খুঁজুন
বুধবার, ২৮শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৪ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বেপরোয়া দুর্নীতি, উদাসীন ছিলেন দুদকের ৩ কমিশনার

সুন্দরবন নিউজ ২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২৪, ৮:২১ অপরাহ্ণ
বেপরোয়া দুর্নীতি, উদাসীন ছিলেন দুদকের ৩ কমিশনার

এ মুহূর্তে দুর্নীতি সারা দেশে ক্যানসারের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতায় তার ঘনিষ্ঠরা ২ লাখ কোটি টাকা দেশ থেকে পাচার করেছেন। এর বাইরেও বিগত সরকারের সময়ে বিপুল অর্থ পাচার হয়েছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যেও উঠে আসে তার পিওন জাহাঙ্গীর চারশ কোটি টাকার মালিক। কিন্তু সেই সময় জাহাঙ্গীরের দুর্নীতিও ধরতে পারেনি দুদক। চারশ কোটি টাকার বাইরেও দেশে-বিদেশে জাহাঙ্গীরের আরও কত সম্পদ আছে, এর কোনো হিসাব নেই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর একজন পিওনের দুর্নীতির এত সম্পদ থাকলে তার আশপাশে যারা ছিলেন, অর্থাৎ চার দফায় মন্ত্রী-এমপি হয়েছেন, দলের নেতা হয়েছেন, পদপদবি পেয়েছেন, দলকে বিনা ভোটে ক্ষমতায় আনতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যারা কাজ করেছেন-তারা কী পরিমাণ দুর্নীতি করেছেন, তা ধারণারও বাইরে। ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে এত বছর যে সীমাহীন দুর্নীতি হয়েছে, সেদিকে নজর দেয়নি দুদক। নজর দেয়নি বড় বড় প্রকল্পের নামে ‘সাগরচুরি’র ঘটনার দিকেও।

দুদকের শীর্ষপদে যারা আসীন হন, তাদের নিয়োগ হয় রাজনৈতিক আনুগত্য বিবেচনায়। সরকারের আনুকূল্যে নিয়োগ পাওয়ায় তারা সরকারকে বিব্রত করতে চায়নি। উপরোন্তু মন্ত্রী তো দূরের কথা, কোনো এমপি বা সরকারদলীয় নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ গণমাধ্যম বা অন্য কোনো সূত্রে পেলেও অনুসন্ধান শেষে তারা পেয়ে যান ‘ক্লিন সার্টিফিকেট’।

চুনোপুঁটি ধরার ক্ষেত্রে বা তাদের সম্পদ অনুসন্ধানে দুদকের যতটা মনোযোগ ছিল-আমলা, পুলিশ প্রশাসন বা সরকারের অন্য দপ্তরের বড় পদের কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ধরার ক্ষেত্রে ততটাই ছিল নমনীয়।

অথচ, দুর্নীতিসংশ্লিষ্ট অপরাধের অনুসন্ধান ও তদন্ত পরিচালনার জন্য ২০০৪ সালের ২১ নভেম্বর (প্রায় ২০ বছর আগে) দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গঠন করা হয়। সেই থেকে দেশের দুর্নীতি দমনের জন্য গঠিত এ প্রতিষ্ঠানটি সরকারের আজ্ঞাবহ হিসাবেই কাজ করে যাচ্ছে।

তবে ২০০৭ ও ২০০৮ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে দেশের দুটি বড় রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাসহ বড় বড় ব্যবসায়ী-শিল্পপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযান পরিচালনা করে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। জেলে পাঠানো হয়। অনেকের সাজাও হয়।

কিন্তু ২০০৯ সালে জাতীয় নির্বাচনের পর ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। পালটে যায় অনেক কিছু। থমকে যায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান। এমনকি ভাটা পড়ে দুর্নীতির অনুসন্ধান-তদন্ত এবং বিচারেও।

