খুঁজুন
বুধবার, ১৫ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তেলের পর পানি যেভাবে হয়ে উঠছে ইরান যুদ্ধে বড় অস্ত্র

সুন্দরবন নিউজ২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ২:১৮ অপরাহ্ণ
তেলের পর পানি যেভাবে হয়ে উঠছে ইরান যুদ্ধে বড় অস্ত্র

প্রাকৃতিক সম্পদ ফুরিয়ে যাওয়া নিয়ে সংঘাতের মতো দুঃস্বপ্নের কাহিনি সিনেমায় বা গল্পে পড়ি আমরা। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরায়েলের যুদ্ধ যতই নিবিড় হচ্ছে, ততই যেন ওই গল্প বা সিনেমার দৃশ্যগুলোর কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে রূঢ় বাস্তবটা।

এই যুদ্ধটা শুরু হয়েছিল তেলকে কেন্দ্র করে। এই অঞ্চলে বহু দিন ধরে পশ্চিমা হস্তক্ষেপের কারণ হয়ে থেকেছে ওই তেল।

তবে এখন যুদ্ধের পরিধি যত বিস্তৃত হচ্ছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য দেশগুলোও জড়িত হয়ে পড়ছে, এরকম পরিস্থিতিতে কয়েকজন বিশেষজ্ঞ বলছেন, আরেকটি নাজুক প্রাকৃতিক সম্পদও সংঘাতের কারণ হয়ে উঠতে পারে। তা হলো পানি।

বিশ্বের মাত্র ২% মিষ্টি পানির সরবরাহ রয়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলে। তাই সমুদ্রের পানিকে লবণ-মুক্ত করার ওপরেই এই অঞ্চলকে খুব বেশি নির্ভর করতে হয়। জ্বালানি তেল শিল্প ১৯৫০ সালের পর থেকে যত এগিয়ে গেছে, তার সঙ্গেই চাপ পড়েছে মিষ্টি পানির সীমিত সরবরাহের ওপরে।

ফ্রেঞ্চ ইনস্টিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস্ জানাচ্ছে, কুয়েতের ৯০% পানি আসে লবণ-মুক্ত করার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। ওমানে ৮৬%, সৌদি আরবে ৭০% আর সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৪২% মিষ্টি পানিই ওই প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে আসে।

ওমানের সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্ট, ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার সায়েন্সের ড. উইল লা কেন বিবিসির নিউজডে অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘উপসাগরীয় অঞ্চলের লবণ-মুক্তকরণ কারখানাগুলি ২০২১ সালে প্রতিদিন মোট দুই কোটি কিউবিক মিটার (এক কিউবিক মিটার, এক হাজার লিটারের সমান) পানি টেনে নিত। এই পরিমাণ পানি দিয়ে অলিম্পিক্স মানের আট হাজার সুইমিং পুল ভর্তি করা যাবে।

পানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে কেন লক্ষ্যবস্তু করছে ইরান?
এই অঞ্চলের কৃষি আর খাদ্য উৎপাদনও লবণ-মুক্তকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরবরাহ করা পানির ওপরে নির্ভর করে, কারণ, যে ভূগর্ভস্থ পানি আগে সেচের কাজে ব্যবহার করা হত, সেই জল-স্তর অনেক নীচে নেমে গেছে।

এজন্যই পানি সরবরাহের পরিকাঠামো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র আর ইরান – উভয়ই চাইছে এটা ব্যবহার করতে।

বিশ্লেষকরা বলছেন যে, সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরায়েলকে মোকাবিলা করার থেকে বরং সংঘাতের পরিধি নানা ক্ষেত্রে ছড়িয়ে দেওয়ার কৌশল নিয়েছে তেহরান। পানি সরবরাহের অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা সম্ভবত ইরানের সেই কৌশলেরই অংশ, যদিও বলা হচ্ছে যে এগুলো প্রতিশোধ নেওয়া।

কাতারের নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মার্ক ওয়েন জোনস্ বলছেন, ‘যদি উপসাগরীয় অঞ্চলের সরকারগুলো দেখে যে তাদের পানি সরবরাহের অবকাঠামোর ওপরে হামলা হচ্ছে, তাহলে এটা খুবই সম্ভব যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের ওপরে যুদ্ধ শেষ করার জন্য চাপ তৈরি করবে। ইরানের হামলাগুলোর লক্ষ্য হচ্ছে একটা আতঙ্ক তৈরি করা, যাতে বেসামরিক নাগরিকরা ‘থাকবেন না পালাবেন’, সেই সিদ্ধান্তের ওপরে প্রভাব বিস্তার করা যায়।

