ্যামনগর সদর ইউনিয়ন টিম লিডার মোঃ আব্দুর রশিদ নান্টু নামে বিভিন্নভাবে মিথ্যা হয়রানি মূলক বেনামী অভিযোগ দিয়ে থাকেন ।

সর্বশেষ মোঃ আব্দুর রাজ্জাক নামীয় ব্যক্তির পাঠানো অভিযোগে বিষয়টি পরিষ্কার হয়, মুন্সি নুর মোহাম্মদ, অভিযোগকারীদের স্থানে আব্দুর রাজ্জাকের নাম ব্যবহার করে ইয়াসিন মোড়ল এবং আব্দুর রশিদ নানটুর নামে পুনরায় অভিযোগ করে,
মিটিং সেমিনার কিংবা প্রশিক্ষণ কর্মশালায় স্বেচ্ছাসেবকদের সাথে তুই তুকারি করে কথা বলেন এই কর্মকর্তা।
দুর্যোগের সময় বিশেষ মুহূর্তে অতি প্রয়োজনে কর্মকর্তাকে ফোন করলে ফোন কেটে দেন।
প্রয়োজনে স্বেচ্ছাসেবকরা অফিসে গেলে কর্মকর্তা বিরক্ত বোধ করেন।
স্বেচ্ছাসেবকদের মাঝে একে অপরের সাথে বিরোধ লাগিয়ে স্বার্থ হাসিল করার চেষ্টা করেন এই কর্মকর্তা।

মন:পুত ব্যক্তিদের বিভিন্নভাবে অফিশিয়ালি সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকেন বিশেষ করে যারা তার অনিয়ম কর্মকান্ডের সাথে জড়িত থাকেন।

টাকার বিনিময়ে জাতীয় পুরস্কার পাইয়ে দেওয়ার জন্য প্রকাশ্য সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন,কর্মকর্তা মুন্সি নুর মোহাম্মদ, তার কাছের ব্যক্তি রমজান নগর ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক ফারুক হোসেন কে অফিসের নথি প্রকাশ করে, নায্য পুরষ্কার প্রাপ্য নজরুলের ডকুমেন্টস জাল করে ততকালীন ইউ এন ও কাছে প্রেরণ করে

এসব বিষয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে সাধারণ স্বেচ্ছাসেবকরা মানববন্ধনের মাধ্যমে কর্মকর্তা মুন্সি নুর মোহাম্মদের বদলি চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।