খুঁজুন
শুক্রবার, ৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাতক্ষীরা-৪ আসনের পুনর্বিন্যাসের প্রতিবাদে শ্যামনগরে সমালোচনার ঝড় :বিক্ষোভ মিছিল

সুন্দরবন নিউজ২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই, ২০২৫, ৬:৪৩ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা-৪ আসনের পুনর্বিন্যাসের প্রতিবাদে শ্যামনগরে সমালোচনার ঝড় :বিক্ষোভ মিছিল

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাসসংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শ্যামনগরের সর্বত্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে। গতকাল বুধবার রাত সাড়ে আটটার দিকে শ্যামনগর পৌরসভায় এসব কর্মসূচি পালিত হয়।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সাতক্ষীরার ২টি আসনসহ দেশের মোট ৩৯টি সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল খবরটি ছড়িয়ে পড়লে শ্যামনগরের মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়ে শুরু হয় আলোচনা–সমালোচনা । রাত সাড়ে আটটার দিকে শ্যামনগর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে শতাধিক মানুষ বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। এ সময় তাঁরা ‘নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত মানি না, মানব না’, ‘শ্যামনগর আসন ছিল, শ্যামনগর থাকবে’, ‘পুনর্গঠন সিদ্ধান্ত বাতিল কর, করতে হবে’ স্লোগান দিতে থাকেন।

পরে জেসি কমপ্লেক্স চত্বরে পথসভা করে বিক্ষোভকারীরা অবিলম্বে নির্বাচন কমিশনের আসন পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানান। এ সময় বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ড.মনিরুজ্জামান, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সোলায়ামন কবীর, জেলা বিএনপির সদস্য জি এম লিয়াকত আলী, সাবেক চেয়ারম্যান সাদেকুর রহমান, যুবদল সভাপতি শফিকুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

সাতক্ষীরার চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে দুটির আসন পুনর্বিন্যাস করে প্রাথমিক গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। পুনর্বিন্যাস করার আগে সাতক্ষীরা-৪ আসনটি শ্যামনগর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন, ১টি পৌরসভা ও পাশের কালীগঞ্জ উপজেলার একাংশের ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ছিল। এবার পুনর্বিন্যাস করে শ্যামনগর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন, ১টি পৌরসভা ও আশাশুনি উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে সাতক্ষীরা-৪ আসন গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, শ্যামনগর উপজেলার সঙ্গে আশাশুনি উপজেলার সরাসরি যোগযোগ নেই। শ্যামনগর থেকে আশাশুনি যেতে হলে কালীগঞ্জ উপজেলার ওপর দিয়ে অথবা নৌকায় বিশাল খোলপেটুয়া নদী পার হয়ে যেতে হয়।

অন্যদিকে সাতক্ষীরা-৩ আসনে ছিল আশাশুনি উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন, দেবহাটা উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ও কালীগঞ্জ উপজেলার একাংশ ৪টি ইউনিয়ন। পুনর্বিন্যাস করে কালীগঞ্জ উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও দেবহাটা উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন নিয়ে সংসদীয় আসন গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৭০ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের সুন্দরবনঘেষা বৃহৎ উপজেলা শ্যামনগর একটি পৃথক সংসদীয় আসন সাতক্ষীরা -৫ ছিল। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে নির্বাচন কমিশন নতুন সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাস করে শ্যামনগর আশাশুনীকে সাতক্ষীরা ৪ আসন হিসেবে খসড়া তালিকাভুক্ত করে। এটি নিয়ে সে সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং সচেতন ব্যক্তি নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দিলে তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এটিএম শামসুল হুদা খুলনায় একটি শুনানী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন বর্তমান সরকারের উপদেষ্টা তৎকালীন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাখাওয়াত হোসেন। বাস্তব অবস্থা উপলব্ধি করে নির্বাচন কমিশন শ্যামনগর ও আশাশুনীর সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিকূল পরিবেশ বিদ্যমান থাকায় শ্যামনগরের ১২টি ইউনিয়ন ও কালীগঞ্জের কাকশিয়ালী নদীর দক্ষিণ পাশের কালীগঞ্জের ৮টি ইউনিয়ন সর্বমোট ২০ টি ইউনিয়ন নিয়ে সাতক্ষীরা ৪ আসন গঠিত হয়। বর্তমানে নির্বাচন কমিশন ৩০ জুলাই”২০২৫ একটি বিজ্ঞপ্তিতে ২০০৮ সালে পূর্বের ন্যায় শ্যামনগর ও আশাশুনী উপজেলাকে
সাতক্ষীরা সংসদীয় ৪ আসন নিয়ে যে নতুন রুপরেখা দিয়েছে তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কারণ এখানে নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত শর্ত ঞ এবং ট অনুসরণ করা হয়নি।কালিগঞ্জ উপজেলার ভৌগোলিক অখন্ডতার কারণ দেখিয়ে ২০০৮ সালে শ্যামনগর এবং আশাশুনি সাতক্ষীরা চার আসন হিসেবে নির্বাচন কমিশনের খসড়া বিজ্ঞপ্তিতে তালিকাভুক্ত হয়েছিল। বাংলাদেশের বিভিন্ন নির্বাচনী আসনে ভৌগলিক অবস্থানের কারণে উপজেলার আংশিক অংশ নিয়ে নির্বাচনী এলাকা গঠিত হয়েছে। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকার ভৌগলিক অখন্ডতা বজায় রাখা সম্ভব হয়নি। তদপুরি প্রতিকূল পরিবেশের কারণে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের বিভিন্ন নির্বাচনী আসনে ভৌগোলিক অখণ্ডতা বজায় রাখা সম্ভব হয়নি।