সেই থেকে চলতি বছরের ৫ আগস্ট পর্যন্ত টানা সাড়ে ১৫ বছর দেশে এককভাবে দলটির শাসনকালে বিরোধী দলের নেতাকর্মী-জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে ব্যস্ত ছিল দুদক।

অন্যদিকে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন স্তরের নেতার লাগামহীন দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অনুসন্ধান-তদন্তের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি ছিল ‘নীরব দর্শক’-এর ভূমিকায়।

শুধু তাই নয়, আওয়ামী লীগের নেতা এবং দলটির আশীর্বাদপুষ্ট প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে ‘ওয়ান-ইলেভেন’-এর সময় করা সব মামলা থেকে ‘দায়মুক্তির সনদ’ বা ‘ক্লিন সার্টিফিকেট’ দেওয়া হয়েছে নির্বিচারে।

সরকারদলীয় কোনো প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে মামলা বা সাজার ঘটনারও তেমন নজির নেই।

এমন বাস্তবতায় বর্তমান অনন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের অংশ হিসাবে টিআইবির নির্বাহী পরিচালকের নেতৃত্বে দুদক সংস্কারে একটি কমিটি করে। তারা অংশীজনের সঙ্গে কথা বলে সংস্কার প্রস্তাব দেবে সরকারকে।

এসব পরিস্থিতি বিবেচনায় দুদকের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে দুদককে সাংবিধানিক মর্যাদা দেওয়া এ মহূর্তে জরুরি হয়েছে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

এ বিষয়ে সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও সুপ্রিমকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, পৃথিবীর সব দেশেই দুর্নীতি দমনে স্বাধীন সংস্থা থাকে। তারা সরকারের কোনো মন্ত্রী দুর্নীতি করলেও ধরে। কিন্তু আমাদের দেশে তা হয় না। দুদককে নিরপেক্ষ ও সাংবিধানিক বডি করা উচিত। এ প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে ক্ষমতা দিতে হবে।

একই সঙ্গে বিগত ১৬ বছর ধরে দুদকের চেয়ারম্যান ও কমিশনাররা রাজনৈতিকভাবে বাড়াবাড়ি করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের বিষয়েও ভাবতে হবে।

দুদক কমিশনারদের উদাসীনতা প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞতা জানান, ২০০৪ সালের দুদক আইনের ৭ ধারা অনুযায়ী দুদকের তিনজন কমিশনার পদে নিয়োগের জন্য বাছাই কমিটি গঠন বা এর কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো বিধিমালা না থাকায় সরকারের পছন্দের বাইরে কাউকে নিয়োগের সুপারিশ করতে পারে না এ কমিটি।

আইনে পাঁচ সদস্যের একটি বাছাই কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে। আইন করার পর থেকে গত ২০ বছর সরকার গঠিত বাছাই কমিটি দিয়েই ছয়জনের নাম গোপনে বাছাই করে, পরে তাদের মধ্য থেকে তিনজনকে নিয়োগ দেয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর জন্য কোনো বিধি নেই। সরকারের খেয়ালখুশিমতো যাকে-তাকে গোপনে বাছাইয়ের নামে তাদের মধ্য থেকে তিনজনকে নিয়োগ দেয়। তারা বলেন, এ বাছাইয়ের কাজটি গোপনে করা যাবে না। কমিশনার নিয়োগ পদ্ধতি স্বচ্ছ হতে হবে। যদি বর্তমান সিস্টেম অনুযায়ী ছয়জনের মধ্যে তিনজন কমিশনার নিয়োগের বিধান চালু থাকে, তবে বাছাই কমিটি যে ছয়জনের নাম প্রস্তাব করবে, তা বিধি অনুযায়ী গঠিত বাছাই কমিটির সুপারিশ সরকার বা দুদকের ওয়েবসাইটে দিতে হবে।

