খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২৭শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিকল্প উপায়ে রাজস্ব বাড়ানোর সুপারিশ উচ্চ মূল্যস্ফীতিকে উস্কে দেবে নতুন ভ্যাট

সুন্দরবন নিউজ২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৫, ৭:০৫ পূর্বাহ্ণ
বিকল্প উপায়ে রাজস্ব বাড়ানোর সুপারিশ উচ্চ মূল্যস্ফীতিকে উস্কে দেবে নতুন ভ্যাট

রাজস্ব আদায়ে আইএমএফের শর্ত পূরণ করতে গিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্য ও সেবায় যোগ হচ্ছে বাড়তি করের বোঝা। হঠাৎ ভ্যাট, সম্পূরক শুল্কসহ বিভিন্ন ধরনের কর বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাড়তি করের তালিকায় রয়েছে– ওষুধ, গুঁড়া দুধ, বিস্কুট, জুস, ফলমূল, সাবান, মিষ্টি, মোবাইল ফোনে কথা বলা, ইন্টারনেট ব্যবহার, হোটেল-রেস্তোরাঁ, এলপিজি গ্যাস, বিমানের টিকিটসহ ৪৩ ধরনের পণ্য ও সেবা। অন্তর্বর্তী সরকারের এ সিদ্ধান্ত চলমান উচ্চ মূল্যস্ফীতিকে আরও উস্কে দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেছেন, বর্তমানে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ১১ শতাংশের বেশি। আর খাদ্য মূল্যস্ফীতি প্রায় ১৪ শতাংশ। নতুন করে ৪৩ পণ্য ও সেবার ওপর ভ্যাট ১৫ শতাংশ হলে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে। তারা কর ফাঁকি বন্ধ বা অন্য কোনো কৌশলে রাজস্ব বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে ভ্যাট বাড়লেও সাধারণ মানুষের কষ্ট হবে না বলে দাবি করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থনৈতিক বিষয় ও সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক শেষে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা সাংবাদিকদের বলেন, যেসব পণ্যের ওপর ভ্যাট বাড়ানো হচ্ছে, তাতে জিনিসপত্রের দামের ওপর তেমন প্রভাব পড়বে না। কারণ অত্যাবশ্যকীয় জিনিসপত্রের ওপর সব ভ্যাট শূন্য করে দেওয়া হয়েছে। মূল্যস্ফীতির মূল ইন্ডিকেটর হচ্ছে চাল-ডাল ইত্যাদি।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, তিন তারকার ওপরের রেস্টুরেন্টে ভ্যাট বাড়ানো হচ্ছে। সেখানে কারও খরচের ওপর ১০ টাকা যোগ হলে মনোবেদনার কিছু আছে বলে মনে হয় না। বিমান ভাড়ার ক্ষেত্রে ভ্যাট ২০০ টাকা বাড়ানো হচ্ছে। এটি কেউ দিতে পারবে না বলে মনে হয় না। পৃথিবীর কোনো দেশেই এত কম ট্যাক্স নেই। অন্তর্বর্তী সরকারের পাঁচ মাসের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হচ্ছে–সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, কয়েক হাজার কোটি টাকা ছাড় দেওয়া হয়েছে। আর রাজস্ব ঘাটতি অনেক বেশি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান সমকালকে বলেন, তালিকায় থাকা ওষুধ, পোশাক, রেস্টুরেন্ট, মোবাইল ফোনসহ আরও অনেক কিছুই নিত্যপণ্য। তাছাড়া এগুলোর অজুহাতে অন্য অনেক পণ্যেরও দাম বাড়ানোর সুযোগ খুঁজবেন ব্যবসায়ীরা। কারণ ব্যবসায়ীদের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণ করার সক্ষমতা সরকারের মধ্যে দেখা যাচ্ছে না। এমনিতেই এ মুহূর্তে মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতিই সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময় কিছু ক্ষেত্রে কর ছাড় দেওয়া উচিত। এখন কর বৃদ্ধির যৌক্তিক সময় নয়। এতে করে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই এ বিষয়ে আরও পর্যালোচনার সুযোগ ছিল।

