খুঁজুন
সোমবার, ৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৩শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হরমুজ খোলার হুমকি ট্রাম্পের, ইরান বললো ‘চাবি হারিয়ে গেছে’!

সুন্দরবন নিউজ২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৫১ অপরাহ্ণ
হরমুজ খোলার হুমকি ট্রাম্পের, ইরান বললো ‘চাবি হারিয়ে গেছে’!

হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও হুমকির জবাবে ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। দেশটি রসিকতার সুরে বলেছে, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের ‘চাবি হারিয়ে গেছে’।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে জিম্বাবুয়েতে অবস্থিত ইরানের দূতাবাস জানায়, তারা ‘চাবি খুঁজে পাচ্ছে না’। একইভাবে দক্ষিণ আফ্রিকায় ইরানের মিশনও মজার ছলে মন্তব্য করে—‘চাবিটি ফুলের টবের নিচে, তবে এটি শুধু বন্ধুদের জন্য।’

এই মন্তব্যগুলোর মাধ্যমে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর দেওয়া আলটিমেটামকে কটাক্ষ করা হয়েছে। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ চালু না হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালানো হতে পারে।

উল্লেখ্য, বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রুট। এটি বন্ধ থাকায় ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর যৌথ হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া সংঘাত এখন পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

অন্যদিকে ইরান সতর্ক করে জানিয়েছে, তাদের বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা চালানো হলে তারা ‘ধ্বংসাত্মক’ পাল্টা জবাব দেবে। ইতোমধ্যে তারা আঞ্চলিক বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে বলেও জানা গেছে।

চলমান এই সংঘাতে হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে এবং এটি আরও বড় আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান না এলে এই সংকট বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্য কি নতুন যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে?

সুন্দরবন নিউজ২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১:১৫ অপরাহ্ণ
মধ্যপ্রাচ্য কি নতুন যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে?

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি ঐতিহাসিকভাবেই একটি ‘পাউডার কেগ’ বা বারুদের স্তূপের ওপর দণ্ডায়মান।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি ঐতিহাসিকভাবেই একটি ‘পাউডার কেগ’ বা বারুদের স্তূপের ওপর দণ্ডায়মান, যেখানে সামান্যতম কৌশলগত বিচ্যুতিও দীর্ঘমেয়াদী আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার সূত্রপাত ঘটাতে সক্ষম। তবে সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপটে ইরানকে লক্ষ্য করে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জারি করা ‘১০ দিনের আল্টিমেটাম’ কেবল আঞ্চলিক উত্তেজনার পারদকেই ঊর্ধ্বমুখী করেনি, বরং তা সমকালীন বৈশ্বিক নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর এক গুরুতর অশনিসংকেত হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের নিকট এটি এখন গভীর পর্যালোচনার বিষয়—এই চরম সময়সীমা নির্ধারণ কি কেবলই জবরদস্তিমূলক কূটনীতির একটি কৌশলগত প্রক্ষেপণ, নাকি এটি সুপরিকল্পিত কোনো পূর্ণমাত্রার সামরিক মহাপ্রলয়ের সোপান?

আন্তর্জাতিক রাজনীতির অভিধানে ‘আল্টিমেটাম’ শব্দটি একটি চূড়ান্ত এবং অনমনীয় সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত। যখন যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি বৈশ্বিক সামরিক ও অর্থনৈতিক পরাশক্তি কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রের ওপর নির্দিষ্ট সময়সীমা আরোপ করে, তখন ভূ-রাজনৈতিক মানদণ্ডে এটি প্রতীয়মান হয় যে, প্রচলিত কূটনৈতিক পথগুলো প্রায় রুদ্ধ হয়ে এসেছে। তবে ইতিহাসের নির্মোহ বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ ধরনের চরম সময়সীমা অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি যুদ্ধের সূচনা না হয়ে বরং ‘সাইকোলজিকাল ওয়ারফেয়ার’ বা মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের একটি অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়—যার লক্ষ্য প্রতিপক্ষকে চাপের মুখে নতিস্বীকারে বাধ্য করা।