কমিশনার হওয়ার জন্য কারও আগ্রহ (ইও-এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট) আছে কি না, তা জানতে প্রকাশ্যে বিজ্ঞাপন দিতে হবে। যোগ্যরা আবেদন করবেন। তাদের মধ্য থেকে ছয়জনকে (যাদের মধ্যে তিনজনকে চূড়ান্ত নিয়োগের সুপারিশ করেন রাষ্ট্রপতি) কোন যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে, তাও জানাতে হবে। আবেদনকারীদের নাম ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে। যাচাই-বাছাই করার একটি মাপকাঠি থাকতে হবে। দেখতে হবে দুর্নীতি দমন বা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তার কোনো ভূমিকা আছে কি না। রাষ্ট্রের জন্য তার অবদান কী, দেশের জন্য তিনি কী কী করেছেন, দুর্নীতি বা সুশাসনসংক্রান্ত কোনো গবেষণা বা পাবলিকেশন্স আছে কি না, দুর্নীতি দমন সংক্রান্ত কাজে কোনো পূর্ব-অভিজ্ঞতা আছে কি না-এগুলো বিবেচনায় নিতে হবে। দুর্নীতি দমনসংক্রান্ত কার্যক্রমে অভিজ্ঞতা নেই-এমন লোক এতদিন নিয়োগ পেয়েছেন। তাদের কাজ বুঝতেই বছর চলে যায়।

দুদকের বর্তমান আইন অনুযায়ী কমিশনার নিয়োগের ক্ষেত্রে আইন, শিক্ষা, প্রশাসন ও শৃঙ্খলা বাহিনীতে ২০ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টরা বলেন, এ কয়টি যোগ্যতার বাইরেও নতুন করে দুর্নীতি দমন ও সুশাসন নিয়ে কাজ করেছেন-এমন যোগ্য লোককে যুক্ত করা দরকার। কমিশনার নিয়োগে সরকারি দলের পাশাপাশি বিরোধী দল ও দেশপ্রেমিক সুশীল সমাজকে বাছাই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। তারা বলেন, একই ক্যাডার সার্ভিস থেকে দুজনকে নিয়োগ দেওয়া যাবে না। এটির ফল অতীতে ভালো হয়নি।

হংকংয়ের উদাহরণ টেনে বিশেষজ্ঞরা বলেন, সেদেশের দুর্নীতি দমন সংস্থার প্রধানের কার্যপরিধির মধ্যে রয়েছে পর্যাপ্ত ক্ষমতা। কিন্তু বাংলাদেশের দুদকে প্রধান হিসাবে একজন চেয়ারম্যান থাকলেও তার এককভাবে তেমন কোনো ক্ষমতা নেই। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের আদলে দুদক প্রধানের অধীনে দুজনের স্থলে চারজন সদস্য রাখা যেতে পারে। কারণ, এ মুহূর্তে অর্থ পাচারসহ দুর্নীতির আকার-প্রকৃতি বেড়েছে। ঋণখেলাপি বেড়েছে। এছাড়া যারা সরকারের অন্য দপ্তর থেকে দুদকে প্রেষণে আসবেন, তাদের মেয়াদ হতে হবে দুই বছর। প্রেষণে কোনো কর্মকর্তাকে দুদকে আনতে হলে দুর্নীতি দমন নিয়ে কাজ করেছেন বা এ সংক্রান্ত পূর্ব-অভিজ্ঞতা থাকতে হবে তার। দুদকে যাদের প্রেষণে আনা হয়, তাদের পরিচয় ওয়েবসাইটে দিতে হবে। নতুন নিয়োগ ও পদোন্নতির মাধ্যমে দুদকের শূন্য পদগুলো পূরণ করতে হবে।

নারকেলের পানি ডায়াবেটিসের জন্য বন্ধু নাকি সমস্যা

সুন্দরবন নিউজ ২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
নারকেলের পানি ডায়াবেটিসের জন্য বন্ধু নাকি সমস্যা

ডায়াবেটিসে শুধু খাওয়া-দাওয়াই নয়, কী পান করা হচ্ছে তাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় আমরা ভুলে যাই, যে পানীয় আমরা খাই, তা রক্তে শর্করার মাত্রাকে সরাসরি প্রভাবিত করতে পারে। এই কারণে ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ প্রশ্নগুলোর মধ্যে একটি হলো– নারকেলের পানি কি নিরাপদ? নাকি রক্তে চিনি বাড়িয়ে দিতে পারে?

