সৌদিসহ মধ্যপ্রাচ্যের তিন দেশে হামলা, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের তিন দেশে হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে দেশগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া হামলায় বিদেশি নাগরিকও নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওমানের সোহর প্রদেশে ড্রোন হামলায় দুইজন নিহত হয়েছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার জানিয়েছে, শুক্রবার সকালে একটি ড্রোন আল-আওয়াহি শিল্প এলাকায় আঘাত হানে। এতে দুইজন বিদেশি নাগরিক নিহত হন এবং আরও কয়েকজন আহত হন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আরেকটি ড্রোন খোলা জায়গায় পড়ে গেলেও সেখানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।
এর আগে বুধবার ওমানের সালালাহ বন্দরের জ্বালানি ট্যাংকে ড্রোন হামলা হয়। তবে ওই হামলায় নিজেদের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইরান। দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, এই হামলার ফলে তেল বা জ্বালানি সরবরাহে কোনো ধরনের ব্যাঘাত ঘটেনি। এদিকে বেসরকারি সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ভ্যানগার্ড টেক জানিয়েছে, হামলার পর সালালাহ বন্দরের দক্ষিণ অংশের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
এদিকে শুক্রবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের ডিপ্লোম্যাটিক কোয়ার্টার লক্ষ্য করে আসা একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী। এই এলাকায় বিভিন্ন বিদেশি দূতাবাস রয়েছে। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, একই সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও তিনটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়। এছাড়া কেন্দ্রীয় ও পূর্বাঞ্চল, আল-খারজ গভর্নরেট এবং রিয়াদের পশ্চিমে আরও আটটি ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে।
এর আগে কয়েকে ধাপে মোট ১৪টি ড্রোন ধ্বংস করার কথা জানিয়েছিল সৌদি কর্তৃপক্ষ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহরের কেন্দ্রস্থলে একটি ভবনে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়েছে। দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হামলাটি প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। দুবাই মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর যৌথ হামলা চালানোর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই হামলায় প্রায় ১ হাজার ৩০০ জন নিহত এবং ১০ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এর জবাবে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে ইসরায়েল, জর্ডান, ইরাক এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি থাকা উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।

আপনার মতামত লিখুন