শ্যামনগর উপজেলা বাংলাদেশের একটি সর্ববৃহৎ উপজেলা এর সাথে যোগ করা হয়েছে সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনী উপজেলা এই দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত হয়েছে সাতক্ষীরা সংসদীয় ৪ আসন। এই দুটি উপজেলা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিবছর প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘূর্ণিঝড় জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতবিক্ষত হয় এইসব জনপদ । এই দুটি উপজেলার সঙ্গে সরাসরি কোন যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই এক উপজেলার থেকে আরেক উপজেলায় যেতে সময় লাগে ‌ প্রায় চার ঘন্টা।পার্শ্ববর্তী কালীগঞ্জ উপজেলার কাকশিয়ালী নদীর উপর দিয়ে সড়কপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা ছাড়া শ্যামনগর ও আশাশুনির মধ্যে যোগাযোগের অন্য একটি ব্যবস্থা আছে শ্যামনগরের উপর দিয়ে বহমান খরস্রোতা খোলপেটুয়া নদী পার হয়ে পদ্মপুকুর ইউনিয়নের একটি ছোট করিডোর যা বাস্তবতার সঙ্গে কোনমতেও মানানসই নয়। শুধুমাত্র মানচিত্রে সংযুক্ত থাকলেও বাস্তবিক অবস্থা অনেকটা ভিন্নতর। নির্বাচনের সময় এই নদী পারাপার হতে মারাত্মক ঝুঁকিতে থাকবে নির্বাচনের প্রার্থী ও কর্মী সমার্থকরা। বড় নদী পারাপারে যেকোনো সময় ঘটতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা। এমনিতেই সামান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলেই দুই উপজেলার নদী পারাপারের নৌযান বন্ধ হয়ে যায়।এর আগে শ্যামনগরের ১১ইউনিয়ন ১টি পৌরসভা ও কালিগঞ্জ উপজেলার ৮ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ছিল সাতক্ষীরা সংসদীয় ৪ আসন এখানে মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো ছিল। সে কারণে সাতক্ষীরা শ্যামনগর উপজেলা ও কালীগঞ্জের আংশিক নিয়ে সাতক্ষীরা সংসদীয় ৪ আসন সঠিক ছিল বলে জনপদের মানুষ মনে করে ।বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের চারটি রেঞ্জের একটি শ্যামনগরে অবস্থিত হওয়ায় শ্যামনগর বাংলাদেশের বৃহত্তম উপজেলা। পূর্বে শ্যামনগর এলাকা নিয়ে সাতক্ষীরা ৫ আসন গঠিত ছিল। নতুন সীমানা নির্ধারণের ফলে ভোটারদের প্রতিনিধিত্বে চরম বৈষম্য সৃষ্টি হবে এতে ভোটাধিকার ক্ষুন্ন হবে। শ্যামনগর দেশের সর্ববৃহৎ উপজেলা হওয়া সত্ত্বেও পূর্বের মতো পৃথক আসন না রেখে আশাশুনী উপজেলার সঙ্গে একীভূত করায় জমমনে দারুন অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার মানুষের দাবি আগের সীমানা পুনঃ নির্ধারণ করা হোক অথবা শ্যামনগরকে একটি স্বতন্ত্র আসন হিসেবে ঘোষণা দেয়া হোক। খসড়া প্রকাশের পর থেকে স্থানীয় রাজনৈতিক সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগকে মাধ্যমে চলছে ব্যাপক সমালোচনার ঝড়।