নারকেলের পানি বরাবরই গরমে শরীর ঠান্ডা রাখা, ক্লান্তি দূর করা এবং পটাসিয়াম ও অন্যান্য খনিজ উপাদান দেওয়ার জন্য জনপ্রিয়। এতে থাকে পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন সি ও বিভিন্ন খনিজ, যা শরীরের জন্য উপকারী। কিন্তু ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য চিন্তার বিষয় হলো এতে থাকা প্রাকৃতিক চিনি এবং কার্বোহাইড্রেট।

এক গ্লাস (প্রায় ২৫০ মিলিলিটার) নারকেলের পানিতে থাকে প্রায় ১৫ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট এবং ৮ গ্রাম প্রাকৃতিক চিনি। এই চিনি সরাসরি রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতে পারে।

মুম্বাইয়ের ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ ডা. নিখিল প্রভু বলেন, ‘যদি কারও রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে থাকে, তবে মাঝে মাঝে সীমিত পরিমাণে নারকেলের পানি খাওয়া যেতে পারে। তবে এটিকে ওষুধের মতো ভাবা উচিত নয়।’

গবেষণায় দেখা গেছে, নারকেলের পানির গ্লাইসেমিক ইনডেক্স প্রায় ৫৪, যা কম থেকে মাঝারি স্তরে পড়ে। অর্থাৎ এটি রক্তে চিনি হঠাৎ বাড়ায় না। তবে বেশি পরিমাণে খেলে সমস্যা হতে পারে।

নারকেলের পানিতে থাকা ম্যাগনেসিয়াম ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। টাইপ ২ ডায়াবেটিসে প্রায়ই ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি দেখা যায়, যা রক্তের চিনি নিয়ন্ত্রণে বাধা দেয়। এছাড়াও এতে থাকা পটাসিয়াম এবং এল-আর্জিনিন রক্তনালিগুলো শিথিল করতে সাহায্য করে, ফলে রক্ত চলাচল ভালো থাকে। ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে পায়ের স্নায়ু সমস্যা এবং রক্ত চলাচলের সমস্যা সাধারণ, তাই কিছুটা উপকার পাওয়া সম্ভব।

তবে, যদি কারও রক্তে চিনি খুব বেশি থাকে বা HbA1c প্রায় ৯-১০ শতাংশের কাছাকাছি, তবে নারকেলের পানি এড়ানোই ভালো। প্রতিদিন খেলে ধীরে ধীরে রক্তে চিনি বাড়তে পারে। নিরাপদ উপায় হলো, সপ্তাহে এক বা দুবার অল্প পরিমাণে নারকেলের পানি পান করা এবং তা খাবারের সঙ্গে বা শারীরিক পরিশ্রমের পরে নেওয়া। খালি পেটে বা প্রতিদিন নিয়মিত খাওয়া ঠিক নয়।

সারসংক্ষেপে, নারকেলের পানি ডায়াবেটিসের জন্য ‘বিষ নয়, অমৃতও নয়।’ এটি সঠিক সময়ে এবং সীমিত পরিমাণে পান করলে উপকারী হতে পারে। রক্তের চিনি নিয়মিত পরীক্ষা করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

সূত্র : Health Line

সকলে মিলে দেশ গড়ার সময় এসেছে: সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তারেক রহমান

