খুঁজুন
সোমবার, ৩০শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সুন্দরবনে দস্যুতার সাথে বেড়েছে হরিণ নিধন!

সুন্দরবন নিউজ২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৫, ২:৪৫ অপরাহ্ণ
সুন্দরবনে দস্যুতার সাথে বেড়েছে হরিণ নিধন!

সুন্দরবনে ফের ডাকাতি, অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি, চাঁদাবাজি ও চোরাকারবারীদের অপতৎপরতা বেড়েছে উল্লেখযোগ্যহারে। এর মাঝে নতুন খবর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বেপরোয়া হয়ে উঠেছে হরিণ শিকারীরা। ক্ষেত্র বিশেষ প্রশাসনকে ম্যানেজ করে বা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে হরিণ শিকারে মেতেছে তারা।

এদিকে, বন বিভাগ বলছে, সুন্দরবনে হরিণ শিকার বন্ধে বন বিভাগের সদস্যরা তৎপর রয়েছে। তথ্যদাতা, উদ্ধারকারী, আসামি ধরিয়ে দেওয়া ছাড়াও লোকালয়ে আসা হরিণ ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য কাজ করা হচ্ছে। এছাড়াও হরিণ সুরক্ষায় সুন্দরবনে বন বিভাগের রয়েছে চারটি কেল্লা (বিশেষভাবে তৈরি করা হরিণের আবাসস্থল)। তবে, হরিণ শিকারীদের ধরতে দ্রুতই পরিচালিত হবে যৌথ অভিযান।

সূত্র জানায়, সুন্দরবনে মায়া হরিণ ও চিত্রা হরিণ নামে দুই প্রজাতির হরিণ পাওয়া যায়। মায়া হরিণের সংখ্যা কম, চিত্রা হরিণের সংখ্যা বেশি। হরিণ বছরে দুইবার বাচ্চা দেয়।

সূত্রটি আরো জানায়, ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বন বিভাগের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন ২০ জন হরিণ শিকারী। পলাতক রয়েছেন চারজন। এক বছরে ৯৫ কেজি ৫০০ গ্রাম হরিণের মাংস জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর চার মাস ২৫ দিনে ৭৮ কেজি হরিণের মাংস জব্দ করা হয়।

এ ছাড়া গত এক বছরে একটি মৃত হরিণ, এক পিস হরিণের চামড়া, ১ হাজার ৫০০ পিস হরিণ মারার ফাঁদ, ৫০০ গ্রাম কলিজা জব্দ করা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল কয়েকজন জেলে ও মৌয়ালী জানান, গত বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে অনুপ্রবেশ কঠোর হস্তে দমন করা হয়। এ সময় শিকারীরা অনেকেই অন্য পেশায় চলে যায়। তবে ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় বিশেষ করে বনবিভাগ, কোস্ট গার্ড ও পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় শিকারীরা আবারো বনে ঢুকতে শুরু করেন। এদের মধ্যে অনেকে রয়েছে বনদস্যু। মাঝে মাঝে শিকারীরা গ্রেপ্তার হওয়ার পাশাপাশি হরিণের মাংস ও ফাঁদ উদ্ধার করা গেলেও বড় সংখ্যক শিকারী রয়ে যায় ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয়রা বলছেন, হরিণের মাংসের ক্রেতার অভাব নেই। হরিণের মাংস এখন হোম ডেলিভারিও করা হয়। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি ও খোদ প্রশাসনের লোকজনও এই মাংসের ক্রেতা। সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় বসবাস করা ধনী পরিবার ও রাজনৈতিক নেতাদের বাড়ির ফ্রিজে প্রায় সব সময়ই হরিণের মাংস পাওয়া যায়। সম্প্রতি গত ২৬ ডিসেম্বর বনবিভাগ গাবুরার চকবারা গ্রামের সবেদ আলী গাজীর ছেলে ইয়াসিন গাজীর বাড়ির ফ্রিজ থেকে তিন কেজি হরিণের মাংস উদ্ধার করে।

জানা যায়, গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জেল ভেঙে পালিয়ে আসা কয়েদি ও চিহ্নিত আসামিরা সুন্দরবনে দস্যুতা ও হরিণ শিকার শুরু করেছে। তাদের মধ্যে একটি অংশ সুন্দরবনের ভারতের অংশে পালিয়ে গেছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া থানা থেকে লুট হওয়া সরকারি ও জনগণের লাইসেন্স করা বন্দুক নিয়ে তাঁরা সুন্দরবনে মৎস্য আহরণে যাওয়া জেলেদের কাছ থেকে মাছ, টাকা, মুঠোফোনসহ সবকিছু লুট করে নিচ্ছেন। এমনকি বনে ঢুকলে জেলেদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের চাঁদাও দাবি করছেন।