সমুদ্রের পানি লবণ-মুক্তকরণ কারখানায় হামলা
বাহরাইন ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে যে তাদের একটি লবণ-মুক্তকরণ কারখানার ওপরে সরাসরি হামলা করা হয়েছে। তবে ইরান পাল্টা জবাবে বলেছে যে যুক্তরাষ্ট্র আগে হরমুজ প্রণালীর কেশম্ দ্বীপের একটি পানি কারখানায় হামলা চালিয়ে ক্ষতি করে দিয়েছিল।

দুবাইয়ের জেবেল আলি বন্দরে ইরান যে হামলা চালায়, তার কাছেই অবস্থিত রয়েছে বিশ্বের অন্যতম সব থেকে বড়ো পানি লবণ-মুক্ত করার কারখানাটি।

আবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাতেও একটি পানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে আগুন ধরে গিয়েছিল। যদিও কর্মকর্তারা বলছেন যে ওই কারখানাটি আংশিকভাবে সচল আছে।
কুয়েতের দোহা ওয়েস্ট কারখানাটিরও ক্ষতি হয়েছে, যদিও সেখানে সরাসরি হামলা হয়নি। কাছাকাছি বন্দরে ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হলে সেখানকার ধ্বংসাবশেষ উড়ে এসে কারখানাটিতে আছড়ে পড়ে।

ইউনাইটেড নেশনস্ ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট ফর ওয়াটার, এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড হেল্থের প্রধান, অধ্যাপক কাভেহ্ মাদানি বিবিসিকে বলেছেন, ‘ইরানের জন্য এটা একটা সংকেত দেওয়ার কৌশল।’

ইরান অবশ্য যে কোনো হামলাকেই তাদের ওপরে হামলার জবাব আখ্যা দিয়ে সেগুলিকে ‘ন্যায়সংগত’ বলে দাবি করছে। বিশেষত কেশম্ দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার বদলা যে বাহরাইনে তাদের জবাবি হামলা, সেটাও বলেছে ইরান।

গুরুত্বপূর্ণ পানি সরবরাহের অবকাঠামোর ওপরে চালানো হামলা থেকে বোঝা যায় যে যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের জবাব দিতে ইরান কতদূর পর্যন্ত যেতে পারে।

তবে অধ্যাপক মাদানি মনে করেন, নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু হিসাবে উপসাগরীয় অঞ্চলের বহুমূল্য পানি সরবরাহ অবকাঠামোর ওপরে দীর্ঘস্থায়ী আক্রমণ করতে পারে, এই আতঙ্ক জিইয়ে রাখাতেই ইরানের শক্তি। এর অর্থ এই নয় যে ভবিষ্যতে নিশ্চিতভাবে তারা এ ধরনের হামলা চালাবে।

তার কথায়, ‘ঐতিহাসিকভাবে, পানি সবসময়েই হুমকি দেওয়ার অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে।’

মার্কিন ঘনিষ্ঠ দেশগুলিতে পানি-নিরাপত্তা কি নড়বড়ে?
মি. মাদানি বলছিলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে পানি লবণ-মুক্তকরণ কারখানাগুলোতে সরাসরি আর সুস্পষ্ট হামলার ব্যাপারে তেহরান যে দৃশ্যত কিছুটা সাবধানতা আর সংযম দেখাচ্ছে, তা সম্ভবত জেনেভা কনভেনশনের ৪৫ নম্বর ধারার কারণে। আবার তাদের নিজেদের হামলাগুলিকে যাতে জবাবি হামলা বলে চালানো যায়, সেই প্রচেষ্টাও আছে।

‘আইন বলছে যে বেসামরিক স্থাপনায় আক্রমণ করা যায় না, তবে শুরু তো ইরান করেনি। আব্বাস আরাঘচির সামাজিক মাধ্যমের পোস্টে সেটাই তো লেখা হয়েছে’ — ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গিটা নিজের কথায় বলছিলেন মি. মাদানি।

কেশম্ দ্বীপে হামলার ঘটনাটিকে আরাঘচি ‘এক বিপজ্জনক প্রচেষ্টা, যার পরিণতি হবে গুরুতর…নির্লজ্জ এবং মরিয়া হয়ে যাওয়া অপরাধ’। তিনি এও লিখেছিলেন যে ওই হামলায় অনেকগুলি গ্রামে পানি সরবরাহ সীমিত হয়ে গেছে।