ইরানের জন্য এ জাতীয় বহিঃশক্তির চাপ কিংবা বৈরী আচরণ নতুন কোনো অভিজ্ঞতা নয়। কয়েক দশক ধরে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার বিরুদ্ধে লড়াই করেই তেহরান তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতির সমীকরণ অত্যন্ত জটিল ও সংবেদনশীল। একদিকে নিবিড় পারমাণবিক কর্মসূচি, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের ভূখণ্ডে বিস্তৃত আঞ্চলিক প্রক্সি রাজনীতির প্রভাব—সব মিলিয়ে উত্তেজনার পারদ এখন এমন এক চরম বিন্দুতে অবস্থান করছে, যেখানে সামান্য একটি কৌশলগত ভুল বা অনাকাঙ্ক্ষিত ‘স্ফুলিঙ্গ’ সমগ্র অঞ্চলে এক অনিয়ন্ত্রিত দাবানল সৃষ্টি করতে পারে।

প্রথাগত যুদ্ধ বনাম আধুনিক যুদ্ধের বহুমাত্রিক রূপরেখা

যদি প্রশ্ন করা হয়—বিশ্ব কি নতুন কোনো মহাযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে? তবে এর উত্তর বর্তমানের পরিবর্তিত রণকৌশলের প্রেক্ষাপটে খুঁজতে হবে। আধুনিক রণক্ষেত্রে বিজয় এখন আর কেবল ‘ট্যাংক আর মিসাইলের’ সরাসরি সংঘর্ষের ওপর নির্ভর করে না। বর্তমান বিশ্ব ‘হাইব্রিড ওয়ারফেয়ার’ বা বহুমুখী যুদ্ধের এক জটিল আবর্তে প্রবেশ করেছে, যেখানে যুদ্ধের ময়দান ভৌগোলিক সীমানা ছাড়িয়ে ডিজিটাল ও অর্থনৈতিক বলয়ে বিস্তৃত।

এই আধুনিক যুদ্ধের প্রধান স্তম্ভগুলো হলো:

সাইবার ডোমেইন: কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ডিজিটাল আক্রমণের মাধ্যমে পঙ্গু করে দেওয়া।

ইকোনমিক স্টেটক্রাফট: কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে একটি রাষ্ট্রের আর্থিক মেরুদণ্ড ও সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে দেওয়া।

ইনফরমেশন ওয়ারফেয়ার ও প্রক্সি কনফ্লিক্ট: তথ্যের বিকৃতি ঘটিয়ে জনমতকে প্রভাবিত করা এবং সরাসরি যুদ্ধে না জড়িয়ে মিত্রগোষ্ঠীর মাধ্যমে পরোক্ষ লড়াই চালিয়ে যাওয়া।

যুক্তরাষ্ট্রের এই ১০ দিনের আল্টিমেটাম যদি সরাসরি সামরিক অভিযানে রূপ না-ও নেয়, তবে এটি ইরানকে অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগতভাবে ‘আইসোলেটেড’ বা বিচ্ছিন্ন করার একটি চূড়ান্ত ধাপ হতে পারে।

পারমাণবিক সংঘাতের আশঙ্কা: একটি তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ

এই উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে একটি বড় প্রশ্ন হলো—পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কোনো আশংকা আছে কি না? আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ‘ডিটারেন্স থিওরি’ বা নিবৃত্তিকরণ তত্ত্ব অনুযায়ী, পারমাণবিক অস্ত্র মূলত যুদ্ধ করার জন্য নয়, বরং যুদ্ধ ঠেকানোর একটি মনস্তাত্ত্বিক ঢাল হিসেবে কাজ করে।

