খুঁজুন
সোমবার, ১৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বনদস্যু আতঙ্কে পেশা ছাড়ছেন সুন্দরবনের বনজীবীরা, পর্যটন খাতেও ধস

সুন্দরবন নিউজ ২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:০৪ পূর্বাহ্ণ
বনদস্যু আতঙ্কে পেশা ছাড়ছেন সুন্দরবনের বনজীবীরা, পর্যটন খাতেও ধস

সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জে আবারও বাড়ছে বনদস্যু আতঙ্ক। জেলে-বাওয়ালীদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের পাশাপাশি রেহাই পাচ্ছেন না পর্যটকরাও। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দস্যুদের এই লাগামহীন তৎপরতায় একদিকে বনজীবীরা পেশা ছাড়ছেন, অন্যদিকে ধস নেমেছে পর্যটন খাতে। প্রশাসন যৌথ অভিযানের আশ্বাস দিলেও কাটছে না আতঙ্ক।

২০১৮ সালের ১ নভেম্বর সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণার পর স্বস্তি পেয়েছিলেন বনজীবীরা। কিন্তু সেই স্বস্তি এখন অতীত। সাতক্ষীরা রেঞ্জের গহীন অরণ্যে আবারও ফিরছে দস্যুবাহিনী। এখন মাছ, কাঁকড়া বা মধু সংগ্রহ করতে গেলেই দিতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের চাঁদা।

সবশেষ গত ২২ জানুয়ারি মামুন্দো ও মালঞ্চ নদী এলাকা থেকে অস্ত্রের মুখে ২০ জন জেলেকে অপহরণ করে কথিত ‘ডন বাহিনী’। শুধু জেলে নয়, গত ২ জানুয়ারি প্রথমবারের মতো পর্যটক অপহরণের ঘটনাও ঘটে।

স্থানীয় একজন বলেন, পর্যটক কম দেখা যাচ্ছে বনদস্যুদের ভয়ে। এছাড়া জেলেরা ভয়ে সুন্দরবনে যেতে পারছে না। তাদের ধরলে ৫০ হাজার টাকা নেয়। আমার দাবি, সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূল করা হোক, যাতে সুন্দরবন দস্যুমুক্ত থাকে। আরেকজন বলেন, আমরা জেলেরা খুবই বিপদে আছি। জঙ্গলে ধরলে ৫০ হাজার বা ১ লাখ। আমরা গরীব মানুষ। কী করে দেব।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালে এ এলাকায় তিন শতাধিক অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সাতক্ষীরা রেঞ্জে ৪১ হাজার পর্যটক এলেও ২০২৫ সালের প্রথম ৬ মাসে সেই সংখ্যা নামে মাত্র ১৩ হাজারে। এমন পরিস্থিতিতে বনদস্যু দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয় একজন বলেন, জলদস্যুদের ভয়ে আছে পর্যটকরা। সে কারণে তারা গহীন সুন্দরবনে যেতে চান না। সে কারণে পর্যটক কমছে। আর আমরা বহু টাকা খরচ করে ট্রলার সংস্কার করেছি, কিন্তু আয় নেই।

বনদস্যুদের রুখতে শিগগিরই সুন্দরবনে যৌথ অভিযানের কথা জানালেন সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর সুন্দরবনে দস্যুদের তৎপরতা বেড়েছে। সুন্দরবন থেকে প্রচুর সম্পদ আহরিত হয়। বাংলাদেশ পুলিশ,কোস্টগার্ড,নৌপুলিশ,র‍্যাব-সবাইকে নিয়ে আমরা চেষ্টা করছি,নতুন করে যারা দস্যুবৃত্তির তৎপরতা বাড়াচ্ছে,তাদেরকে আইনের আওতায় আনার।

শুধু মৌখিক আশ্বাস নয়, দ্রুত কার্যকর অভিযানের মাধ্যমেই সুন্দরবন আবারও নিরাপত্তা ফিরে পাবে বলে আশা বনজীবীদের।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে সুন্দরবন, সাতক্ষীরা রেঞ্জে ভ্রমণ করেছেন ৪১ হাজার পর্যটক। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ সংখ্যা কমে দাড়িয়েছিল ৩৯ হাজার জনে। আর এ অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে সুন্দরবন ভ্রমণ করেছেন মাত্র ১৩ হাজার পর্যটক।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদের নিয়োগ বাতিল

সুন্দরবন নিউজ২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:২৭ অপরাহ্ণ
মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদের নিয়োগ বাতিল

মন্ত্রিপরিষদ সচিব ডা. শেখ আব্দুর রশীদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সবিচ মোহাম্মদ মামুন শিবলী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকৃত ড. শেখ আব্দুর রশীদের নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ এতদ্বারা বাতিল করা হলো।

জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর ডা. শেখ আব্দুর রশীদকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদে দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

প্রজ্ঞাপনে তখন বলা হয়, ২০১৮ সালের সরকারি চাকরি আইনের ৪৯ ধারা অনুযায়ী শেখ আব্দুর রশিদকে অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্মসম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে ১৪ অক্টোবর অথবা যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী দুই বছরের মেয়াদে মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হলো।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ছয় দিনের মাথায় ২০২৪ সালের ১৩ অগাস্ট বিসিএস-৮২ ব্যাচের কর্মকর্তা সাবেক অতিরিক্ত সচিব শেখ আব্দুর রশীদকে পল্লী কর্মসহায়ক ফাইন্ডেশন-পিকেএসএফের চেয়ারম্যান করা হয়।