সুন্দরবন নিউজ ২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১১:৪০ অপরাহ্ণ
সকলে মিলে দেশ গড়ার সময় এসেছে: সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সকলে মিলে দেশ গড়ার সময় এসেছে, এখন বাংলাদেশের মানুষ কথা বলার অধিকার ফিরে পেতে চায়।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর পূর্বাচলের ৩০০ ফিটে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

আজ দুপুর ১২টা ৩৫মিনিটে তিনি বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে একটি বিশেষ বাসে করে ৩০০ ফিটের উদ্দেশে রওনা দেন। দলীয় নেতাকর্মীরা রাস্তার দুধারে হাত নেড়ে তাকে স্বাগত জানান। ৩ ঘণ্টা ১৫ মিনিট পর মঞ্চে পৌঁছান বিএনপি নেতা তারেক রহমান।

এর আগে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বহনকারী বিমানটি বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এর কিছুক্ষণ আগে তারেক রহমান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে আবেগঘন বার্তায় লেখেন, দীর্ঘ ৬ হাজার ৩১৪ দিন পর বাংলাদেশের আকাশে!

এরও আগে, বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত সোয়া ১২টায় লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে ফ্লাইটটি। একই দিন বাংলাদেশ সময় রাত সোয়া ৮টায় লন্ডনের নিজ বাসা ত্যাগ করেন তারেক রহমান। তিনি স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে রাত সোয়া ১০টায় হিথ্রো বিমানবন্দরে পৌঁছান।

শ্যামনগরে সিপিপি কর্মকর্তার অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানববন্ধন।

সুন্দরবন নিউজ ২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১:৫৭ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে সিপিপি কর্মকর্তার অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানববন্ধন।

শ্যামনগরে এক দুর্নীতিগ্রস্ত সিপিপি কর্মকর্তার দুর্নীতি-অনিয়মের বিরুদ্ধে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল ১১ টায় সিপিপি উপজেলা কার্যালয়,(জেসি কমপ্লেক্স)এর সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করে সিপিপি শ্যামনগর পৌরসভার স্বেচ্ছাসেবকবৃন্দ। এতে ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে শ্যামনগর উপজেলা পৌরসভার সমস্ত নারী ও পুরুষ স্বেচ্ছাসেবকগণ অংশ নেয়।

ঘন্টাব্যাপী চলা এই কর্মসূচিতে অংশ নেয় শ্যামনগর পৌরসভার সিপিপি টিম লিডার মোঃ আব্দুর রশিদ নান্টু, ১নং ইউনিট টিম লিডার নজরুল ইসলাম মুন্না, ২ নং ইউনিট টিম লিডার, ভবেসিন্দু মন্ডল, ৩ নং ইউনিট টিম লিডার হাবিবুর রহমান ৪ নং ইউনিট টিম লিডার ইয়াছিন মোড়ল ৫ নং ইউনিট টিম লিডার রবিন্দ্রনাথ মন্ডল ৬ নং ইউনিট টিম লিডার শাহীন ভূইয়া, ৭ নং ইউনিট টিম লিডার আব্দুর রশিদ নান্টু। ৮ নং ইউনিট টিম লিডার হেলাল মাহমুদ, ৯ নং ইউনিট টিম লিডার দেবাশিস গায়েন সহ অন্যান্য রা বক্তব্য রাখেন।

এ সময় বক্তারা বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি(সিপিপি) সহকারী পরিচালক শ্যামনগর মুন্সি নুর মোহাম্মদ, দুর্যোগে কাজ করা সিপিপি সংগঠনকে একটা বাণিজ্যিক সংগঠন হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।

নীতিমালা তোয়াক্কা না করে নিজের মনগড়া ভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসতেছে, সাধারণ স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি করে স্বেচ্ছাসেবী কাজে মনোভাব নষ্ট করছেন।

