খুঁজুন
সোমবার, ১৬ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

উপকূলবাসীর দুঃখগাথা সেই ভয়াল ১২ নভেম্বর আজ

সুন্দরবন নিউজ২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর, ২০২৪, ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ
উপকূলবাসীর দুঃখগাথা সেই ভয়াল ১২ নভেম্বর আজ

কালের স্বাক্ষী আজ ভয়াল ১২ নভেম্বর’ । ১৯৭০ সালের এ দিনে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও ব্যাপক জলোচ্ছ্বাসে ১০ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিলো। এর মধ্যে একলক্ষাধিক মানুষের মৃত্যু হয় ভোলাতেই। তখন উপকূলীয় দ্বীপাঞ্চল’সহ দক্ষিণাঞ্চলের বহু এলাকা বিরাণভূমিতে পরিণত হয় ।
ওই ঘূর্ণিঝড়ে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটে দ্বীপ জনপদ ভোলা এবং তৎকালীন নোয়াখালী উপকূলে। সেইসময় নোয়াখালী উপকূলের রামগতি,হাতিয়া,সন্দ্বীপ এবং পটুয়াখালী পরিণত হয় ধ্বংসস্তূপে। ধারণা করা হয়, সেই দুর্যোগে ভোলা জেলাতেই লক্ষাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটে। সেদিন উত্তাল নদী মেঘনা,তেঁতুলিয়া,কালাবাদর এবং তার শাখা-প্রশাখাগুলো রূপান্তরিত হয় লাশের মিছিলে ।

সূত্রমতে,১৯৭০ সালের সেই ভয়াল ১২ নভেম্বর উপকূলবাসীর কাছে এক ভয়াবহ কালোরাত হিসেবে বিবেচিত। সেই সময়ে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট “ভোলা সাইক্লোন” উপকূলে আঘাত হানে। জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মতে, “ভোলা সাইক্লোন” পৃথিবীর ইতিহাসে ভয়ঙ্করতম প্রাণঘাতী একটি ঝড়। ১৯৭০ সালের সেই রাতে উপকূলে আঘাত হানে প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড় ভয়াল “ভোলা” সাইক্লোন বা গোর্কি।

এ দিনে প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে প্রায় ১০ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটে। উপকূলীয় দ্বীপচরসহ বহু এলাকার ঘরবাড়ি নিশ্চিহ্ন হয়ে বিরাণভূমিতে পরিণত হয়। এ ঘূর্ণিঝড়ের ভয়াবহতায় কথা মনে হলে সেই সময়ের অনেকে মানুষ আজও আঁতকে ওঠেন। ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের র্বতমান বাংলাদশের দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপকভাবে আঘাত হানে।

এ পর্যন্ত রেকের্ডকৃত ঘূর্ণিঝড় সমূহের মধ্যে এটি সবচেয়ে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় এবং এটি সর্বকালের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতকি দুূর্যোগ বলে বিবেচিত। সরকারি হিসেবে এ ঝড়ের তান্ডবে প্রায় ৫ লাখ মানুষ প্রাণ হারানোর কথা বলা হলেও বেসরকারি হিসেবে প্রায় ১০ লাখের বেশী মানুষ প্রাণ হারায়।

তথ্যমতে,এটি ১৯৭০-এর উত্তর ভারতীয় ঘূর্ণিঝড় মৌসুমরে ৬ষ্ঠ ঘূর্ণিঝড় এবং মৌসুমের সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ছিল। এটি সিম্পসন স্কেলে ক্যাটাগরি ৩ মাত্রার ঘর্ূিণঝিড় ছিল। ঘূর্ণিঝড়ে ১৫ থেকে ২৫ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাসে দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চল ও দ্বীপগুলো প্লাবিত হয়ে প্রায় ১০ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

সেইদিনের ওই স্মৃতি বয়ে আজও যারা বেঁচে রয়েছেন কিংবা স্বজনদের হারিয়েছেন, কেবল তারাই অনুভব করেন,সেদিনের ভয়াবহতা। সত্তরের সেই ভয়াবহ সাইক্লোনের স্মৃতিচারণে সাংবাদিক সাপ্তাহিক দ্বীকন্ঠ পত্রিকার সম্পাদক এম আবু তাহের বলেন,বিভীষিকাময় সেইদিন আমি ‘দেখেছি সাপ আর মানুষ দৌলতখানের চৌকিঘাটে জড়িয়ে পড়ে আছে।