দীর্ঘস্থায়ী হোক বা না হোক, এই ঘটনাগুলিই প্রমাণ করে যে জল-নিরাপত্তার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ রাষ্ট্রগুলির অবস্থা কতটা নড়বড়ে। দুর্বলতা ইরানেরও আছে, তবে মি. মাদানি বলছিলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রতিবেশী দেশগুলির তুলনায় ইরানের পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বৈচিত্র আছে, তারা লবণ-মুক্তকরণ প্রক্রিয়ার ওপরে অনেকটা কম নির্ভরশীল।

তবুও অন্যান্য পর্যবেক্ষকরা বলছেন গুরুত্বপূর্ণ পানি সরবরাহের পরিকাঠামোর ওপরে উপসাগরীয় অঞ্চলে যে হামলা চালিয়েছে ইরান, এবার তাদের দেশের পরিকাঠামোর ওপরেও পাল্টা আক্রমণের সম্ভাবনা নিজেরাই তৈরি করেছে।

বেশ কিছুদিন যাবৎ ইরান এক ‘চূড়ান্ত জলের আকালের’ মুখোমুখি হচ্ছে। কম বৃষ্টিপাত, ‘রাজধানীর শতাব্দী প্রাচীন জল সরবরাহ ব্যবস্থায় ফুটো হয়ে যাওয়া’ এবং ইসরায়েলের সঙ্গে গত বছরের ‘১২ দিনের যুদ্ধ’ – সব মিলিয়েই এই ঘাটতি, জানিয়েছেন শক্তি মন্ত্রী আব্বাস আলিয়াবাদি।

দেশের বিভিন্ন জায়গায় বাঁধগুলির অবস্থা ইতোমধ্যেই ‘উদ্বেগজনক অবস্থায়’ আছে, বলছিলেন ইরানের ন্যাশানাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট অ্যান্ড ড্রট ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টের আহমাদ ভাজিফেহ্। যে-সব বড়ো ভূগর্ভস্থ শিলাস্তরে জল পাওয়া যায়, সেখান থেকে অতিরিক্ত পানি তুলে নেওয়া হয়েছে, জায়ানদেহ্ রু দর মতো নদীগুলি হ্রাস পেয়েছে আর লেক উর্মিয়া ব্যাপকভাবে ছোট হয়ে এসেছে।

ফ্রেড পিয়ার্সের মতো পরিবেশবিদরা বলছেন যে অনেক দশক ধরে বাঁধ নির্মাণ, পানি নির্ভর কৃষিকাজ আর অব্যবস্থাপনা পরিস্থিতিকে আরও ঘোরালো করে তুলেছে। কোনো এলাকায় তো ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন এত বেশি পরিমাণে হয়েছে, যে মাটি বসে যাওয়ার মতো গুরুতর ঘটনাও ঘটেছে।

সরকারি কর্মকর্তারা তো এমন হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন যে একদিন হয়ত তেহরানেও নিয়ন্ত্রণ চালু করতে হবে বা আংশিকভাবে শহর খালি করে দিতে হবে।

ইরানের সঙ্গে প্রতিবেশীদের পানি নিয়ে যেসব বিবাদ
গবেষকদের একাংশ মনে করেন যে এই সমস্যাটা একদিকে যেমন পরিবেশগত ভাবে, তেমনই জাতীয় নিরাপত্তার দিক থেকেও হুমকি। এর ফলে ইরানের অভ্যন্তরীণ স্থিতাবস্থার ওপরে যেমন প্রভাব পড়বে, তেমনই দেশটির অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাও প্রভাবিত হবে। এর ওপরে তো যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরায়েলের সঙ্গে কয়েক সপ্তাহের তুমুল সংঘাত পরিস্থিতি আরও খারাপ করে তুলেছে।

যুদ্ধের আগেই পানির অভাব ইরানে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছিল। খুজেস্তান, ইশফাহান সহ অন্যান্য জায়গায় বিক্ষোভের সময়ে আরও বিভিন্ন বৃহত্তর ইস্যু, যেমন জীবনযাত্রার খরচ এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি ইত্যাদির সঙ্গে মিশে গিয়েছিল পানির সংকটও।