একটি সূত্র বলছে, তারা (দস্যুরা) খাদ্য হিসেবে হরিণ শিকার করছে। এছাড়াও সুন্দরবনে জেলেদের ছদ্মবেশে পুরনো বন্যপ্রাণী চোরাকারবারী সিন্ডিকেটের সদস্যরা আবারো বন্যপ্রাণী নিধনের মহোৎসব শুরু করেছে।

সুন্দরবন গবেষক পীযূষ বাউলিয়া পিন্টু জানান, বন্যপ্রাণী শিকার নিষিদ্ধ হলেও আইন অমান্য করে হরিণ শিকার করছে একটি চক্র। সুন্দরবনে দস্যুতার সাথে সাথে ফাঁদ পেতে ও গুলি করে হরিণ শিকার বেড়েছে। এভাবে অবাধে শিকার হলে সুন্দরবনে বাঘ-হরিণের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে উল্লেখ করে পীযূষ বাউলিয়া পিন্টু আরো জানান, সংঘবদ্ধ চোরা শিকারীরা ফাঁদ পেতে হরিণ শিকার করে। আবার গুলি ছুড়েও শিকার করে। পরে মাংস ও চামড়া সুন্দরবনসংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করে। প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের দাপটে জেলেরা বনের ভেতরে ঢুকে বিষ প্রয়োগে মাছ শিকার করছে। এতে শুধু মাছ নয়, প্রায় সব জলজ প্রাণী মারা যাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মোঃ মশিউর রহমান জানান, সুন্দরবনের হরিণ শিকার বন্ধ ও বনদস্যুদের তৎপরতা রোধে ও বনজীবীদের নিরাপত্তায় বন বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে। সুন্দরবন সুরক্ষায় খুব শীঘ্রই বন বিভাগ, কোস্ট গার্ড, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি যৌথ অভিযান পরিচালনা করবে।

বনদস্যু আতংকে সুন্দরবনে মধু আহরণে ভাটা পড়ার শংকা

সুন্দরবন নিউজ২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ২:১৫ অপরাহ্ণ
বনদস্যু আতংকে সুন্দরবনে মধু আহরণে ভাটা পড়ার শংকা

সুন্দরবনে মধু আহরণ মৌসুম শুরু হবে ১ এপ্রিল। ইতোমধ্যে বনে ফুটেছে খলিসা, গরান, পশুর, হারগোজাসহ রঙ-বে-রঙের ফুল। সেই সাথে মৌমাছির গুঞ্জনে মুখর বনাঞ্চল।

এখন অপেক্ষা ১ তারিখের। মধু আহরণে বনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত মৌয়ালরা। তবে, উপকূল জুড়েই বনজীবীদের মধ্যে বিরাজ করছে বনদস্যু আংতক।

ঘ্রাণ ও স্বাদে অতুলনীয় সুন্দরবনের মধু সংগ্রহ করতে ‘জীবনবাজি’ রাখতে হয় মৌয়ালদের। এতো দিন শুধু নদীতে কুমির আর ডাঙায় বাঘের ভয় ছিল তাদের। কিন্তু এবার যুক্ত হয়েছে বনদস্যুদের ভয়।

মৌয়ালরা বলছেন, কয়েকটি দস্যু দল বনে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। বনজীবীদের অপহরণ করে তাদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে অর্থ। পাশাপাশি শারীরিক নির্যাতনের শিকারও হচ্ছে তারা। তাই এবার মধু আহরণে যেতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন মৌয়ালরা।

এতে যেমন মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হওয়ার শংকা রয়েছে, তেমনি জীবিকা সংকটে পড়তে পারে হাজারো মৌয়াল।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১ এপ্রিল থেকে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহের অনুমতি দেওয়া হবে, যা চলবে টানা দুই মাস। এ বছর সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ এলাকায় এক হাজার ১০০ কুইন্টাল মধু এবং ৬০০ কুইন্টাল মোম আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালে সুন্দরবন থেকে ৪ হাজার ৪৬৩ কুইন্টাল মধু আহরণ করা হয়েছিল। ২০২২ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৮ কুইন্টালে। ২০২৩ সালে আরও কমে হয় ২ হাজার ৮২৫ কুইন্টাল। ২০২৪ সালে কিছুটা বেড়ে ৩ হাজার ১৮৩ কুইন্টাল মধু আহরণ করা হয়েছিল। আর ২০২৫ সালে সেটি কমে দাঁড়িয়েছিলো ২ হাজার ৭৬ কুইন্টালে, যা ২০২৪ সাল থেকে তুলনায় প্রায় ৩৫ শতাংশ কম। ২০২৪ সালে প্রায় ৮ হাজার মৌয়াল মধু আহরণে নিয়োজিত ছিলেন। সেটি ২০২৫ সালে নেমে আসে প্রায় ৫ হাজারে।

