খুঁজুন
শুক্রবার, ৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জামায়াতের সঙ্গে বিরোধ, নির্বাচন নিয়ে শঙ্কায় বিএনপি

সুন্দরবন নিউজ২৪ /ন্যাশনাল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৬:৩০ অপরাহ্ণ
জামায়াতের সঙ্গে বিরোধ, নির্বাচন নিয়ে শঙ্কায় বিএনপি

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সরকারের সঙ্গে রাজনীতির ময়দান থেকে বিদায় নিতে হয়েছে আওয়ামী লীগকে। বিদ্যমান এমন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিনের মিত্র থেকে বিপরীত দুই মেরুতে পৌঁছেছে বিএনপি ও জামায়াত।

নির্বাচন ও সংস্কার ইস্যুতে দুটি দলের মধ্যে বিরোধ ক্রমেই বাড়ছে।

এই মুহূর্তে অন্যতম দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে বাড়তে পারে জটিলতা। আবার বিএনপি নেতাদের শঙ্কা— দেশে নির্বাচন পেছানোর ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচন ও সংস্কার বাস্তবায়ন নির্ভর করবে সরকারের আন্তরিকতা ও দৃঢ়তার ওপর।

বিএনপি জাতীয় নির্বাচনের আগে সংস্কার ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন চায় না। অন্যদিকে জামায়াতের অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত। দলটি সংস্কার ছাড়া নির্বাচন চায় না। আবার জাতীয় নির্বাচনের আগে চায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন। জামায়াতের সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতিরও পুরোপুরি বিপরীত অবস্থানে বিএনপি।

অতীতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম করা দুই রাজনৈতিক মিত্র নির্বাচনের দিনক্ষণ নিয়েও বিরোধে নেমেছে। বিএনপি দ্রুত জাতীয় নির্বাচন চায়। দলটি বলছে, নির্বাচিত সরকার এসে সংস্কার করবে। অন্যদিকে জামায়াত নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার চায় এবং সংস্কার বাস্তবায়নে নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী সরকারকে যৌক্তিক সময় দিতে চায়।

এদিকে বিএনপি নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, দেশে নির্বাচন পেছানোর ষড়যন্ত্র হচ্ছে। নির্বাচন নিয়ে ‘টালবাহানা’ শুরু হয়েছে— এমন অভিযোগ এনে নেতারা দ্রুত নির্বাচন চাচ্ছেন। হুঁশিয়ারিও উচ্চারণ করছেন বিএনপির অনেক নেতা।
নির্বাচন ও সংস্কার নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের বিরোধ যেখানে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ (সিইসি) নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সাংবাদিকদের বলেন, আমরা (নির্বাচন কমিশনকে) পরিষ্কার বলেছি ‘নো ইলেকশন উইদাউট রিফর্মস (সংস্কার ছাড়া নির্বাচন নয়)। ’

সংস্কারের জন্য জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনের আগে সময় দিতে প্রস্তুত জানিয়ে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘নির্বাচন নিরপেক্ষ করার জন্য যে সংস্কার ন্যূনতম প্রয়োজন, তার জন্য যতটা যৌক্তিক সময় প্রয়োজন হবে, জামায়াতে ইসলামী সেই সময়টা দিতে প্রস্তুত। ’

জামায়াতের এ শীর্ষ নেতা বলেন, ‘মাস আমাদের কাছে কোনো ফ্যাক্টর নয়, সংস্কারটা পূর্ণ করে নির্বাচন ফেয়ার করার জন্য যে কয়েক মাসই লাগুক, আমরা প্রস্তুত রয়েছি। ’

তিনি বলেন, ‘আমরা পুরো রাষ্ট্রের সংস্কারের কথা বলিনি। তা করতে গেলে অনেক সময় লাগবে। অন্তত নির্বাচনের সঙ্গে রাষ্ট্রের যেসব প্রতিষ্ঠান জড়িত, সেগুলোর সংস্কার করে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করতে হবে। তা না হলে এই নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না, অবাধ হবে না। ’