সিপিপি স্বেচ্ছাসেবক নির্দেশিকা -২০২১ অনুসারে সিপিপিতে যোগদানের বয়স ১৮ থেকে ৩৫ নির্ধারণ থাকলেও এই নীতিমালা অমান্য করে মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নে নিপা চক্রবর্তী নামক একজন ৪০ উর্ধ্ব বয়স নারী স্বেচ্ছাসেবককে নিয়োগ দিয়েছিলেন।

অপর দিকে রমজাননগর ইউনিয়নের তানিয়া নামক ১৬ বছর বয়সের নারী স্বেচ্ছাসেবককে নিয়োগ দিয়েছিলেন ।

কর্মকর্তার আন অফিসিয়াল তার কথা না শোনার কারনে পদ্মপুকুর ইউনিয়নের মাছুরা নামক নারী স্বেচ্ছাসেবককে বিনা কারণে বাদ দেওয়া হয়েছে।

জেলা পরিষদ নির্বাচনে কর্মকর্তার মনোনীত প্রার্থীকে ভোট না দেওয়ার কারণে রমজাননগরের আছমা মেম্বার, ও কৈখালীর রাবিয়া মেম্বারের সিপিপির আই ডি কার্ড দিতে তালবাহানা করেছে।

বক্তারা আরো বলেন:
এভাবে চলতে থাকলে শ্যামনগরের উপকূলীয় আমজনতা সিপিপি থেকে দুর্যোগের সময় সেবা পাবে না:
কর্মকর্তা মুন্সী নুর মোহাম্মদ একের পর এক নিয়ম বহির্ভূত কর্মকাণ্ড করতে থাকে এবং তার সাথে সঙ্গ না দেওয়ায়, শ্যামনগর সদর ইউনিয়ন টিম লিডার মোঃ আব্দুর রশিদ নান্টু নামে বিভিন্নভাবে মিথ্যা হয়রানি মূলক বেনামী অভিযোগ দিয়ে থাকেন ।

সর্বশেষ মোঃ আব্দুর রাজ্জাক নামীয় ব্যক্তির পাঠানো অভিযোগে বিষয়টি পরিষ্কার হয়, মুন্সি নুর মোহাম্মদ, অভিযোগকারীদের স্থানে আব্দুর রাজ্জাকের নাম ব্যবহার করে ইয়াসিন মোড়ল এবং আব্দুর রশিদ নানটুর নামে পুনরায় অভিযোগ করে,
মিটিং সেমিনার কিংবা প্রশিক্ষণ কর্মশালায় স্বেচ্ছাসেবকদের সাথে তুই তুকারি করে কথা বলেন এই কর্মকর্তা।
দুর্যোগের সময় বিশেষ মুহূর্তে অতি প্রয়োজনে কর্মকর্তাকে ফোন করলে ফোন কেটে দেন।
প্রয়োজনে স্বেচ্ছাসেবকরা অফিসে গেলে কর্মকর্তা বিরক্ত বোধ করেন।
স্বেচ্ছাসেবকদের মাঝে একে অপরের সাথে বিরোধ লাগিয়ে স্বার্থ হাসিল করার চেষ্টা করেন এই কর্মকর্তা।

মন:পুত ব্যক্তিদের বিভিন্নভাবে অফিশিয়ালি সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকেন বিশেষ করে যারা তার অনিয়ম কর্মকান্ডের সাথে জড়িত থাকেন।

টাকার বিনিময়ে জাতীয় পুরস্কার পাইয়ে দেওয়ার জন্য প্রকাশ্য সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন,কর্মকর্তা মুন্সি নুর মোহাম্মদ, তার কাছের ব্যক্তি রমজান নগর ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক ফারুক হোসেন কে অফিসের নথি প্রকাশ করে, নায্য পুরষ্কার প্রাপ্য নজরুলের ডকুমেন্টস জাল করে ততকালীন ইউ এন ও কাছে প্রেরণ করে

এসব বিষয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে সাধারণ স্বেচ্ছাসেবকরা মানববন্ধনের মাধ্যমে কর্মকর্তা মুন্সি নুর মোহাম্মদের বদলি চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।