মিউচুয়ালি অ্যাসিওরড ডেসট্রাকশন: তাত্ত্বিকভাবে, কোনো পক্ষই আগে পারমাণবিক হামলা চালাতে চাইবে না, কারণ তার প্রতিক্রিয়ায় নিজের ধ্বংসও অনিবার্য। তবে ইরানের ক্ষেত্রে শঙ্কাটা অন্য জায়গায়। যদি ইরান এই ১০ দিনের চাপে পিষ্ট হয়ে তাদের পারমাণবিক সক্ষমতাকে ‘ব্রেকআউট টাইম’ (পারমাণবিক বোমা তৈরির চূড়ান্ত পর্যায়) পর্যন্ত নিয়ে যায়, তবে ইসরাইল বা যুক্তরাষ্ট্র ‘প্রি-এমপ্টিভ স্ট্রাইক’ বা আগাম হামলা চালাতে পারে।

ট্যাকটিক্যাল বনাম স্ট্র্যাটেজিক উইপন: পূর্ণমাত্রার পারমাণবিক যুদ্ধের চেয়েও ভয়ের কারণ হলো ‘ট্যাকটিক্যাল নিউক্লিয়ার উইপন’ বা স্বল্পপাল্লার পারমাণবিক অস্ত্রের সীমিত ব্যবহার। যদি প্রথাগত যুদ্ধে কোনো পক্ষ অস্তিত্ব সংকটে পড়ে, তবে তারা যুদ্ধের মোড় ঘুরাতে এ ধরনের ক্ষুদ্র পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের পথে হাঁটতে পারে, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতির ভাষায় কৌশল হিসেবে পরিচিত। সংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্রের এই আল্টিমেটাম ইরানকে এমন এক কোণঠাসা অবস্থায় ঠেলে দিতে পারে, যেখানে ইরান তাদের পারমাণবিক সক্ষমতাকে চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার চেষ্টা করবে। আর এই চেষ্টাই বিশ্বকে একটি সম্ভাব্য পারমাণবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিতে পারে।

বৈশ্বিক শক্তির মেরুকরণ

ওয়াশিংটনের এই আল্টিমেটামের প্রভাব বলয় কেবল যুক্তরাষ্ট্র বা ইরানের দ্বিপাক্ষিক পরিসীমায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি বর্তমানের ‘মাল্টি-পোলার’ বা বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থার এক কঠিন পরীক্ষা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক গবেষকদের মতে, ইউক্রেন আক্রমণ এবং গাজা সংকটের পর বিশ্বরাজনীতি এখন স্পষ্টত দুটি শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছে, যেখানে চীন, রাশিয়া এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবস্থানই আগামীর বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা নির্ধারণ করবে।

গবেষক হাল ব্র্যান্ডস-এর মতে, চীন ও রাশিয়া এখন আর কেবল বিচ্ছিন্ন শক্তি নয়, বরং তারা ইরানকে পশ্চিমা আধিপত্যের বিরুদ্ধে একটি ‘কৌশলগত বাফার’ হিসেবে ব্যবহার করে একটি শক্তিশালী ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ গড়ে তুলেছে। এমতাবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র কোনো একপাক্ষিক সামরিক পদক্ষেপ নিলে রাশিয়ার উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং চীনের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের প্রচেষ্টা এই আঞ্চলিক সংকটকে নিমেষেই একটি বৈশ্বিক ব্লকের লড়াইতে রূপান্তর করতে পারে।

অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন দীর্ঘকাল ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করলেও গবেষক কর্নেলিয়াস অ্যাডেবাহর-এর মতে, বর্তমান আল্টিমেটাম ইউরোপকে আটলান্টিক মিত্রতা (ন্যাটো) রক্ষা এবং মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি প্রবাহ নিশ্চিত করার দ্বিমুখী চাপে এক চরম অস্তিত্ব সংকটে ফেলেছে।