একইদিন বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক বিফ্রিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘যত দ্রুত নির্বাচন হবে ততই রাজনীতি সহজ হবে। বাংলাদেশ স্থিতিশীল হয়ে আসবে। ’

দ্রুত জাতীয় নির্বাচন কেন জরুরি— সেই ব্যাখ্যা দিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘নির্বাচনটা হওয়া দরকার, এর প্রধান দুটি কারণ আছে, একটি হলো স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, আরেকটি হলো গভর্ন্যান্স (সুশাসন) চালু করা। এখন তো গভর্ন্যান্সে খুব সমস্যা হচ্ছে, এটি কার্যকর করলেই তখন দেখবেন অর্থনীতি ভালো হয়ে আসছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ছে। নির্বাচিত সরকার না হলে এটি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। ’

জামায়াত জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন চায়— জানিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছিলেন, ‘জনগণের আকাঙ্ক্ষাই হলো— স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগে হোক। আমরা জনগণের এই আকাঙ্ক্ষাকে সমর্থন এবং সম্মান করি। ’

জাতীয় নির্বাচনের আগে জামায়াতের স্থানীয় সরকার নির্বাচন চাওয়ার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘এটাতেও আমরা একেবারেই একমত নই। এটা দেশকে আরও ভঙ্গুর অবস্থায় নিয়ে যাওয়ারপরিকল্পনা ছাড়া আর কিছু নয়। ’

এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনকে জামায়াত সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতি চালুর প্রস্তাব দিয়েছে জানিয়ে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল বলেছিলেন, ‘আধুনিক গণতান্ত্রিক বিশ্বে ৬০টিরও বেশি দেশে এ ব্যবস্থা রয়েছে। ’

জামায়াতের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির অবস্থান বিষয়ে বলেন, ‘এটাতে আমরা পুরোপুরি বিরোধী। জোরোলোভাবে বিরোধী। আনুপাতিক হারে নির্বাচনের কোনো ব্যবস্থাকে আমরা সমর্থন করব না। কারণ এখানকার মানুষ এতে অভ্যস্ত নয়। এরকম ভোটের প্রশ্নই উঠতে পারে না। ’

বিএনপির সঙ্গে ভিন্ন অবস্থান বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক দেশে নানা ইস্যুতে ভিন্নমত থাকতেই পারে। এ নিয়ে আমাদের কোনো মন্তব্য নেই। আমরা একটা মত দিয়েছি, অন্য দলের ভিন্নমত থাকতেই পারে। এটিই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। ’

সবশেষ ১৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ঐকমত্য কমিশনের বৈঠক শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা আশা করি খুব দ্রুততম সময় সংস্কার শেষ করে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমরা স্পষ্ট করে বলেছি, আগে জাতীয় নির্বাচন, তারপর স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে। ’

একই দিন ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘আমরা বলেছি যে সংস্কার প্রয়োজন। সেই সংস্কারে আমরা ঐকমত্য হই, তারপর যথাশিগগির সম্ভব নির্বাচন হবে। প্রধান উপদেষ্টা তো বলেছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে ওনারা করবেন। আমরা সেটা দেখছি। ’

বিএনপি নেতাদের বক্তব্যে নির্বাচন নিয়ে ‘আশঙ্কা’

‘যত দ্রুত নির্বাচন হবে, ততই রাজনীতি সহজ হবে, বাংলাদেশ স্থিতিশীল হয়ে আসবে’— মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এ বক্তব্য ছাড়াও দ্রুত নির্বাচন নিয়ে নিয়মিত কথা বলছেন দলের অন্য শীর্ষ নেতারা।

কিছু রাজনৈতিক দল নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা করছে মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস গত ১৪ ফেব্রুয়ারি নয়াপল্টনে এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘এই সরকারকে বলতে চাই, আপনারা ডিসেম্বরের ঘোষণা দিয়েছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন দিন। আমরা সব সময় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। ’