পানি নিয়ে ইরানকে যে-সব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, তার মাঝেই এসেছে আঞ্চলিক উত্তেজনা। হেলমন্দ নদী নিয়ে আফগানিস্তানের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছে, আবার টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীগুলির ওপরে বাঁধ নির্মাণ নিয়ে তুরস্কের সঙ্গে সমস্যা আছে। অন্যদিকে ইরাকের সঙ্গে অভিন্ন জলপথ নিয়েও ইরানের বিরোধ আছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের পানি সরবরাহ যে কতটা ভঙ্গুর অবস্থায় আছে, তা এই যুদ্ধের ফলে সামনে এলো। এছাড়াও পানি সরবরাহ যে সংঘাতের সময়ে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, সেই দিকটাও উন্মোচিত হলো। তেল আর গ্যাসের মজুতের মতো কারণগুলির সঙ্গেই পরিবেশগত চাপও এখন সংঘাতের ব্যাপ্তি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে।

ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের সংঘাতগুলি শুধুই আর তেল বা গ্যাসের পাইপলাইন বা জ্বালানিবাহী জাহাজের ওপরে নির্ধারিত হবে না। তার সঙ্গেই নদী, ভূগর্ভস্থ পানির আধার আর পানি লবণ-মুক্তকরণ কারখানা নিয়েও সংঘাত বাঁধবে। তা চলতি সংঘাতের ক্ষেত্রে যেমন বাস্তব, তেমনটাই ভবিষ্যতেও।

হতে পারে পানি হয়ত তখন তেলের থেকে ভারী হয়ে উঠবে।

শেন ওয়ার্নের মৃত্যু নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তাঁর ছেলের

সুন্দরবন নিউজ ২৪ স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:১০ অপরাহ্ণ
শেন ওয়ার্নের মৃত্যু নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তাঁর ছেলের

২০২২ সালের ৪ মার্চ না ফেরার দেশে চলে যান শেন ওয়ার্ন। তবে অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি লেগস্পিনারের মৃত্যুর চার বছর পেরিয়ে গেলেও আলোচনা এখনো শেষ হয়নি। তাঁর মৃত্যু নিয়ে শোনা যাচ্ছে একের পর এক রহস্যময় তথ্য। অজি কিংবদন্তি লেগস্পিনারের ছেলে এবার বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন।

শেন ওয়ার্ন যখন মারা যান, তখন কোভিড-১৯ অতিমারির প্রাদুর্ভাব কিছুটা হলেও ছিল। কোয়ারেন্টিন অবস্থা থেকে বেরোলেও অনেকেই প্রতিষেধক হিসেবে টিকা নিয়েছিলেন। যেটার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে শিশু ও বৃদ্ধদের। ৫২ বছর বয়সী ওয়ার্নও নিয়েছিলেন টিকা। তাঁর ছেলে জ্যাকসনের দাবি জোর করে টিকা দেওয়াতেই মূলত অজি কিংবদন্তির মৃত্যু ত্বরান্বিত হয়েছিল।

কদিন আগে ‘টু ওয়ার্ল্ডস কোলাইড’ নামক এক পডকাস্টে এসেছিলেন জ্যাকসন। সেখানে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে ওয়ার্নের মৃত্যুতে করোনা টিকার কোনো প্রভাব ছিল কি না। উত্তরে জ্যাকসন বলেন, ‘আমি নিশ্চিত এখানে টিকা জড়িত ছিল।বাবার যদি আগে কোনো শারীরিক সমস্যা থাকেও টিকার কারণে সেটা প্রকট হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। খবরটা পেয়েই আমার মনে হচ্ছিল কোভিডের টিকার কথা।’

২০২২ সালে থাইল্যান্ডের কোহ সামুইতে হার্ট অ্যাটাক করে মৃত্যুবরণ করেন ওয়ার্ন। মৃত্যুর পর থাই পুলিশ তাঁর ঘর থেকে কিছু ওষুধ সরিয়ে ফেলেছে বলে অভিযোগও উঠেছিল। এমনকি অস্ট্রেলিয়ার প্রয়াত কিংবদন্তির শরীরে উত্তেজক ওষুধও পাওয়া গিয়েছিল। তবে তাঁর ছেলে জ্যাকসন তা অস্বীকার করেছেন।