নির্বাচন কমিশনের নতুন সিদ্ধান্তের পরিবর্তন ঘটিয়ে আগের সিদ্ধান্তে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন শ্যামনগরবাসী।

নারকেলের পানি ডায়াবেটিসের জন্য বন্ধু নাকি সমস্যা

সুন্দরবন নিউজ ২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
নারকেলের পানি ডায়াবেটিসের জন্য বন্ধু নাকি সমস্যা

ডায়াবেটিসে শুধু খাওয়া-দাওয়াই নয়, কী পান করা হচ্ছে তাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় আমরা ভুলে যাই, যে পানীয় আমরা খাই, তা রক্তে শর্করার মাত্রাকে সরাসরি প্রভাবিত করতে পারে। এই কারণে ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ প্রশ্নগুলোর মধ্যে একটি হলো– নারকেলের পানি কি নিরাপদ? নাকি রক্তে চিনি বাড়িয়ে দিতে পারে?

নারকেলের পানি বরাবরই গরমে শরীর ঠান্ডা রাখা, ক্লান্তি দূর করা এবং পটাসিয়াম ও অন্যান্য খনিজ উপাদান দেওয়ার জন্য জনপ্রিয়। এতে থাকে পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন সি ও বিভিন্ন খনিজ, যা শরীরের জন্য উপকারী। কিন্তু ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য চিন্তার বিষয় হলো এতে থাকা প্রাকৃতিক চিনি এবং কার্বোহাইড্রেট।

এক গ্লাস (প্রায় ২৫০ মিলিলিটার) নারকেলের পানিতে থাকে প্রায় ১৫ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট এবং ৮ গ্রাম প্রাকৃতিক চিনি। এই চিনি সরাসরি রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতে পারে।

মুম্বাইয়ের ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ ডা. নিখিল প্রভু বলেন, ‘যদি কারও রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে থাকে, তবে মাঝে মাঝে সীমিত পরিমাণে নারকেলের পানি খাওয়া যেতে পারে। তবে এটিকে ওষুধের মতো ভাবা উচিত নয়।’

গবেষণায় দেখা গেছে, নারকেলের পানির গ্লাইসেমিক ইনডেক্স প্রায় ৫৪, যা কম থেকে মাঝারি স্তরে পড়ে। অর্থাৎ এটি রক্তে চিনি হঠাৎ বাড়ায় না। তবে বেশি পরিমাণে খেলে সমস্যা হতে পারে।

নারকেলের পানিতে থাকা ম্যাগনেসিয়াম ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। টাইপ ২ ডায়াবেটিসে প্রায়ই ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি দেখা যায়, যা রক্তের চিনি নিয়ন্ত্রণে বাধা দেয়। এছাড়াও এতে থাকা পটাসিয়াম এবং এল-আর্জিনিন রক্তনালিগুলো শিথিল করতে সাহায্য করে, ফলে রক্ত চলাচল ভালো থাকে। ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে পায়ের স্নায়ু সমস্যা এবং রক্ত চলাচলের সমস্যা সাধারণ, তাই কিছুটা উপকার পাওয়া সম্ভব।

তবে, যদি কারও রক্তে চিনি খুব বেশি থাকে বা HbA1c প্রায় ৯-১০ শতাংশের কাছাকাছি, তবে নারকেলের পানি এড়ানোই ভালো। প্রতিদিন খেলে ধীরে ধীরে রক্তে চিনি বাড়তে পারে। নিরাপদ উপায় হলো, সপ্তাহে এক বা দুবার অল্প পরিমাণে নারকেলের পানি পান করা এবং তা খাবারের সঙ্গে বা শারীরিক পরিশ্রমের পরে নেওয়া। খালি পেটে বা প্রতিদিন নিয়মিত খাওয়া ঠিক নয়।