কিছু রাজনৈতিক দল বিভিন্নভাবে নির্বাচন নিয়ে কথা বলছে অভিযোগ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আরে ভাই, আপনাদের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে ২০০৮ সালে বিএনপি এবং আমাদের জোট নির্বাচনে গিয়েছিল, ফলে বাংলাদেশের অনেক নামিদামি, অনেক বিখ্যাত-প্রখ্যাত মানুষকে প্রাণ দিতে হয়েছে ফাঁসির কাষ্ঠে। ওই রকম ভুল আর করবেন না দয়া করে। একটি ভুল লাখ লাখ মানুষের জীবন কেড়ে নিতে পারে। সুতরাং নির্বাচন নিয়ে কোনো টালবাহানা করবেন না। ’

সবশেষ ১৫ ফেব্রুয়ারি সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ‘রোড টু ইলেকশন’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘প্রথম হলো জাতীয় সংসদ নির্বাচন, যে নির্বাচনের মাধ্যমে একটা সরকারের পরিবর্তন হয়। সেই মূল কাজটা বাদ দিয়ে আমরা যদি সাবসিডিয়ারি কাজ শুরু করে দিই, তাহলে এটা খুব একটা গ্রহণযোগ্য হবে না। এটা হতে পারে না। ’

শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, ‘বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী শক্তি ১৬ বছর হাসিনার কাছে মাথানত করেনি। জাতীয় নির্বাচন নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র হলেও আমরা আল্লাহ ছাড়া আর কারো কাছে মাথানত করব না। ’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘এখন নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা শুরু হয়েছে। কেউ মনে হয় একটু যেন গোলমাল করে ফেলছে। কোথায় যেন একটা কীসের ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। ’

বিএনপি-জামায়াতের বিরোধ ইস্যুতে কী বলছেন বিশ্লেষকরা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কোন দল কতটা চাপ দিচ্ছে, এ বিবেচনায় যদি অন্তর্বর্তী সরকার কোনো নির্দিষ্ট দলকে প্রাধান্য না দেয়, তাহলে নির্বাচন ও সংস্কার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব পড়বে না। আর রাজনৈতিক মাঠে যেহেতু বিএনপি ও জামায়াত ছাড়া তৃতীয় আর কোনো বড় শক্তি নেই, সেহেতু তাদের মধ্যে বিরোধ হবে, এটাই রাজনীতির ধর্ম। এক্ষেত্রে দল দুটি যদি গঠনমূলক রাজনৈতিক চর্চা করে, তবেই তা দেশ ও জনগণের জন্য কল্যাণকর হবে।

দীর্ঘদিনের মিত্র বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যকার বিরোধ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে সবসময় মিত্রতা থাকে না। তাহলে রাজনীতি হয় না। একটা রাজনৈতিক দলের একটা স্বতস্ত্র রাজনীতি থাকবে, রাজনৈতিক পরিচয় থাকবে। সে তার প্রয়োজন মতো রাজনীতি করবে। প্রয়োজনে অন্য দলের সঙ্গে সে মিত্রতা করবে। সেটা হয়, সারা দুনিয়াতেই হচ্ছে। কোয়ালিশন রাজনীতি হয়, অ্যালায়েন্স পলিটিক্স হয়। আবার সেই অ্যালায়েন্স ভেঙেও যায়।

নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে— বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেই দল (বিএনপি) হয়তো কোন হিন্টস (ইঙ্গিত) পেয়েছে (নির্বাচন) পিছিয়ে যাওয়ার।

নির্বাচন পেছানোর ক্ষেত্রে বিএনপি-জামায়াতের বিরোধ কী ধরনের প্রভাব ফেলবে? এমন প্রশ্নের জবাবে সাব্বির আহমেদ বলেন, এটা কোনো প্রভাব ফেলবে না। সিদ্ধান্ত নেবে তো সরকার। কোন তারিখে নির্বাচন হবে, সরকারই সিদ্ধান্ত নেবে। সেখানে আমি কোনো সমস্যা দেখি না। এটি সরকারকে চাপে রাখার কৌশলও হতে পারে।
এখন পর্যন্ত দেশে নির্বাচন নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র দেখছেন না বলেও মনে করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক।

