খুঁজুন
শুক্রবার, ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নলতা শরীফের ইফতারে ফুটে ওঠে পরম ভ্রাতৃত্ববোধ

সুন্দরবন নিউজ২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ মার্চ, ২০২৫, ১২:৩১ অপরাহ্ণ
নলতা শরীফের ইফতারে ফুটে ওঠে পরম ভ্রাতৃত্ববোধ

পবিত্র রমজান মাসজুড়ে দেশের সবচেয়ে বড় ইফতার মাহফিল বসে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা রওজা শরীফে। ৯০ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই ইফতার মাহফিলে প্রতিদিন প্রায় ছয় হাজার রোজাদার একেত্রে একই স্থানে বসে ইফতারে অংশ নেন। যা সকলকে পরম ভ্রাতৃত্ববোধের কথা মনে করিয়ে দেয়।

ইফতারে দেওয়া হয় ভুনা ছোলা, সিংগড়া, ফিরনি, সিদ্ধ ডিম, চিড়া, কলা ও খেজুর।

সোমবার (৩ মার্চ) দ্বিতীয় রোজায় সরজমিনে গেলে চোখে পড়ে ইফতার প্রস্তুতের বিশাল কর্মযজ্ঞ। কেউ সিংগড়া বানাচ্ছেন, কেউ ভাজছেন, কেউ প্লেট সাজাতে ব্যস্ত।

সিংগড়া ভাজতে ব্যস্ত মোক্তার হোসেন জানান, তিনি ৩০ বছর যাবত নলতা রওজা শরীফের ইফতার আয়োজনে নিয়োজিত রয়েছে। তার মতোই ২২-২৫ জন ফজরের নামাযের পরপরই ইফতার তৈরির কাজ শুরু করেন। প্রায় ছয় হাজার মানুষের ইফতার তৈরিতে সময় লেগে যায় আছরের নামায পর্যন্ত। তারপর শুরু হয় ইফতার সাজানোর কাজ।

দিন গড়িয়ে ইফতারের সময় যতই ঘনিয়ে আসে, ততই ভরতে থাকে ইফতারের জন্য প্যান্ডেলকৃত বিশাল মাঠ। এই মাঠে বসেই ইফতারে অংশ নেন দূর দূরান্ত থেকে আসা মানুষ।

নলতা রওজা শরীফের ঐতিহ্যবাহী ইফতারে অংশ নিতে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খলিষখালী থেকে গাড়ি ভর্তি করে এসেছিলেন অনেকে। এদের মধ্যে মেহেদী হাসান বলেন, খান বাহাদুর আহ্ছানউল্লাহ (রা.) এর পাক রওজা শরীফ একটি পবিত্র স্থান হিসেবে সমাদৃত। এখানেই দেশের সবচেয়ে বড় ইফতার মাহফিল বসে। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ইফতারে অংশ নিতে নলতায় এসেছি।

নলতা রওজা শরীফ সূত্র জানায়, ১৯৩৫ সালে খান বাহাদুর আহ্ছানউল্লাহ (রা.) নলতা কেন্দ্রীয় আহছানিয়া মিশন প্রতিষ্ঠা করার পর থেকে প্রতি বছরই রমজান মাসব্যাপী ইফতার মাহফিলের আয়োজন করতেন। তার মৃত্যুর পরও মিশন কর্তৃপক্ষ এই মাহফিল অব্যাহত রেখেছে।

বর্তমানে শাহ সুফি হযরত খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লাহ (র.) এর রওজা প্রাঙ্গণেই দেশের সর্ববৃহৎ এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। রমজান মাসের শুরু থেকে প্রতিদিন রওজা শরীফের মাঠে একত্রিত হয়ে ইফতার করেন প্রায় ছয় হাজার মানুষ। মাসজুড়ে চলমান এই ইফতার মাহফিলে অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষও হাজির হন রওজা প্রাঙ্গণে।

স্বেচ্ছাসেবক রাকিব বলেন, এখানে তিনশ স্বেচ্ছাসেবক ইফতার বণ্টনে নিয়োজিত রয়েছে। প্রথমে সারাবিদ্ধভাবে পানির পট ও গ্লাস দেওয়া হয়। এরপর প্লেট সাজিয়ে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়। ইফতারের পূর্ব মুহূর্তে পুরো মাঠ মানুষে ভরে যায়।

নলতা কেন্দ্রীয় আহছানিয়া মিশনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বলেন, নলতা রওজা শরীফের ইফতার মাহফিল দেশজুড়ে সমাদৃত। মূলত হযরত খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লাহ (র.) এর দেশ-বিদেশের অনুসারীদের অর্থায়নে এখানে ইফতার দেওয়া হয়। আমাদের জানা মতে, এটাই দেশের সবচেয়ে বড় ইফতার মাহফিলের আয়োজন। যা রমজান মাসজুড়ে চলে।