তিনি আরও বলেন, অবশ্যই সরকারকে রাজস্ব আয় বাড়াতে হবে। কিন্তু পরোক্ষ কর বাড়ানোর মাধ্যমে সরকার খুব সহজ পথে হাঁটল। প্রত্যক্ষ কর বাড়ানোর পাশাপাশি করের আওতা বাড়ানো ও কর ফাঁকি বন্ধ করেও রাজস্ব বাড়ানোর চেষ্টা করা দরকার ছিল।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক সদস্য মো. লুৎফর রহমান সমকালকে বলেন, অতীতে অর্থবছরের মাঝামাঝি ভ্যাট বৃদ্ধি খুবই

সীমিত ছিল। এত বড় মাত্রার হঠাৎ বৃদ্ধি আগে দেখা যায়নি। এ ক্ষেত্রে জনগণ কতটুকু গ্রহণ করতে পারবে, সেদিকেও নজর রাখা প্রয়োজন ছিল। প্রায় আড়াই বছরের ব্যবধানে ডলারের বিনিময় মূল্য ৯০ টাকা থেকে ১২৩ টাকায় উন্নীত হয়েছে। এর ফলে জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে, আনুপাতিক হারে বাড়তি দামের ওপর ভ্যাট আদায় হচ্ছে। নতুন করে আবার ভ্যাট বাড়ানো হলে তা মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে। কারণ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ১০ টাকা ভ্যাট বাড়লে পণ্যের দাম বাজারে ৩০ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে।

আইএমএফের পরামর্শের ওপর ভিত্তি করে ভ্যাট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি বলেন, দেশীয় সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব অন্যদের ওপর ছেড়ে দিলে উন্নতি সম্ভব নয়। তার মতে, ভ্যাট হার এক হওয়া ভালো। তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রয়োজনী ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন হারে ভ্যাট প্রযোজ্য রয়েছে।

ভোক্তাদের সংগঠন কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসেন সমকালকে বলেন, ভ্যাটের মতো পরোক্ষ কর বাড়ানো জনগণের প্রতি অবিচার, যা একটি কল্যাণ রাষ্ট্রের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। এটি সাধারণ জনগণের ওপর ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। পণ্যের দাম দীর্ঘদিন ধরে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। এভাবে কর বাড়ালে ভোক্তাদের ওপর চাপ বাড়বে এবং মূল্যস্ফীতির চাপও আরও তীব্র হতে পারে। শুধু আইএমএফের ঋণের শর্ত বাস্তবায়নের জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হলে মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়বে।

বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, করোনা মহামারির পর থেকে হোটেল-রেস্তোরাঁ খাত ভয়াবহ খারাপ সময় পার করছে। এ খাতকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে একটি গোষ্ঠী। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইসহ অন্য কোনো অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি আরও বলেন, সার্বিকভাবে অর্থনীতিতে স্থবিরতা বিরাজ করছে। আগামীতে কী হবে, তা নিয়ে ব্যবসায়ীরা চিন্তিত। এ অবস্থায় ভ্যাট বাড়ানো মানে দেশকে আরও ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া। তাদের দাবি, ভ্যাট বাড়ানো তো যাবেই না বরং কমাতে হবে। সরকারের রাজস্ব বাড়াতে করের আওতা বাড়ানোর পাশাপাশি ফাঁকি রোধ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

জানা গেছে, চলমান ঋণ কর্মসূচির আওতায় চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরেই কর-জিডিপির অনুপাত দশমিক ২ শতাংশ বাড়ানোর শর্ত দিয়েছে আইএমএফ। টাকার অঙ্কে যা ১২ হাজার কোটি টাকার বেশি। এ জন্য মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইনে কিছু সংশোধন আনা হচ্ছে। এসব সংশোধনীসহ মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধনী) অধ্যাদেশ-২০২৫-এর খসড়া গত বুধবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।

সংশোধনীর মাধ্যমে সহজ পন্থায় ভ্যাট আদায় করতে এবারও এনবিআর মোবাইল ফোনে কথা বলা ও ইন্টারনেট খরচকে বেছে নিয়েছে। চলতি বাজেটে মোবাইল ফোনের সম্পূরক শুল্ক এক দফা বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশ করা হয়। আবার বাড়িয়ে তা ২৫ শতাংশ করা হচ্ছে। জীবন রক্ষাকারী ওষুধের দিকেও নজর দেওয়া হয়েছে। সরবরাহ পর্যায়ে ওষুধের ভ্যাট হার ২ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। এলপিজি গ্যাস সরবরাহ পর্যায়ে ভ্যাট ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে।