নারকেলের পানি ডায়াবেটিসের জন্য বন্ধু নাকি সমস্যা

সুন্দরবন নিউজ ২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
নারকেলের পানি ডায়াবেটিসের জন্য বন্ধু নাকি সমস্যা

ডায়াবেটিসে শুধু খাওয়া-দাওয়াই নয়, কী পান করা হচ্ছে তাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় আমরা ভুলে যাই, যে পানীয় আমরা খাই, তা রক্তে শর্করার মাত্রাকে সরাসরি প্রভাবিত করতে পারে। এই কারণে ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ প্রশ্নগুলোর মধ্যে একটি হলো– নারকেলের পানি কি নিরাপদ? নাকি রক্তে চিনি বাড়িয়ে দিতে পারে?

নারকেলের পানি বরাবরই গরমে শরীর ঠান্ডা রাখা, ক্লান্তি দূর করা এবং পটাসিয়াম ও অন্যান্য খনিজ উপাদান দেওয়ার জন্য জনপ্রিয়। এতে থাকে পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন সি ও বিভিন্ন খনিজ, যা শরীরের জন্য উপকারী। কিন্তু ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য চিন্তার বিষয় হলো এতে থাকা প্রাকৃতিক চিনি এবং কার্বোহাইড্রেট।

এক গ্লাস (প্রায় ২৫০ মিলিলিটার) নারকেলের পানিতে থাকে প্রায় ১৫ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট এবং ৮ গ্রাম প্রাকৃতিক চিনি। এই চিনি সরাসরি রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতে পারে।

মুম্বাইয়ের ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ ডা. নিখিল প্রভু বলেন, ‘যদি কারও রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে থাকে, তবে মাঝে মাঝে সীমিত পরিমাণে নারকেলের পানি খাওয়া যেতে পারে। তবে এটিকে ওষুধের মতো ভাবা উচিত নয়।’

গবেষণায় দেখা গেছে, নারকেলের পানির গ্লাইসেমিক ইনডেক্স প্রায় ৫৪, যা কম থেকে মাঝারি স্তরে পড়ে। অর্থাৎ এটি রক্তে চিনি হঠাৎ বাড়ায় না। তবে বেশি পরিমাণে খেলে সমস্যা হতে পারে।

নারকেলের পানিতে থাকা ম্যাগনেসিয়াম ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। টাইপ ২ ডায়াবেটিসে প্রায়ই ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি দেখা যায়, যা রক্তের চিনি নিয়ন্ত্রণে বাধা দেয়। এছাড়াও এতে থাকা পটাসিয়াম এবং এল-আর্জিনিন রক্তনালিগুলো শিথিল করতে সাহায্য করে, ফলে রক্ত চলাচল ভালো থাকে। ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে পায়ের স্নায়ু সমস্যা এবং রক্ত চলাচলের সমস্যা সাধারণ, তাই কিছুটা উপকার পাওয়া সম্ভব।

তবে, যদি কারও রক্তে চিনি খুব বেশি থাকে বা HbA1c প্রায় ৯-১০ শতাংশের কাছাকাছি, তবে নারকেলের পানি এড়ানোই ভালো। প্রতিদিন খেলে ধীরে ধীরে রক্তে চিনি বাড়তে পারে। নিরাপদ উপায় হলো, সপ্তাহে এক বা দুবার অল্প পরিমাণে নারকেলের পানি পান করা এবং তা খাবারের সঙ্গে বা শারীরিক পরিশ্রমের পরে নেওয়া। খালি পেটে বা প্রতিদিন নিয়মিত খাওয়া ঠিক নয়।

সারসংক্ষেপে, নারকেলের পানি ডায়াবেটিসের জন্য ‘বিষ নয়, অমৃতও নয়।’ এটি সঠিক সময়ে এবং সীমিত পরিমাণে পান করলে উপকারী হতে পারে। রক্তের চিনি নিয়মিত পরীক্ষা করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