স্নেহময়ী মা তার শিশুকে কোলে জড়িয়ে মৃত পড়ে আছে মেঘনার পাড়ে। দুর্গম চরাঞ্চল সোনাপুরের বাগানে গাছের ডালে ঝুলছে-নারী-পুরুষের লাশ । এমনিভাবে মনপুরা,চরফ্যাশন,লালমোহন, তজুমুদ্দিন ও দৌলতখানসহ সমগ্র জেলায় মৃত মানুষ আর গবাদিপশু বঙ্গোপসাগরের উত্তাল পানিতে ভেসে গেছে। জনশূন্য হয়ে পড়েছিল দ্বীপাঞ্চল ভোলা।’

এ ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাসের পর মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী রাষ্ট্রীয় উচ্চ পদস্থ ব্যাক্তিদের নিয়ে সেই ধ্বংসযজ্ঞ ও বেদনাহতদের দেখতে ভোলায় আসেন। এসব দৃশ্য দেখে তারা শোকবিহ্বল হয়ে পড়েন।

ওই সময়ে খুব কাছ থেকে দেখা সেই দুর্যোগের স্বাক্ষী আশিউর্ধ্বো বয়সী প্রবীণ ব্যক্তি মনপুরা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান কামালউদ্দিন তার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বাসস’কে বলেন, আমরা চর বাদাম,চর সীতা এবং চর জব্বরে ধানক্ষেতগুলোতে নাকেমুখে নোনা পানি লেপ্টানো অগণিত মানুষের লাশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখেছি।

সাগরে ভাসতে দেখেছি লাশ আর লাশ। রামগতি,হাতিয়া,সন্দ্বীপ,ভোলা ও পটুয়াখালী পরিণত হয়েছিল ধ্বংসস্তূপে। তারমতে, গোটা উপকূল অঞ্চলে প্রায় অর্ধকোটি লোক মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি বলেন, ১২৮৩ সালের গোর্কির চেয়ে বহুগুণে করুণ এবং ভয়াবহ ছিল ’৭০ সালের গোর্কি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে,জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) এ ঘূর্ণিঝড়কে পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ংকর প্রাণঘাতী ঘূর্ণিঝড় হিসেবে উল্লেখ করেছে। ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকে ১৩ নভেম্বর ভোর পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়টি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৮৫ কিলোমিটার বেগে আঘাত হেনেছিলো।

এদিকে প্রলয়ঙ্কারী সেই ঘূর্ণিঝড়ে নিহতদের স্মরণে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও তাদের রুহের মাগফিরাত কামনায় আজ মঙ্গলবার ১২ নভেম্বর উপকুলীয় জেলা ভোলার বিভিন্ন এলাকায় দোয়া,আলোচনা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

হারেৎজের প্রতিবেদন ইসরায়েলের পরমাণু অস্ত্র প্রকল্পে গোপনে অর্থায়ন করেছিল জার্মানি

সুন্দরবন নিউজ২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ৮:৪৬ অপরাহ্ণ
হারেৎজের প্রতিবেদন ইসরায়েলের পরমাণু অস্ত্র প্রকল্পে গোপনে অর্থায়ন করেছিল জার্মানি

ইসরায়েলের নেগেভ মরুভূমিতে অবস্থিত ডিমোনা পারমাণবিক চুল্লির অস্তিত্ব প্রথম প্রকাশ্যে আসে ১৯৬০ সালের ডিসেম্বরে। এরপর থেকে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তর গবেষণা, বই এবং অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, জার্মানি গোপনভাবে এই প্রকল্পে অর্থায়ন করেছিল।

ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজ জানিয়েছে, অ্যাভনার কোহেনের ‘ইসরায়েল অ্যান্ড দ্য বোম্ব’সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থের পাশাপাশি সিমুর হার্শ, জাকি শালোম এবং আদম রাজের গবেষণায় এই কর্মসূচির উৎস, বিকাশ এবং গোপনীয়তা বিশদভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ২০২৪ সালে সাংবাদিক শ্যানি হাজিজারের প্রামাণ্যচিত্র সিরিজ ‘দ্য অ্যাটম অ্যান্ড মি’ এই ইতিহাসে ব্যক্তিগত ও সামাজিক মাত্রা যোগ করেছে।

তবে দশকের পর দশক গবেষণার পরও দুটি বড় প্রশ্নের উত্তর অমীমাংসিত রয়ে গেছে—প্রকল্পের মোট খরচ কত হয়েছিল এবং সেই অর্থ কে জুগিয়েছিল।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ১৯৬১ থেকে ১৯৭৩ সালের মধ্যে বন সরকার (তৎকালীন পশ্চিম জার্মানির সরকার) গোপন ঋণ ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিবছর ১৪০ থেকে ১৬০ মিলিয়ন জার্মান মার্ক ইসরায়েলে পাঠিয়েছে। মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২ বিলিয়ন মার্ক, যা বর্তমান মূল্যে প্রায় ৫ বিলিয়ন ইউরো বা ৫.৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