হোটেল-রেস্তোরাঁয় খাবার খরচও বাড়বে। আগামীতে সব ধরনের হোটেলে খাবার খেতে অতিরিক্ত ১৫ শতাংশ বাড়তি টাকা খরচ করতে হবে, যা সরকার ভ্যাট হিসেবে আদায় করবে। বর্তমানে রেস্তোরাঁয় খেতে ৫ শতাংশ এবং হোটেলে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়। ব্র্যান্ডের পোশাক কেনার খরচও বাড়বে। কারণ তৈরি পোশাকের ভ্যাট ৭ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। আরও দাম বাড়বে গুঁড়া দুধ, বিস্কুট, আচার, টমেটো সস, এইচআর কয়েল, সিআর কয়েল, চশমার ফ্রেম, সানগ্লাস, টয়লেট টিস্যু, মিষ্টি, গাড়ির ওয়ার্কশপ, তাজা-শুকনা সুপারি, ফলের রস, তাজা ফল, সাবান-ডিটারজেন্ট, রং, সিগারেট, বিমানের টিকিট ইত্যাদির।

নারকেলের পানি ডায়াবেটিসের জন্য বন্ধু নাকি সমস্যা

সুন্দরবন নিউজ ২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
নারকেলের পানি ডায়াবেটিসের জন্য বন্ধু নাকি সমস্যা

ডায়াবেটিসে শুধু খাওয়া-দাওয়াই নয়, কী পান করা হচ্ছে তাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় আমরা ভুলে যাই, যে পানীয় আমরা খাই, তা রক্তে শর্করার মাত্রাকে সরাসরি প্রভাবিত করতে পারে। এই কারণে ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ প্রশ্নগুলোর মধ্যে একটি হলো– নারকেলের পানি কি নিরাপদ? নাকি রক্তে চিনি বাড়িয়ে দিতে পারে?

নারকেলের পানি বরাবরই গরমে শরীর ঠান্ডা রাখা, ক্লান্তি দূর করা এবং পটাসিয়াম ও অন্যান্য খনিজ উপাদান দেওয়ার জন্য জনপ্রিয়। এতে থাকে পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন সি ও বিভিন্ন খনিজ, যা শরীরের জন্য উপকারী। কিন্তু ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য চিন্তার বিষয় হলো এতে থাকা প্রাকৃতিক চিনি এবং কার্বোহাইড্রেট।

এক গ্লাস (প্রায় ২৫০ মিলিলিটার) নারকেলের পানিতে থাকে প্রায় ১৫ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট এবং ৮ গ্রাম প্রাকৃতিক চিনি। এই চিনি সরাসরি রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতে পারে।

মুম্বাইয়ের ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ ডা. নিখিল প্রভু বলেন, ‘যদি কারও রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে থাকে, তবে মাঝে মাঝে সীমিত পরিমাণে নারকেলের পানি খাওয়া যেতে পারে। তবে এটিকে ওষুধের মতো ভাবা উচিত নয়।’

গবেষণায় দেখা গেছে, নারকেলের পানির গ্লাইসেমিক ইনডেক্স প্রায় ৫৪, যা কম থেকে মাঝারি স্তরে পড়ে। অর্থাৎ এটি রক্তে চিনি হঠাৎ বাড়ায় না। তবে বেশি পরিমাণে খেলে সমস্যা হতে পারে।

নারকেলের পানিতে থাকা ম্যাগনেসিয়াম ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। টাইপ ২ ডায়াবেটিসে প্রায়ই ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি দেখা যায়, যা রক্তের চিনি নিয়ন্ত্রণে বাধা দেয়। এছাড়াও এতে থাকা পটাসিয়াম এবং এল-আর্জিনিন রক্তনালিগুলো শিথিল করতে সাহায্য করে, ফলে রক্ত চলাচল ভালো থাকে। ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে পায়ের স্নায়ু সমস্যা এবং রক্ত চলাচলের সমস্যা সাধারণ, তাই কিছুটা উপকার পাওয়া সম্ভব।

তবে, যদি কারও রক্তে চিনি খুব বেশি থাকে বা HbA1c প্রায় ৯-১০ শতাংশের কাছাকাছি, তবে নারকেলের পানি এড়ানোই ভালো। প্রতিদিন খেলে ধীরে ধীরে রক্তে চিনি বাড়তে পারে। নিরাপদ উপায় হলো, সপ্তাহে এক বা দুবার অল্প পরিমাণে নারকেলের পানি পান করা এবং তা খাবারের সঙ্গে বা শারীরিক পরিশ্রমের পরে নেওয়া। খালি পেটে বা প্রতিদিন নিয়মিত খাওয়া ঠিক নয়।