আশাশুনিতে খোল‌পেটুয়ার বাধ ভে‌ঙে অন্তত ১০ গ্রাম প্লা‌বিত

সুন্দরবন নিউজ২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ মার্চ, ২০২৫, ৩:৫৩ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে খোল‌পেটুয়ার বাধ ভে‌ঙে অন্তত ১০ গ্রাম প্লা‌বিত

সাতক্ষীরার আশাশুনিতে খোল‌পেটুয়া নদীর বে‌ড়িবাঁধ ভেঙে অন্তত ১০টি গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লা‌বিত হ‌য়ে‌ছে। ভে‌সে গে‌ছে হাজার হাজার বিঘার মৎস‌্য ঘের। এতে গ্রামবাসীর ঈদ আনন্দ নিরানন্দে পরিণত হয়েছে।

সোমবার (৩১ মার্চ) বেলা সা‌ড়ে ১১টার দি‌কে উপ‌জেলার বিছট গ্রামের আব্দুর রহিম সরদারের ঘেরের বাসার কাছ থেকে প্রায় দেড়শ ফুট বেড়িবাঁধ হঠাৎ করে খোলপেটুয়া নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

বিছট গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক নজরুল ইসলাম জানান, সোমবার সকালে আমরা ঈদের নামাজ আদায়ে ব্যস্ত ছিলাম। নামাজ শেষে জানতে পারলাম আব্দুর রহিম সরদারের চিংড়ি ঘরের বাসার কাছ থেকে প্রায় দেড়শ ফুট এলাকা জুড়ে বেড়িবাঁধ হঠাৎ করে খোলপেটুয়া নদীর গর্ভে ধ‌সে প‌ড়ে‌ছে। বিষয়টি গ্রামের মসজিদের মাইকে প্রচার দিয়ে দ্রুত লোকজনকে ভাঙ্গন পয়েন্টে যেতে বলা হয়। গ্রামবাসী স্বেচ্ছা শ্রমের ভিত্তিতে ভাঙ্গন পয়েন্টে একটি বিকল্প রিংবাধ নির্মাণের চেষ্টা ক‌রে। দীর্ঘ সা‌ড়ে তিন ঘণ্টা চেষ্টা ক‌রেও শেষ রক্ষা হয়‌নি। সা‌ড়ে ১১টার দি‌কে প্রবল জোয়া‌রের তো‌ড়ে বা‌ধের অব‌শিষ্টাংশ ভে‌ঙে গি‌য়ে লোকাল‌য়ে পা‌নি ঢুক‌তে শুরু ক‌রে।

স্থানীয়রা জানান, ইতোম‌ধ্যে বিছট, বল্লবপুর, নয়াখালী, আনু‌লিয়াসহ আশপা‌শের আরও ৬টি গ্রা‌মে পা‌নি ঢু‌কে‌ছে। এসব গ্রা‌মের বা‌ড়ি ঘ‌রে পা‌নি ঢু‌কে‌ছে। মৎস‌্য খামার ভে‌সে গে‌ছে। দ্রুততম সম‌য়ে বাধ বাধ‌তে না পার‌লে পার্শ্ববর্তী খাজরা ও বড়দল ইউনিয়নও প্লা‌বিত হ‌তে পা‌রে।

স্থানীয় আনুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুস বলেন, বিছট গ্রামে বেড়িবাঁধ ভাঙনের খবর পেয়ে সাথে সাথে আমি ঘটনাস্থলে যাই। বেড়িবাঁধের প্রায় দেড়শ ফুট এলাকা জুড়ে সম্পূর্ণ খোলপেটুয়া নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বিষয়টি আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলীকে হ‌য়ে‌ছে। পাউবোর লোকজন ছু‌টি‌তে। তারা ফেরার চেষ্টা কর‌ছেন।

সাতক্ষীরা পাউবো বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, বেড়িবাঁধ ভাঙ্গনের খবর পেয়ে আমার ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তাদেরকে সেখানে পাঠানো হয়েছে। দ্রুত পদ‌ক্ষেপ নেওয়া হ‌চ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে।

দেশের আকাশে দেখা গেছে শাওয়াল মাসের চাঁদ, ঈদ কাল

সুন্দরবন নিউজ ২৪ / ন্যাশনাল ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ মার্চ, ২০২৫, ৬:৫৫ অপরাহ্ণ
দেশের আকাশে দেখা গেছে শাওয়াল মাসের চাঁদ, ঈদ কাল

