বনদস্যু আতঙ্কে পেশা ছাড়ছেন সুন্দরবনের বনজীবীরা, পর্যটন খাতেও ধস
সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জে আবারও বাড়ছে বনদস্যু আতঙ্ক। জেলে-বাওয়ালীদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের পাশাপাশি রেহাই পাচ্ছেন না পর্যটকরাও। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দস্যুদের এই লাগামহীন তৎপরতায় একদিকে বনজীবীরা পেশা ছাড়ছেন, অন্যদিকে ধস নেমেছে পর্যটন খাতে। প্রশাসন যৌথ অভিযানের আশ্বাস দিলেও কাটছে না আতঙ্ক।
২০১৮ সালের ১ নভেম্বর সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণার পর স্বস্তি পেয়েছিলেন বনজীবীরা। কিন্তু সেই স্বস্তি এখন অতীত। সাতক্ষীরা রেঞ্জের গহীন অরণ্যে আবারও ফিরছে দস্যুবাহিনী। এখন মাছ, কাঁকড়া বা মধু সংগ্রহ করতে গেলেই দিতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের চাঁদা।
সবশেষ গত ২২ জানুয়ারি মামুন্দো ও মালঞ্চ নদী এলাকা থেকে অস্ত্রের মুখে ২০ জন জেলেকে অপহরণ করে কথিত ‘ডন বাহিনী’। শুধু জেলে নয়, গত ২ জানুয়ারি প্রথমবারের মতো পর্যটক অপহরণের ঘটনাও ঘটে।
স্থানীয় একজন বলেন, পর্যটক কম দেখা যাচ্ছে বনদস্যুদের ভয়ে। এছাড়া জেলেরা ভয়ে সুন্দরবনে যেতে পারছে না। তাদের ধরলে ৫০ হাজার টাকা নেয়। আমার দাবি, সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূল করা হোক, যাতে সুন্দরবন দস্যুমুক্ত থাকে। আরেকজন বলেন, আমরা জেলেরা খুবই বিপদে আছি। জঙ্গলে ধরলে ৫০ হাজার বা ১ লাখ। আমরা গরীব মানুষ। কী করে দেব।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালে এ এলাকায় তিন শতাধিক অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সাতক্ষীরা রেঞ্জে ৪১ হাজার পর্যটক এলেও ২০২৫ সালের প্রথম ৬ মাসে সেই সংখ্যা নামে মাত্র ১৩ হাজারে। এমন পরিস্থিতিতে বনদস্যু দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় একজন বলেন, জলদস্যুদের ভয়ে আছে পর্যটকরা। সে কারণে তারা গহীন সুন্দরবনে যেতে চান না। সে কারণে পর্যটক কমছে। আর আমরা বহু টাকা খরচ করে ট্রলার সংস্কার করেছি, কিন্তু আয় নেই।
বনদস্যুদের রুখতে শিগগিরই সুন্দরবনে যৌথ অভিযানের কথা জানালেন সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর সুন্দরবনে দস্যুদের তৎপরতা বেড়েছে। সুন্দরবন থেকে প্রচুর সম্পদ আহরিত হয়। বাংলাদেশ পুলিশ,কোস্টগার্ড,নৌপুলিশ,র্যাব-সবাইকে নিয়ে আমরা চেষ্টা করছি,নতুন করে যারা দস্যুবৃত্তির তৎপরতা বাড়াচ্ছে,তাদেরকে আইনের আওতায় আনার।
শুধু মৌখিক আশ্বাস নয়, দ্রুত কার্যকর অভিযানের মাধ্যমেই সুন্দরবন আবারও নিরাপত্তা ফিরে পাবে বলে আশা বনজীবীদের।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে সুন্দরবন, সাতক্ষীরা রেঞ্জে ভ্রমণ করেছেন ৪১ হাজার পর্যটক। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ সংখ্যা কমে দাড়িয়েছিল ৩৯ হাজার জনে। আর এ অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে সুন্দরবন ভ্রমণ করেছেন মাত্র ১৩ হাজার পর্যটক।

আপনার মতামত লিখুন