সারসংক্ষেপে, নারকেলের পানি ডায়াবেটিসের জন্য ‘বিষ নয়, অমৃতও নয়।’ এটি সঠিক সময়ে এবং সীমিত পরিমাণে পান করলে উপকারী হতে পারে। রক্তের চিনি নিয়মিত পরীক্ষা করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

সূত্র : Health Line

সকলে মিলে দেশ গড়ার সময় এসেছে: সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তারেক রহমান

সুন্দরবন নিউজ ২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১১:৪০ অপরাহ্ণ
সকলে মিলে দেশ গড়ার সময় এসেছে: সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সকলে মিলে দেশ গড়ার সময় এসেছে, এখন বাংলাদেশের মানুষ কথা বলার অধিকার ফিরে পেতে চায়।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর পূর্বাচলের ৩০০ ফিটে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

আজ দুপুর ১২টা ৩৫মিনিটে তিনি বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে একটি বিশেষ বাসে করে ৩০০ ফিটের উদ্দেশে রওনা দেন। দলীয় নেতাকর্মীরা রাস্তার দুধারে হাত নেড়ে তাকে স্বাগত জানান। ৩ ঘণ্টা ১৫ মিনিট পর মঞ্চে পৌঁছান বিএনপি নেতা তারেক রহমান।

এর আগে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বহনকারী বিমানটি বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এর কিছুক্ষণ আগে তারেক রহমান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে আবেগঘন বার্তায় লেখেন, দীর্ঘ ৬ হাজার ৩১৪ দিন পর বাংলাদেশের আকাশে!

এরও আগে, বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত সোয়া ১২টায় লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে ফ্লাইটটি। একই দিন বাংলাদেশ সময় রাত সোয়া ৮টায় লন্ডনের নিজ বাসা ত্যাগ করেন তারেক রহমান। তিনি স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে রাত সোয়া ১০টায় হিথ্রো বিমানবন্দরে পৌঁছান।

শ্যামনগরে সিপিপি কর্মকর্তার অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানববন্ধন।

সুন্দরবন নিউজ ২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১:৫৭ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে সিপিপি কর্মকর্তার অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানববন্ধন।

শ্যামনগরে এক দুর্নীতিগ্রস্ত সিপিপি কর্মকর্তার দুর্নীতি-অনিয়মের বিরুদ্ধে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল ১১ টায় সিপিপি উপজেলা কার্যালয়,(জেসি কমপ্লেক্স)এর সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করে সিপিপি শ্যামনগর পৌরসভার স্বেচ্ছাসেবকবৃন্দ। এতে ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে শ্যামনগর উপজেলা পৌরসভার সমস্ত নারী ও পুরুষ স্বেচ্ছাসেবকগণ অংশ নেয়।

ঘন্টাব্যাপী চলা এই কর্মসূচিতে অংশ নেয় শ্যামনগর পৌরসভার সিপিপি টিম লিডার মোঃ আব্দুর রশিদ নান্টু, ১নং ইউনিট টিম লিডার নজরুল ইসলাম মুন্না, ২ নং ইউনিট টিম লিডার, ভবেসিন্দু মন্ডল, ৩ নং ইউনিট টিম লিডার হাবিবুর রহমান ৪ নং ইউনিট টিম লিডার ইয়াছিন মোড়ল ৫ নং ইউনিট টিম লিডার রবিন্দ্রনাথ মন্ডল ৬ নং ইউনিট টিম লিডার শাহীন ভূইয়া, ৭ নং ইউনিট টিম লিডার আব্দুর রশিদ নান্টু। ৮ নং ইউনিট টিম লিডার হেলাল মাহমুদ, ৯ নং ইউনিট টিম লিডার দেবাশিস গায়েন সহ অন্যান্য রা বক্তব্য রাখেন।

এ সময় বক্তারা বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি(সিপিপি) সহকারী পরিচালক শ্যামনগর মুন্সি নুর মোহাম্মদ, দুর্যোগে কাজ করা সিপিপি সংগঠনকে একটা বাণিজ্যিক সংগঠন হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।