দেশে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেছে। পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে আগামীকাল সোমবার (৩১ মার্চ)। রোববার (৩০ মার্চ) সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা ও পর্যালোচনা কমিটির বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন।

সভা শেষে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, দেশের আকাশে পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেছে। আগামীকাল সোমবারই সারা দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হবে।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনূস।

ঈদের তারিখ চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে এবং তা প্রতিবছরই পরিবর্তিত হয়। সাধারণত চান্দ্র মাস ২৯ বা ৩০ দিনের হয়। তাই মুসলমানদের সাধারণত ঈদের আগের রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় ঈদের তারিখ নিশ্চিত হওয়ার জন্য। শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় এবার ২৯টি রোজা শেষে ঈদ উদ্‌যাপিত হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, আজ রোববার সৌদি আরবসহ বেশ কয়েকটি মুসলিম দেশে ঈদ উদযাপিত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত, তুরস্ক, ইয়েমেন, ফিলিস্তিন, সুদান।

উল্লেখ্য, এক মাস রমজানের রোজা শেষে শাওয়াল মাসের ১ তারিখে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়।

ঈদের নামাজ কিভাবে আদায় করতে হয়

সুন্দরবন নিউজ২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৫, ১:০২ অপরাহ্ণ
ঈদের নামাজ কিভাবে আদায় করতে হয়

বছরে দুটি ঈদ উদযাপন করে থাকেন ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা। যে কারণে অনেকেই ঈদের নামাজের নিয়ত, নিয়ম এবং তাকবির ভুলে যান।

চলুন জেনে নেওয়া যাক ঈদুল ফিতরের নামাজের নিয়ম, তাকবির, দোয়া সম্পর্কে-

ঈদের নামাজের নিয়ত

نَوَيْتُ أنْ أصَلِّي للهِ تَعَالىَ رَكْعَتَيْنِ صَلَاةِ الْعِيْدِ الْفِطْرِ مَعَ سِتِّ التَكْبِيْرَاتِ وَاجِبُ اللهِ تَعَالَى اِقْتَضَيْتُ بِهَذَا الْاِمَامِ مُتَوَجِّهًا اِلَى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اللهُ اَكْبَرْ

উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তাআলা রাকাআতাইন সালাতিল ইদিল ফিতরি মাআ সিত্তাতিত তাকবিরাতি ওয়াঝিবুল্লাহি তায়ালা ইকতাদাইতু বিহাজাল ইমামি মুতাওয়াঝঝিহান ইলা ঝিহাতিল কাবাতিশ শারিফাতি- আল্লাহু আকবার।

অর্থ : আমি ঈদুল ফিতরের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ অতিরিক্ত ৬ তাকবিরের সঙ্গে এই ইমামের পেছনে কেবলামুখী হয়ে আল্লাহর জন্য আদায় করছি- আল্লাহু আকবার।

এবার জেনে নেওয়া যাক ঈদের নামাজ আদায়ের নিয়ম-

‌১. ঈমামের সঙ্গে তাকবিরে তাহরিমা ‘আল্লাহু আকবার’ বলে উভয় হাত বাঁধা।

২. তাকবিরে তাহরিমার পর ছানা পড়া-

‘সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাবারাকাসমুকা ওয়াতাআলা জাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা।

৩. এরপর অতিরিক্ত ৩ তাকবির দেওয়া।

৪. এক তাকবির থেকে আরেক তাকবিরের মধ্যে তিন তাসবিহ পরিমাণ সময় বিরত থাকা।

৫. প্রথম ও দ্বিতীয় তাকবিরে উভয় হাত উঠিয়ে তা ছেড়ে দেওয়া।

৬. তৃতীয় তাকবির দিয়ে উভয় হাত তাকবিরে তাহরিমার মতো বেঁধে নিতে হয়।

৭. আউজুবিল্লাহ-বিসমিল্লাহ পড়া

৮. সুরা ফাতেহা পড়া

৯. সুরা মিলানো। এরপর নিয়মিত নামাজের মতো রুকু ও সেজদার মাধ্যমে প্রথম রাকাত শেষ করা।

দ্বিতীয় রাকাত

১. বিসমিল্লাহ পড়া

২. সুরা ফাতেহা পড়া

৩. সুরা মিলানো।

৪. সুরা মিলানোর পর অতিরিক্ত ৩ তাকবির দেওয়া।

৫. প্রথম ও দ্বিতীয় তাকবিরে উভয় হাত উঠিয়ে তা ছেড়ে দেওয়া।

৬. তৃতীয় তাকবির দিয়ে উভয় হাত তাকবিরে তাহরিমার মতো বেঁধে নিতে হয়।

৭. এরপর রুকুর তাকবির দিয়ে রুকুতে যাওয়া।

৮. সেজদা আদায় করা।

৯. বৈঠকে বসা; তাশাহহুদ, দরূদ, দোয়া মাসুরা পড়ে সালাম ফেরানোর মাধ্যমে নামাজ সম্পন্ন করা।