৮০০ উইকেট নিয়ে টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী মুত্তিয়া মুরালিধরন। এই তালিকায় লঙ্কান কিংবদন্তির পরই শেন ওয়ার্ন। ১৪৫ টেস্টে নিয়েছেন ৭০৮ উইকেট। ৩৭ বার নিয়েছেন ইনিংসে পাঁচ উইকেট। ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়েছেন ১০ বার। ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার প্রয়াত কিংবদন্তি লেগস্পিনার পেয়েছেন ২৯৩ উইকেট। আর ২০০৮ আইপিএলে তাঁর নেতৃত্বে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল রাজস্থান রয়্যালস।

কিংবদন্তি উসাইন বোল্টের রেকর্ড ভাঙলেন গাউট

সুন্দরবন নিউজ২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৫৪ অপরাহ্ণ
কিংবদন্তি উসাইন বোল্টের রেকর্ড ভাঙলেন গাউট

সিডনির ট্রাকে ঝড় তুললেন ১৮ বছরের এক তরুণ। তার নাম গাউট গাউট। মাত্র ১৯.৬৭ সেকেন্ডে ২০০ মিটার দৌড় শেষ করে জিতে নিলেন জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের স্বর্ণপদক। সেইসঙ্গে তোলপাড় করেছেন রেকর্ড বুক।

অনূর্ধ্ব-২০ পর্যায়ে নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন গাউট। ভেঙে দিলেন কিংবদন্তি উসাইন বোল্টের রেকর্ড। ১৮ বছর বয়সে বোল্টের দ্রুততম সময় ছিল ১৯.৯৩ সেকেন্ড। গাউট সময় নিলেন তার চেয়েও কম।

অস্ট্রেলিয়ার অ্যাথলেটিকস ইতিহাসে গাউটই প্রথম। এর আগে কোনো অজি স্প্রিন্টার ২০ সেকেন্ডের নিচে ২০০ মিটার শেষ করতে পারেননি। এমন দুর্দান্ত কীর্তি গড়ার পর গাউট বললেন, ‘আমি এর জন্যই অপেক্ষা করছিলাম।’

কিছুদিন ধরেই গাউটকে উসাইন বোল্টের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। তার লম্বা ধাপে পা ফেলা, সোজা হয়ে দৌড়ানো এবং শেষ দিকের বিধ্বংসী গতির কারণে তাকে ‘পরবর্তী বোল্ট’ বলছেন অনেকেই।

গাউটের নজর এখন আসন্ন অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপের দিকে। তিনি বলেন, ‘আমি এখনো মাত্র ১৮ বছর বয়সী। আমি অবশ্যই আরও জোরে দৌড়াতে পারি।’

বোল্টের সঙ্গে তুলনা প্রসঙ্গে তিনি বেশ বিনয়ী। তিনি বলেন, ‘দিন শেষে আমি তো আমিই। আমি আমার কাজ করছি। আমার কোনো চাপ নেই। ট্র্যাকে নামলে শুধু ট্র্যাক আর আমার স্পাইক নিয়েই ভাবি।’

সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন কারামুক্ত

সুন্দরবন নিউজ২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:২১ অপরাহ্ণ
সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন কারামুক্ত

হত্যাচেষ্টা মামলায় দুপুরে জামিন পাওয়ার পর কারামুক্ত হলেন সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।

রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হন তিনি।

কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার কাওয়ালিন নাহার বলেন, কারাগারে জামিননামা পৌঁছানোর পরই যথাযথ প্রক্রিয়া অনুযায়ী একটু আগে তাকে (সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী) রিলিজ করা হয়েছে।

মামলার সূত্রে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে গত বছরের ১৮ জুলাই রাজধানীর লালবাগ থানাধীন আজিমপুর সরকারি কলোনির ভেতরে অন্যান্য আন্দোলনকারীর সঙ্গে মিছিল করছিলেন মো. আশরাফুল ওরফে ফাহিম নামে এক ব্যক্তি। ঘটনার দিন আসামিদের ছোঁড়া গুলিতে তার বাম চোখ নষ্ট হয়ে যায়। গত ১৭ জুলাই লালবাগ থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন আশরাফুল।

‘স্বল্প সময়ে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তিকরণ সংসদীয় গণতন্ত্রের অনন্য নজির’

এর আগে, তার আইনজীবী এ বি এম হামিদুল মিজবাহ জানিয়েছিলেন, আর কোনো মামলায় আটকাদেশ না থাকায় শিরীন শারমিনের কারামুক্তিতে বাধা নেই।