তার চার দিনের মাথায় ঐ বছরের ১৭ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে কর্মজীবন শেষ করা ‘বঞ্চিত’ এ কর্মকর্তাকে সচিব পদমর্যাদায় ফিরিয়ে এনে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব করা হয়। এরপর ১৪ অক্টোবর মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

নারকেলের পানি ডায়াবেটিসের জন্য বন্ধু নাকি সমস্যা

সুন্দরবন নিউজ ২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
নারকেলের পানি ডায়াবেটিসের জন্য বন্ধু নাকি সমস্যা

ডায়াবেটিসে শুধু খাওয়া-দাওয়াই নয়, কী পান করা হচ্ছে তাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় আমরা ভুলে যাই, যে পানীয় আমরা খাই, তা রক্তে শর্করার মাত্রাকে সরাসরি প্রভাবিত করতে পারে। এই কারণে ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ প্রশ্নগুলোর মধ্যে একটি হলো– নারকেলের পানি কি নিরাপদ? নাকি রক্তে চিনি বাড়িয়ে দিতে পারে?

নারকেলের পানি বরাবরই গরমে শরীর ঠান্ডা রাখা, ক্লান্তি দূর করা এবং পটাসিয়াম ও অন্যান্য খনিজ উপাদান দেওয়ার জন্য জনপ্রিয়। এতে থাকে পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন সি ও বিভিন্ন খনিজ, যা শরীরের জন্য উপকারী। কিন্তু ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য চিন্তার বিষয় হলো এতে থাকা প্রাকৃতিক চিনি এবং কার্বোহাইড্রেট।

এক গ্লাস (প্রায় ২৫০ মিলিলিটার) নারকেলের পানিতে থাকে প্রায় ১৫ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট এবং ৮ গ্রাম প্রাকৃতিক চিনি। এই চিনি সরাসরি রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতে পারে।

মুম্বাইয়ের ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ ডা. নিখিল প্রভু বলেন, ‘যদি কারও রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে থাকে, তবে মাঝে মাঝে সীমিত পরিমাণে নারকেলের পানি খাওয়া যেতে পারে। তবে এটিকে ওষুধের মতো ভাবা উচিত নয়।’

গবেষণায় দেখা গেছে, নারকেলের পানির গ্লাইসেমিক ইনডেক্স প্রায় ৫৪, যা কম থেকে মাঝারি স্তরে পড়ে। অর্থাৎ এটি রক্তে চিনি হঠাৎ বাড়ায় না। তবে বেশি পরিমাণে খেলে সমস্যা হতে পারে।

নারকেলের পানিতে থাকা ম্যাগনেসিয়াম ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। টাইপ ২ ডায়াবেটিসে প্রায়ই ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি দেখা যায়, যা রক্তের চিনি নিয়ন্ত্রণে বাধা দেয়। এছাড়াও এতে থাকা পটাসিয়াম এবং এল-আর্জিনিন রক্তনালিগুলো শিথিল করতে সাহায্য করে, ফলে রক্ত চলাচল ভালো থাকে। ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে পায়ের স্নায়ু সমস্যা এবং রক্ত চলাচলের সমস্যা সাধারণ, তাই কিছুটা উপকার পাওয়া সম্ভব।

তবে, যদি কারও রক্তে চিনি খুব বেশি থাকে বা HbA1c প্রায় ৯-১০ শতাংশের কাছাকাছি, তবে নারকেলের পানি এড়ানোই ভালো। প্রতিদিন খেলে ধীরে ধীরে রক্তে চিনি বাড়তে পারে। নিরাপদ উপায় হলো, সপ্তাহে এক বা দুবার অল্প পরিমাণে নারকেলের পানি পান করা এবং তা খাবারের সঙ্গে বা শারীরিক পরিশ্রমের পরে নেওয়া। খালি পেটে বা প্রতিদিন নিয়মিত খাওয়া ঠিক নয়।

সারসংক্ষেপে, নারকেলের পানি ডায়াবেটিসের জন্য ‘বিষ নয়, অমৃতও নয়।’ এটি সঠিক সময়ে এবং সীমিত পরিমাণে পান করলে উপকারী হতে পারে। রক্তের চিনি নিয়মিত পরীক্ষা করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

সূত্র : Health Line

সকলে মিলে দেশ গড়ার সময় এসেছে: সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তারেক রহমান

সুন্দরবন নিউজ ২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১১:৪০ অপরাহ্ণ
সকলে মিলে দেশ গড়ার সময় এসেছে: সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সকলে মিলে দেশ গড়ার সময় এসেছে, এখন বাংলাদেশের মানুষ কথা বলার অধিকার ফিরে পেতে চায়।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর পূর্বাচলের ৩০০ ফিটে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

আজ দুপুর ১২টা ৩৫মিনিটে তিনি বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে একটি বিশেষ বাসে করে ৩০০ ফিটের উদ্দেশে রওনা দেন। দলীয় নেতাকর্মীরা রাস্তার দুধারে হাত নেড়ে তাকে স্বাগত জানান। ৩ ঘণ্টা ১৫ মিনিট পর মঞ্চে পৌঁছান বিএনপি নেতা তারেক রহমান।

এর আগে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বহনকারী বিমানটি বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এর কিছুক্ষণ আগে তারেক রহমান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে আবেগঘন বার্তায় লেখেন, দীর্ঘ ৬ হাজার ৩১৪ দিন পর বাংলাদেশের আকাশে!

এরও আগে, বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত সোয়া ১২টায় লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে ফ্লাইটটি। একই দিন বাংলাদেশ সময় রাত সোয়া ৮টায় লন্ডনের নিজ বাসা ত্যাগ করেন তারেক রহমান। তিনি স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে রাত সোয়া ১০টায় হিথ্রো বিমানবন্দরে পৌঁছান।