সারসংক্ষেপে, নারকেলের পানি ডায়াবেটিসের জন্য ‘বিষ নয়, অমৃতও নয়।’ এটি সঠিক সময়ে এবং সীমিত পরিমাণে পান করলে উপকারী হতে পারে। রক্তের চিনি নিয়মিত পরীক্ষা করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

সূত্র : Health Line

সকলে মিলে দেশ গড়ার সময় এসেছে: সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তারেক রহমান

সুন্দরবন নিউজ ২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১১:৪০ অপরাহ্ণ
সকলে মিলে দেশ গড়ার সময় এসেছে: সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সকলে মিলে দেশ গড়ার সময় এসেছে, এখন বাংলাদেশের মানুষ কথা বলার অধিকার ফিরে পেতে চায়।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর পূর্বাচলের ৩০০ ফিটে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

আজ দুপুর ১২টা ৩৫মিনিটে তিনি বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে একটি বিশেষ বাসে করে ৩০০ ফিটের উদ্দেশে রওনা দেন। দলীয় নেতাকর্মীরা রাস্তার দুধারে হাত নেড়ে তাকে স্বাগত জানান। ৩ ঘণ্টা ১৫ মিনিট পর মঞ্চে পৌঁছান বিএনপি নেতা তারেক রহমান।

এর আগে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বহনকারী বিমানটি বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এর কিছুক্ষণ আগে তারেক রহমান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে আবেগঘন বার্তায় লেখেন, দীর্ঘ ৬ হাজার ৩১৪ দিন পর বাংলাদেশের আকাশে!

এরও আগে, বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত সোয়া ১২টায় লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে ফ্লাইটটি। একই দিন বাংলাদেশ সময় রাত সোয়া ৮টায় লন্ডনের নিজ বাসা ত্যাগ করেন তারেক রহমান। তিনি স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে রাত সোয়া ১০টায় হিথ্রো বিমানবন্দরে পৌঁছান।

শ্যামনগরে সিপিপি কর্মকর্তার অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানববন্ধন।

সুন্দরবন নিউজ ২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১:৫৭ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে সিপিপি কর্মকর্তার অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানববন্ধন।

শ্যামনগরে এক দুর্নীতিগ্রস্ত সিপিপি কর্মকর্তার দুর্নীতি-অনিয়মের বিরুদ্ধে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল ১১ টায় সিপিপি উপজেলা কার্যালয়,(জেসি কমপ্লেক্স)এর সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করে সিপিপি শ্যামনগর পৌরসভার স্বেচ্ছাসেবকবৃন্দ। এতে ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে শ্যামনগর উপজেলা পৌরসভার সমস্ত নারী ও পুরুষ স্বেচ্ছাসেবকগণ অংশ নেয়।

ঘন্টাব্যাপী চলা এই কর্মসূচিতে অংশ নেয় শ্যামনগর পৌরসভার সিপিপি টিম লিডার মোঃ আব্দুর রশিদ নান্টু, ১নং ইউনিট টিম লিডার নজরুল ইসলাম মুন্না, ২ নং ইউনিট টিম লিডার, ভবেসিন্দু মন্ডল, ৩ নং ইউনিট টিম লিডার হাবিবুর রহমান ৪ নং ইউনিট টিম লিডার ইয়াছিন মোড়ল ৫ নং ইউনিট টিম লিডার রবিন্দ্রনাথ মন্ডল ৬ নং ইউনিট টিম লিডার শাহীন ভূইয়া, ৭ নং ইউনিট টিম লিডার আব্দুর রশিদ নান্টু। ৮ নং ইউনিট টিম লিডার হেলাল মাহমুদ, ৯ নং ইউনিট টিম লিডার দেবাশিস গায়েন সহ অন্যান্য রা বক্তব্য রাখেন।

এ সময় বক্তারা বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি(সিপিপি) সহকারী পরিচালক শ্যামনগর মুন্সি নুর মোহাম্মদ, দুর্যোগে কাজ করা সিপিপি সংগঠনকে একটা বাণিজ্যিক সংগঠন হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।