সূত্র : Health Line

সকলে মিলে দেশ গড়ার সময় এসেছে: সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তারেক রহমান

সুন্দরবন নিউজ ২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১১:৪০ অপরাহ্ণ
সকলে মিলে দেশ গড়ার সময় এসেছে: সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সকলে মিলে দেশ গড়ার সময় এসেছে, এখন বাংলাদেশের মানুষ কথা বলার অধিকার ফিরে পেতে চায়।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর পূর্বাচলের ৩০০ ফিটে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

আজ দুপুর ১২টা ৩৫মিনিটে তিনি বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে একটি বিশেষ বাসে করে ৩০০ ফিটের উদ্দেশে রওনা দেন। দলীয় নেতাকর্মীরা রাস্তার দুধারে হাত নেড়ে তাকে স্বাগত জানান। ৩ ঘণ্টা ১৫ মিনিট পর মঞ্চে পৌঁছান বিএনপি নেতা তারেক রহমান।

এর আগে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বহনকারী বিমানটি বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এর কিছুক্ষণ আগে তারেক রহমান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে আবেগঘন বার্তায় লেখেন, দীর্ঘ ৬ হাজার ৩১৪ দিন পর বাংলাদেশের আকাশে!

এরও আগে, বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত সোয়া ১২টায় লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে ফ্লাইটটি। একই দিন বাংলাদেশ সময় রাত সোয়া ৮টায় লন্ডনের নিজ বাসা ত্যাগ করেন তারেক রহমান। তিনি স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে রাত সোয়া ১০টায় হিথ্রো বিমানবন্দরে পৌঁছান।

শ্যামনগরে সিপিপি কর্মকর্তার অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানববন্ধন।

সুন্দরবন নিউজ ২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১:৫৭ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে সিপিপি কর্মকর্তার অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানববন্ধন।

শ্যামনগরে এক দুর্নীতিগ্রস্ত সিপিপি কর্মকর্তার দুর্নীতি-অনিয়মের বিরুদ্ধে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল ১১ টায় সিপিপি উপজেলা কার্যালয়,(জেসি কমপ্লেক্স)এর সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করে সিপিপি শ্যামনগর পৌরসভার স্বেচ্ছাসেবকবৃন্দ। এতে ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে শ্যামনগর উপজেলা পৌরসভার সমস্ত নারী ও পুরুষ স্বেচ্ছাসেবকগণ অংশ নেয়।

ঘন্টাব্যাপী চলা এই কর্মসূচিতে অংশ নেয় শ্যামনগর পৌরসভার সিপিপি টিম লিডার মোঃ আব্দুর রশিদ নান্টু, ১নং ইউনিট টিম লিডার নজরুল ইসলাম মুন্না, ২ নং ইউনিট টিম লিডার, ভবেসিন্দু মন্ডল, ৩ নং ইউনিট টিম লিডার হাবিবুর রহমান ৪ নং ইউনিট টিম লিডার ইয়াছিন মোড়ল ৫ নং ইউনিট টিম লিডার রবিন্দ্রনাথ মন্ডল ৬ নং ইউনিট টিম লিডার শাহীন ভূইয়া, ৭ নং ইউনিট টিম লিডার আব্দুর রশিদ নান্টু। ৮ নং ইউনিট টিম লিডার হেলাল মাহমুদ, ৯ নং ইউনিট টিম লিডার দেবাশিস গায়েন সহ অন্যান্য রা বক্তব্য রাখেন।

এ সময় বক্তারা বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি(সিপিপি) সহকারী পরিচালক শ্যামনগর মুন্সি নুর মোহাম্মদ, দুর্যোগে কাজ করা সিপিপি সংগঠনকে একটা বাণিজ্যিক সংগঠন হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।

নীতিমালা তোয়াক্কা না করে নিজের মনগড়া ভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসতেছে, সাধারণ স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি করে স্বেচ্ছাসেবী কাজে মনোভাব নষ্ট করছেন।