হার্ভার্ডের অধ্যাপক স্টিফেন ওয়াল্ট-এর ‘ব্যালান্স অব থ্রেট’ তত্ত্ব অনুযায়ী, পরাশক্তির অতিরিক্ত আগ্রাসন অনেক সময় ছোট রাষ্ট্রগুলোকে বৃহৎ শক্তির ছায়াতলে একতাবদ্ধ করে, যা একটি সীমিত আঞ্চলিক যুদ্ধকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে ধাবিত করার ঝুঁকি তৈরি করে। অধিকন্তু, গ্লোবাল সাউথের দেশগুলো বড় শক্তির দ্বন্দ্বে পক্ষ নিতে অনিচ্ছুক হলেও ইরান সংকটের ফলে তেলের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হলে তারা চরম অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে, যা ব্রিকস -এর মতো উদীয়মান জোটগুলোর প্রভাবকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। ওয়াশিংটনের এই আল্টিমেটাম কেবল ইরানের জন্য নয়, বরং রাশিয়া ও চীনের জন্যও একটি পরোক্ষ পরীক্ষা; যার ভুল চালগুলো বিশ্বকে একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ নিরাপত্তা সংকটে নিপতিত করতে পারে।

পরিশেষে বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের এই ১০ দিনের আল্টিমেটামকে এখনই সরাসরি ‘যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা’ হিসেবে অভিহিত করা হয়তো তাত্ত্বিকভাবে অতিরঞ্জিত হবে, তবে একে ভূ-রাজনৈতিকভাবে উপেক্ষা করার কোনো ক্ষুদ্রতম অবকাশ নেই। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভাষায় এটি মূলত একটি ‘কৌশলগত সংকেত’ এবং ক্ষমতার চরম প্রদর্শন, যা প্রতিপক্ষকে চূড়ান্ত সমঝোতায় বাধ্য করার একটি মনস্তাত্ত্বিক কৌশল। তবে ইতিহাসের শিক্ষা হলো, মধ্যপ্রাচ্যের মতো চরম উত্তপ্ত ও স্পর্শকাতর অঞ্চলে একটি সামান্য ভুল সিদ্ধান্ত কিংবা ‘মিসক্যালকুলেশন’ মুহূর্তের মধ্যে পুরো বিশ্বকে এমন এক বহুমুখী সংঘাতের মুখে ঠেলে দিতে পারে, যার প্রভাব কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানায় আবদ্ধ থাকবে না। বিশ্ব কি একবিংশ শতাব্দীর এই নতুন সংঘাতের বাস্তবতাকে মেনে নেবে, নাকি শেষ মুহূর্তে প্রাজ্ঞ কূটনীতির জয় হবে—তা নির্ধারণে আগামী ১০ দিন বৈশ্বিক রাজনীতির ইতিহাসে অত্যন্ত সংকটাপন্ন ও নির্ধারক সময় হিসেবে গণ্য হবে। যেখানে কূটনীতির প্রতিটি পদক্ষেপই হতে পারে শান্তি অথবা মহাপ্রলয়ের মধ্যকার সূক্ষ্ম পার্থক্য।

লেখক: সহকারী গবেষক, রির্সাচ এন্ড ইন্টিগ্রেটেড থট’স (আরআইটি)

সরকারের প্রথম একনেক বৈঠক আজ, অগ্রাধিকার পাচ্ছে ১৭ প্রকল্প

সুন্দরবন নিউজ২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
সরকারের প্রথম একনেক বৈঠক আজ, অগ্রাধিকার পাচ্ছে ১৭ প্রকল্প

নতুন সরকারের অধীনে প্রথম জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠক বসছে আজ। এজেন্ডায় রয়েছে ১৭টি প্রকল্প। যা বাস্তবায়নে খরচ হতে পারে প্রায় সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে নতুন প্রকল্প ৯টি।

সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক সভাপতি তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

রীতি ভেঙ্গে পরিকল্পনা কমিশনের বদলে এবার একনেক সভা আয়োজন করা হচ্ছে সচিবালয়ে। শেষ মুহূর্তে এই ভেন্যু বদলের তথ্য জানানো হয় রোববার রাতে।