১০. নামাজের সালাম ফেরানোর পর তাকবির পড়া-

اَللهُ اَكْبَر اَللهُ اَكْبَر لَا اِلَهَ اِلَّا اللهُ وَاللهُ اَكْبَر اَللهُ اَكْبَروَلِلهِ الْحَمْد

উচ্চারণ : আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবর ওয়া লিল্লাহিল হামদ।

১১. নামাজের পর ইমাম সাহেবের দুটি খুতবা দেওয়া।

ঈদের নামাজ পড়ার পর ইমাম খুতবা দেবে আর মুসল্লিরা খুতবা মনোযোগের সঙ্গে শুনবেন। অবশ্য অনেকেই খুতবা না দেওয়ার ব্যাপারে শিথিলতার কথা বলেছেন। খুতবা না দিলেও ঈদের নামাজ আদায় হয়ে যাবে বলে মত দিয়েছেন।

অতিরিক্ত তাকবির

অতিরিক্ত তাকবিরের ক্ষেত্রে অন্যান্য মাজহাবসহ অনেকেই প্রথম রাকাতে তাকবিরে তাহরিমাসহ ৭ তাকবির আর দ্বিতীয় রাকাআতে ৫ তাকবিরে দিয়ে থাকেন। যদি কেউ অতিরিক্ত ৬ তাকবির দেয় কিংবা অতিরিক্ত ১১ তাকবির দেয় তাতে নামাজের অসুবিধা হবে না বরং নামাজ হয়ে যাবে।

ঈদের নামাজে তাকবির পড়া

ঈদের চাঁদ দেখার পর থেকে অর্থাৎ ৩০ রমজান ইফতারের পর প্রথম কাজই হচ্ছে তাকবির তথা আল্লাহর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা। আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে তাকবির পড়া। এটিই ঈদের প্রথম কাজ। আল্লাহ তায়ালা কোরআনুল কারিমেও তাকবির পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন এভাবে-

وَلِتُكْمِلُواْ الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُواْ اللّهَ عَلَى مَا هَدَاكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ

‘আর তোমাদের আল্লাহতাআলার মহত্ত্ব বর্ণনা করো, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার করো।’( সুরা বাকারা : আয়াত ১৮৫)

তাকবির হলো-

اَللهُ اَكْبَر اَللهُ اَكْبَر لَا اِلَهَ اِلَّا اللهُ وَاللهُ اَكْبَر اَللهُ اَكْبَروَلِلهِ الْحَمْد

উচ্চারণ : ‘আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবর ওয়া লিল্লাহিল হামদ।’

ঈদের নামাজে পর কিছু দিক-নির্দেশনা-

১. ঈদের সময় মুসলমানদের মাঝে পরস্পর শুভেচ্ছা বিনিময় মুস্তাহাব।

২. ঈদে আনন্দিত হওয়া এবং আনন্দ প্রকাশ করা মুস্তাহাব। আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও মুসলিম ভাইবোনদের মধ্যে শুভেচ্ছা বিনিময়ও মুস্তাহাব।

৩. ঈদ একটি সুযোগ, যা আত্মীয়তা-সম্পর্ক জোড়া লাগানো এবং যাদের মধ্যে ঝগড়া হচ্ছে তাদের মিলিয়ে দেয়ার সর্বোত্তম সময়।

ঈদে পরিবারের সদস্যদের জন্য ভালো খাবার ও কাপড় চোপড় ও বৈধ বিনোদনের ব্যবস্থা করা জায়েজ। ঈদ হলো খুশি-আনন্দের উপলক্ষ। আল্লাহতায়ালা আনন্দ প্রকাশকে নিষিদ্ধ করেননি। আল্লাহতায়ালা কোরআন মাজিদে বলেছেন-

( قُلۡ بِفَضۡلِ ٱللَّهِ وَبِرَحۡمَتِهِۦ فَبِذَٰلِكَ فَلۡيَفۡرَحُواْ هُوَ خَيۡرٞ مِّمَّا يَجۡمَعُونَ )

বল, আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমতে। সুতরাং এ নিয়েই যেন তারা খুশি হয়। এটি যা তারা জমা করে তা থেকে উত্তম। সূরা ইউনুস:৫৮