সিপিপি স্বেচ্ছাসেবক নির্দেশিকা -২০২১ অনুসারে সিপিপিতে যোগদানের বয়স ১৮ থেকে ৩৫ নির্ধারণ থাকলেও এই নীতিমালা অমান্য করে মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নে নিপা চক্রবর্তী নামক একজন ৪০ উর্ধ্ব বয়স নারী স্বেচ্ছাসেবককে নিয়োগ দিয়েছিলেন।

অপর দিকে রমজাননগর ইউনিয়নের তানিয়া নামক ১৬ বছর বয়সের নারী স্বেচ্ছাসেবককে নিয়োগ দিয়েছিলেন ।

কর্মকর্তার আন অফিসিয়াল তার কথা না শোনার কারনে পদ্মপুকুর ইউনিয়নের মাছুরা নামক নারী স্বেচ্ছাসেবককে বিনা কারণে বাদ দেওয়া হয়েছে।

জেলা পরিষদ নির্বাচনে কর্মকর্তার মনোনীত প্রার্থীকে ভোট না দেওয়ার কারণে রমজাননগরের আছমা মেম্বার, ও কৈখালীর রাবিয়া মেম্বারের সিপিপির আই ডি কার্ড দিতে তালবাহানা করেছে।

বক্তারা আরো বলেন:
এভাবে চলতে থাকলে শ্যামনগরের উপকূলীয় আমজনতা সিপিপি থেকে দুর্যোগের সময় সেবা পাবে না:
কর্মকর্তা মুন্সী নুর মোহাম্মদ একের পর এক নিয়ম বহির্ভূত কর্মকাণ্ড করতে থাকে এবং তার সাথে সঙ্গ না দেওয়ায়, শ্যামনগর সদর ইউনিয়ন টিম লিডার মোঃ আব্দুর রশিদ নান্টু নামে বিভিন্নভাবে মিথ্যা হয়রানি মূলক বেনামী অভিযোগ দিয়ে থাকেন ।

সর্বশেষ মোঃ আব্দুর রাজ্জাক নামীয় ব্যক্তির পাঠানো অভিযোগে বিষয়টি পরিষ্কার হয়, মুন্সি নুর মোহাম্মদ, অভিযোগকারীদের স্থানে আব্দুর রাজ্জাকের নাম ব্যবহার করে ইয়াসিন মোড়ল এবং আব্দুর রশিদ নানটুর নামে পুনরায় অভিযোগ করে,
মিটিং সেমিনার কিংবা প্রশিক্ষণ কর্মশালায় স্বেচ্ছাসেবকদের সাথে তুই তুকারি করে কথা বলেন এই কর্মকর্তা।
দুর্যোগের সময় বিশেষ মুহূর্তে অতি প্রয়োজনে কর্মকর্তাকে ফোন করলে ফোন কেটে দেন।
প্রয়োজনে স্বেচ্ছাসেবকরা অফিসে গেলে কর্মকর্তা বিরক্ত বোধ করেন।
স্বেচ্ছাসেবকদের মাঝে একে অপরের সাথে বিরোধ লাগিয়ে স্বার্থ হাসিল করার চেষ্টা করেন এই কর্মকর্তা।

মন:পুত ব্যক্তিদের বিভিন্নভাবে অফিশিয়ালি সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকেন বিশেষ করে যারা তার অনিয়ম কর্মকান্ডের সাথে জড়িত থাকেন।

টাকার বিনিময়ে জাতীয় পুরস্কার পাইয়ে দেওয়ার জন্য প্রকাশ্য সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন,কর্মকর্তা মুন্সি নুর মোহাম্মদ, তার কাছের ব্যক্তি রমজান নগর ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক ফারুক হোসেন কে অফিসের নথি প্রকাশ করে, নায্য পুরষ্কার প্রাপ্য নজরুলের ডকুমেন্টস জাল করে ততকালীন ইউ এন ও কাছে প্রেরণ করে

এসব বিষয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে সাধারণ স্বেচ্ছাসেবকরা মানববন্ধনের মাধ্যমে কর্মকর্তা মুন্সি নুর মোহাম্মদের বদলি চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।