নীতিমালা তোয়াক্কা না করে নিজের মনগড়া ভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসতেছে, সাধারণ স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি করে স্বেচ্ছাসেবী কাজে মনোভাব নষ্ট করছেন।

সিপিপি স্বেচ্ছাসেবক নির্দেশিকা -২০২১ অনুসারে সিপিপিতে যোগদানের বয়স ১৮ থেকে ৩৫ নির্ধারণ থাকলেও এই নীতিমালা অমান্য করে মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নে নিপা চক্রবর্তী নামক একজন ৪০ উর্ধ্ব বয়স নারী স্বেচ্ছাসেবককে নিয়োগ দিয়েছিলেন।

অপর দিকে রমজাননগর ইউনিয়নের তানিয়া নামক ১৬ বছর বয়সের নারী স্বেচ্ছাসেবককে নিয়োগ দিয়েছিলেন ।

কর্মকর্তার আন অফিসিয়াল তার কথা না শোনার কারনে পদ্মপুকুর ইউনিয়নের মাছুরা নামক নারী স্বেচ্ছাসেবককে বিনা কারণে বাদ দেওয়া হয়েছে।

জেলা পরিষদ নির্বাচনে কর্মকর্তার মনোনীত প্রার্থীকে ভোট না দেওয়ার কারণে রমজাননগরের আছমা মেম্বার, ও কৈখালীর রাবিয়া মেম্বারের সিপিপির আই ডি কার্ড দিতে তালবাহানা করেছে।

বক্তারা আরো বলেন:
এভাবে চলতে থাকলে শ্যামনগরের উপকূলীয় আমজনতা সিপিপি থেকে দুর্যোগের সময় সেবা পাবে না:
কর্মকর্তা মুন্সী নুর মোহাম্মদ একের পর এক নিয়ম বহির্ভূত কর্মকাণ্ড করতে থাকে এবং তার সাথে সঙ্গ না দেওয়ায়, শ্যামনগর সদর ইউনিয়ন টিম লিডার মোঃ আব্দুর রশিদ নান্টু নামে বিভিন্নভাবে মিথ্যা হয়রানি মূলক বেনামী অভিযোগ দিয়ে থাকেন ।

সর্বশেষ মোঃ আব্দুর রাজ্জাক নামীয় ব্যক্তির পাঠানো অভিযোগে বিষয়টি পরিষ্কার হয়, মুন্সি নুর মোহাম্মদ, অভিযোগকারীদের স্থানে আব্দুর রাজ্জাকের নাম ব্যবহার করে ইয়াসিন মোড়ল এবং আব্দুর রশিদ নানটুর নামে পুনরায় অভিযোগ করে,
মিটিং সেমিনার কিংবা প্রশিক্ষণ কর্মশালায় স্বেচ্ছাসেবকদের সাথে তুই তুকারি করে কথা বলেন এই কর্মকর্তা।
দুর্যোগের সময় বিশেষ মুহূর্তে অতি প্রয়োজনে কর্মকর্তাকে ফোন করলে ফোন কেটে দেন।
প্রয়োজনে স্বেচ্ছাসেবকরা অফিসে গেলে কর্মকর্তা বিরক্ত বোধ করেন।
স্বেচ্ছাসেবকদের মাঝে একে অপরের সাথে বিরোধ লাগিয়ে স্বার্থ হাসিল করার চেষ্টা করেন এই কর্মকর্তা।

মন:পুত ব্যক্তিদের বিভিন্নভাবে অফিশিয়ালি সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকেন বিশেষ করে যারা তার অনিয়ম কর্মকান্ডের সাথে জড়িত থাকেন।

টাকার বিনিময়ে জাতীয় পুরস্কার পাইয়ে দেওয়ার জন্য প্রকাশ্য সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন,কর্মকর্তা মুন্সি নুর মোহাম্মদ, তার কাছের ব্যক্তি রমজান নগর ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক ফারুক হোসেন কে অফিসের নথি প্রকাশ করে, নায্য পুরষ্কার প্রাপ্য নজরুলের ডকুমেন্টস জাল করে ততকালীন ইউ এন ও কাছে প্রেরণ করে

এসব বিষয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে সাধারণ স্বেচ্ছাসেবকরা মানববন্ধনের মাধ্যমে কর্মকর্তা মুন্সি নুর মোহাম্মদের বদলি চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।