পরিকল্পনা কমিশন জানায়, করতোয়া নদী পুনরুদ্ধারে ১১শ’ কোটি টাকার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

এছাড়া, সার্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় হতে পারে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। সীমান্ত সড়ক নির্মাণের জন্য প্রস্তাব ৩৬শ ৬৬ কোটি টাকার। এর বাইরে রাজধানী ঢাকায় পানি সরবরাহ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হতে পারে একনেকে। এজেন্ডায় নেই পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প।

উল্লেখ্য, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সভাপতি করে একনেক গঠন করা হয়। কমিটির বিকল্প সভাপতি করা হয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে।

সংবিধান কখনো ‘সংস্কার’ হয় না, বরং এটি রহিত, স্থগিত বা ‘সংশোধন’ হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সুন্দরবন নিউজ২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ণ
সংবিধান কখনো ‘সংস্কার’ হয় না, বরং এটি রহিত, স্থগিত বা ‘সংশোধন’ হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংবিধান কখনো ‘সংস্কার’ হয় না, বরং এটি রহিত, স্থগিত বা ‘সংশোধন’ হয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। রোববার জাতীয় সংসদে জুলাই জাতীয় জুলাই সনদ ও সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত প্রস্তাবে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। এসময় তিনি সংবিধান সংশোধনের জন্য সকল দলের সমন্বয়ে একটি ‘বিশেষ সংসদীয় কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব দেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের অভিপ্রায়কে আমরা সম্মান জানাতে চাই। ২৪-এর জুলাই জাতীয় সনদ ও জুলাই ঘোষণাপত্রের নির্যাসকে আমরা সংবিধানে ধারণ করার অঙ্গীকার করেছি। এটি চতুর্থ তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে মনে রাখতে হবে, ৭১-এর স্বাধীনতার সাথে অন্য কিছুর তুলনা চলে না।

সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে অনেক ‘লেজিসলেটিভ ফ্রড’ বা আইনি প্রতারণা করা হয়েছে। হাইকোর্ট ইতিমধ্যে এর কিছু অংশ অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে। বাকি অংশগুলো এই সার্বভৌম সংসদই সিদ্ধান্ত নিয়ে বাতিল বা সংশোধন করবে। বিশেষ করে ৫, ৬ ও ৭ নম্বর তফসিলে যে ভুল ইতিহাস ও তথাকথিত স্বাধীনতার ঘোষণা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তা বিলুপ্ত করা প্রয়োজন।

এসময় তিনি আরও যোগ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই ২৬শে মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং ২৭শে মার্চ কালুরঘাট থেকে প্রোভিশনাল হেড অফ স্টেট হিসেবে ঘোষণা দেন। এটিই প্রকৃত ইতিহাস যা আমরা সংবিধানে ফিরিয়ে আনতে চাই।

আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস সংবিধানের মূলনীতি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা সংবিধানে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ নীতিটি পুনর্বহাল করতে চাই। এটি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন, যা পরবর্তী সময়ে ফ্যাসিস্ট সরকার নির্মূল করেছে। জুলাই সনদে এটি থাকার কথা থাকলেও কোনো কোনো দলের আপত্তির কারণে রাখা হয়নি। তবে আমরা এটি ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর।

সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ এবং সেই ক্ষমতা প্রয়োগ হয় এই সংসদের মাধ্যমে। আমরা ১০০ সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ প্রবর্তনের ম্যান্ডেট পেয়েছি, যেখানে রাজনৈতিক দলগুলো আনুপাতিক হারে প্রতিনিধিত্ব করবে।

বিরোধী দলের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আসুন সরকারি দল, বিরোধী দল এবং স্বতন্ত্র সদস্যরা মিলে বিশেষ সংসদীয় কমিটিতে বসে আলোচনা করি। সংবিধান কীভাবে সংশোধিত হবে, তা এই সংসদেই নির্ধারিত হবে। বাইরে থেকে আমদানি করা কোনো প্রেসক্রিপশনে নয় বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।