নীতিমালা তোয়াক্কা না করে নিজের মনগড়া ভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসতেছে, সাধারণ স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি করে স্বেচ্ছাসেবী কাজে মনোভাব নষ্ট করছেন।

সিপিপি স্বেচ্ছাসেবক নির্দেশিকা -২০২১ অনুসারে সিপিপিতে যোগদানের বয়স ১৮ থেকে ৩৫ নির্ধারণ থাকলেও এই নীতিমালা অমান্য করে মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নে নিপা চক্রবর্তী নামক একজন ৪০ উর্ধ্ব বয়স নারী স্বেচ্ছাসেবককে নিয়োগ দিয়েছিলেন।

অপর দিকে রমজাননগর ইউনিয়নের তানিয়া নামক ১৬ বছর বয়সের নারী স্বেচ্ছাসেবককে নিয়োগ দিয়েছিলেন ।

কর্মকর্তার আন অফিসিয়াল তার কথা না শোনার কারনে পদ্মপুকুর ইউনিয়নের মাছুরা নামক নারী স্বেচ্ছাসেবককে বিনা কারণে বাদ দেওয়া হয়েছে।

জেলা পরিষদ নির্বাচনে কর্মকর্তার মনোনীত প্রার্থীকে ভোট না দেওয়ার কারণে রমজাননগরের আছমা মেম্বার, ও কৈখালীর রাবিয়া মেম্বারের সিপিপির আই ডি কার্ড দিতে তালবাহানা করেছে।

বক্তারা আরো বলেন:
এভাবে চলতে থাকলে শ্যামনগরের উপকূলীয় আমজনতা সিপিপি থেকে দুর্যোগের সময় সেবা পাবে না:
কর্মকর্তা মুন্সী নুর মোহাম্মদ একের পর এক নিয়ম বহির্ভূত কর্মকাণ্ড করতে থাকে এবং তার সাথে সঙ্গ না দেওয়ায়, শ্যামনগর সদর ইউনিয়ন টিম লিডার মোঃ আব্দুর রশিদ নান্টু নামে বিভিন্নভাবে মিথ্যা হয়রানি মূলক বেনামী অভিযোগ দিয়ে থাকেন ।

সর্বশেষ মোঃ আব্দুর রাজ্জাক নামীয় ব্যক্তির পাঠানো অভিযোগে বিষয়টি পরিষ্কার হয়, মুন্সি নুর মোহাম্মদ, অভিযোগকারীদের স্থানে আব্দুর রাজ্জাকের নাম ব্যবহার করে ইয়াসিন মোড়ল এবং আব্দুর রশিদ নানটুর নামে পুনরায় অভিযোগ করে,
মিটিং সেমিনার কিংবা প্রশিক্ষণ কর্মশালায় স্বেচ্ছাসেবকদের সাথে তুই তুকারি করে কথা বলেন এই কর্মকর্তা।
দুর্যোগের সময় বিশেষ মুহূর্তে অতি প্রয়োজনে কর্মকর্তাকে ফোন করলে ফোন কেটে দেন।
প্রয়োজনে স্বেচ্ছাসেবকরা অফিসে গেলে কর্মকর্তা বিরক্ত বোধ করেন।
স্বেচ্ছাসেবকদের মাঝে একে অপরের সাথে বিরোধ লাগিয়ে স্বার্থ হাসিল করার চেষ্টা করেন এই কর্মকর্তা।

মন:পুত ব্যক্তিদের বিভিন্নভাবে অফিশিয়ালি সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকেন বিশেষ করে যারা তার অনিয়ম কর্মকান্ডের সাথে জড়িত থাকেন।

টাকার বিনিময়ে জাতীয় পুরস্কার পাইয়ে দেওয়ার জন্য প্রকাশ্য সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন,কর্মকর্তা মুন্সি নুর মোহাম্মদ, তার কাছের ব্যক্তি রমজান নগর ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক ফারুক হোসেন কে অফিসের নথি প্রকাশ করে, নায্য পুরষ্কার প্রাপ্য নজরুলের ডকুমেন্টস জাল করে ততকালীন ইউ এন ও কাছে প্রেরণ করে

এসব বিষয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে সাধারণ স্বেচ্ছাসেবকরা মানববন্ধনের মাধ্যমে কর্মকর্তা মুন্সি নুর মোহাম্মদের বদলি চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।