তবে এবার আরো বেশি কমার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় মৌয়ালরা। কারণ হিসেবে তারা বনে দস্যুতা বৃদ্ধির কথা বলছেন। সাথে সাথে সুন্দরবনের বনদস্যু নির্মূলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা, বুড়িগোয়ালিনী ও মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের একাধিক মৌয়াল জানান, সুন্দরবনে ডাকাতের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর সুন্দরবনে দস্যুদের হাতে অপহরণের ঘটনা বাড়ছেই। এতে করে পরিবার-পরিজনের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে মৌয়ালরা বনে যাওয়ার উৎসাহ হারাচ্ছেন।

সুন্দরবন সংলগ্ন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার হরিনগরের সিংহড়তলী গ্রামের মৌয়াল আমজাদ হোসেন জানান, তিনি ছোটবেলা থেকে জঙ্গলে যান, বাঁদায় (সুন্দরবনে) কোনো দিন বাঘ-কুমিরের ভয় পাননি। গত বছরও তিনি মধু আহরণ করতে গিয়েছিলেন। জঙ্গল এখন ডাকাতে ভরা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একবার ধরা পড়লে আর রক্ষা নেই। তাই ভয়ে এবার মধু কাটা বাদ দিয়ে এলাকায় দিনমজুরি করবো।

গত বছর সুন্দরবনে মধু সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন একই গ্রামের মৌয়াল নেসার আলী গাজী । তিনি জানান, ডাকাতের ভয়ে আগের বছরগুলোর তুলনায় এবার অনেক কম মৌয়াল বনে যাবেন। তিনি আরও বলেন, গতবার আমরা একটি নৌকায় ৭ জন মৌয়াল ছিলাম। এবারও আমরা সেই ৭ জন বাঁদায় যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু যে ডাকাতের কথা শুনতেছি তাতে আর বাঁদায় (সুন্দরবনে) যাওয়া হবে না।

সুন্দরবন ডাকাতমুক্ত না হলে এ পেশা ছেড়ে দেওয়ার চিন্তা করছেন দাবি করে মুন্সিগঞ্জের মৌখালী গ্রামের মৌয়াল বশির আলী মোড়ল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাপ-দাদার পেশা হিসেবে সুন্দরবনে মধু কাটতে যায়, কখনো পিছপা হইনি। আগে বেশ কয়েক বছর বনে ডাকাতির চাপ ছিল না। নির্বিঘ্নে মোম-মধু কেটে আনতে পারতাম। তবে এবার শুনতেছি জঙ্গলে (সুন্দরবনে) বিরাট ডাকাত বেড়েছে। ডাকাতির ভয়ে জঙ্গলে (সুন্দরবনে) যাওয়া মনে হয় ছেড়ে দিতে হবে। শুধু আমি না ভয়ে এলাকার অধিকাংশ মৌয়াল এবার জঙ্গলে (সুন্দরবনে) যাবে না বলে জানিয়েছে।

বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের দাঁতিনাখালী গ্রামের মৌয়াল আবুল সানা বলেন, মধু সংগ্রহ আমাদের প্রধান আয়ের উৎস। কিন্তু এখন বনে গেলে জীবন নিয়ে ফিরতে পারবো কিনা সেই ভয় সবসময় কাজ করে। ডাকাতদের হাতে পড়লে সবকিছু হারাতে হয়। ঋণ করে মহাজনদের কাছ থেকে সুদে টাকা নিয়ে বনে মধু কাটতে গিয়ে ডাকাতদের হাতে ধরা পড়লে সব কিছু হারিয়ে নিঃস্ব হতে হয়। মাঝে ঋণের বোঝা বইতে হয়।

অন্যদিকে, অনেকেই অভিযোগ করছেন বনে নিরাপত্তা জোরদারের পর্যাপ্ত উদ্যোগ নেই। মাঝে মাঝে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চললেও তা স্থায়ী সমাধান দিতে পারছে না বলে দাবি তাদের।

বন বিভাগে বলছে, মৌয়ালদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বন বিভাগ ও কোস্ট গার্ড যৌথভাবে টহল জোরদার করেছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তবে মৌয়ালদের আতঙ্ক পুরোপুরি কাটাতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মোঃ মশিউর রহমান জানান, মৌয়ালদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য তারা কাজ করে যাচ্ছেন। বনাঞ্চলের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি মৌয়ালদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আশা করছি পরিস্থিতি উন্নত হবে।

মার্কিন রণতরী তাড়িয়ে হরমুজ প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিল ইরান

সুন্দরবন নিউজ২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ৭:২৬ অপরাহ্ণ
মার্কিন রণতরী তাড়িয়ে হরমুজ প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিল ইরান

মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর বিশ্বের জ্বালানি করিডোর হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচলে বিঘ্ন তৈরি করে ইরান। একপর্যায়ে ইরানি সেনাদের হামলা থেকে রক্ষা পেতে জ্বালানি ট্যাঙ্কারগুলো সমুদ্রপথটি দিয়ে যাতায়াত বন্ধ করে দেয়।

তবে আরব সাগরে মোতায়েন করা মার্কিন যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের’ কারণে অতি-গুরুত্বপূর্ণ এই পানিপথ নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হচ্ছিল ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে। এবার সেই বাধা দূর হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান।

ইরানি গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, একজন ইরানি নৌ-কমান্ডার এ অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইরান মার্কিন বাহিনীকে তাদের নাগালের মধ্যে আসার জন্য অপেক্ষা করছে এবং তারা উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন।

তিনি দাবি করেছেন, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র অভিযান এবং তৎপরতার মুখে মার্কিন রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’ ইরানের জলসীমা থেকে শত শত মাইল দূরে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে। এতে হরমুজ প্রণালি এখন থেকে বিনাবাধায় এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে তেহরান।

সূত্র: আল জাজিরা।

জাপানের নতুন প্রযুক্তি বদলে দিচ্ছে ডায়াবেটিস চিকিৎসা

সুন্দরবন নিউজ২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
জাপানের নতুন প্রযুক্তি বদলে দিচ্ছে ডায়াবেটিস চিকিৎসা

জাপানের নতুন প্রযুক্তি বদলে দিচ্ছে ডায়াবেটিস চিকিৎসা
জাপানে নতুন এক বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি ডায়াবেটিস চিকিৎসায় বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

জাপানে নতুন এক বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি ডায়াবেটিস চিকিৎসায় বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে ইনসুলিন নেওয়ার জন্য আর ইনজেকশনের প্রয়োজন নাও হতে পারে—এর পরিবর্তে আসতে পারে ইনসুলিন ট্যাবলেট।

দীর্ঘদিন ধরেই বিজ্ঞানীরা ইনসুলিনকে ট্যাবলেট আকারে দেওয়ার চেষ্টা করে আসছেন। তবে মানবদেহের পরিপাকতন্ত্র এ ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাকস্থলীর এনজাইম ইনসুলিনকে ভেঙে ফেলে, ফলে এটি রক্তে পৌঁছাতে পারে না। একই সঙ্গে অন্ত্রেও ইনসুলিন শোষণের জন্য স্বাভাবিক কোনো কার্যকর পদ্ধতি নেই।

কুমামতো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় আশার আলো

জাপানের কুমামতো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা দাবি করেছেন, তারা এই দীর্ঘদিনের সমস্যার সম্ভাব্য সমাধান খুঁজে পেয়েছেন। তাদের উদ্ভাবিত পদ্ধতিতে ব্যবহার করা হয়েছে একটি বিশেষ সাইক্লিক পেপটাইড, যার নাম ‘ডিএনপি পেপটাইড’। এটি ক্ষুদ্রান্ত্রের মধ্য দিয়ে নিরাপদে প্রবেশ করে ইনসুলিনকে রক্তপ্রবাহে পৌঁছাতে সহায়তা করে।

দুটি পদ্ধতিতে পরীক্ষা

গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দুটি ভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করেন। একটিতে ইনসুলিনের সঙ্গে পেপটাইডটি মিশিয়ে দেওয়া হয়। অন্যটিতে ইনসুলিন ও পেপটাইডকে রাসায়নিকভাবে যুক্ত করা হয়।

উভয় পদ্ধতিতেই ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। পরীক্ষাগারে ডায়াবেটিস আক্রান্ত ইঁদুরের রক্তে শর্করার মাত্রা সফলভাবে কমাতে সক্ষম হয়েছে এই নতুন প্রযুক্তি।

গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হলো ইনসুলিনের শোষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি। নতুন পদ্ধতিতে প্রায় ৩৩ থেকে ৪১ শতাংশ পর্যন্ত শোষণ নিশ্চিত হয়েছে, যা আগের প্রচেষ্টাগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। আগে যেখানে অনেক বেশি মাত্রায় ইনসুলিন প্রয়োজন হতো, সেখানে এখন তুলনামূলক কম মাত্রাতেই কার্যকারিতা পাওয়া যাচ্ছে।

মানবদেহে পরীক্ষার অপেক্ষা

এই গবেষণার ফলাফল মলিক্যুলার ফার্মাসিউটিকালসের জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। যদিও এটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, গবেষকরা ইতোমধ্যে বড় প্রাণীর ওপর পরীক্ষা শুরু করেছেন। সফল হলে পরবর্তী ধাপে মানবদেহে পরীক্ষা চালানো হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রযুক্তি সফল হলে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য চিকিৎসা আরও সহজ, আরামদায়ক এবং কম কষ্টদায়ক হয়ে উঠবে।