১৯৮৯ সালে স্বাক্ষরিত পরবর্তী এক পরিশোধ চুক্তির মাধ্যমে এই ঋণ কার্যত অনুদানে পরিণত হয়।

এই দাবি সত্য হলে, ইসরায়েলের পারমাণবিক প্রকল্পের বড় অংশ ইসরায়েলি করদাতা বা ব্যক্তিগত দাতাদের অর্থে নয়, বরং জার্মান সরকারের অর্থে নির্মিত হয়েছিল।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান কে হবেন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ে জানা গেল

সুন্দরবন নিউজ২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬, ৪:৩৫ অপরাহ্ণ
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান কে হবেন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ে জানা গেল

সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের দেওয়া রায় প্রকাশ করা হয়েছে। রায়ে সবশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হবেন বলে উল্লেখ করা হয়।

রোববার (১৫ মার্চ) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ৭৪ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশ করা হয়। রায়টি লিখেছেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। গত ২০ নভেম্বর ওই রায় দিয়েছিলেন সর্বোচ্চ আদালত।

এই রায়ের ফলে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিধান আবার ফিরল। এ–সংক্রান্ত বিধান পুনরুজ্জীবিত হলেও এখনই তা কার্যকর হচ্ছে না। জাতীয় সংসদের চতুর্দশ নির্বাচন থেকে তা প্রয়োগ হতে পারে।

পূর্ণাঙ্গ রায়ে আপিল বিভাগ বলেন, চতুর্দশ নির্বাচন থেকেই এই ব্যবস্থা কার্যকর হবে। তবে বর্তমান সংসদ চাইলে এ ব্যবস্থার সংযোজন কিংবা বিয়োজন করতে পারবে বলে জানায় আইনজীবীরা।

১৯৯৬ সালে বিএনপি সরকারের আমলে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন হয়েছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০১১ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে রায় দিলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিলোপ ঘটে।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০১১ সালের সেই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন হলে নতুন করে আপিল শুনানির সিদ্ধান্ত নেয় সর্বোচ্চ আদালত। পরে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় অবৈধ ঘোষণা করে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত দেন সর্বোচ্চ আদালত।

সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৭ বিচারকের পূর্ণাঙ্গ আপিল বিভাগ এ রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অপর ৬ বিচারক হলেন– বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম ইমদাদুল হক, বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।

ইরানে স্থল অভিযান মানে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ!

সুন্দরবন নিউজ২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬, ১১:৩৪ পূর্বাহ্ণ
ইরানে স্থল অভিযান মানে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ!

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকে সংঘাত ক্রমেই বাড়ছে। পাল্টাপাল্টি আক্রমণের তীব্রতা যেমন বাড়ছে, তেমনি বিস্তৃত হচ্ছে যুদ্ধক্ষেত্রের পরিধিও। একের পর এক গোষ্ঠী, দেশ আক্রান্ত হচ্ছে, জড়াচ্ছে যুদ্ধে। প্রথমদিকে কেবল ইরানের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হলেও পরে কৌশলগত অবস্থান, জ্বালানি, পানি স্থাপনা, হাসপাতাল, স্কুলে হামলা হয়। তেহরানও ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটির সঙ্গে পানি শোধণাগার, জ্বালানি ডিপোকে ড্রোন হামলা চালায়। এর মধ্যে ইরানের সবচেয়ে বড় চারটি তেল ডিপোতে ইসরায়েলি-মার্কিন হামলার পর জ্বালানির অন্যতম নৌরুট হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে তেহরান। তেল আবিবে হিজবুল্লাহ ও ইরান প্রথমবারের মতো যৌথভাবে আক্রমণ করে। তেহরানের ‘অলআউট’ আক্রমণে সাগরে থাকা মার্কিন রণতরি, আকাশে সামরিক বিমান বিধ্বস্ত, ঘাঁটির পাঁচটি সামরিক বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইসরায়েলজুড়ে ঝোড়ো আক্রমণ চালাচ্ছে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সেনারা। যুদ্ধে সরাসরি জড়িয়েছে ইরানপন্থি লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইরাকের মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো। রাজধানী তেহরানসহ সব প্রদেশে তাণ্ডব চালাচ্ছে মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধ জোট। এর মধ্যে খবর বেরিয়েছে—রাশিয়া মার্কিন সামরিক বাহিনী ও যানের অবস্থানগত গোয়েন্দা তথ্য এবং স্যাটেলাইটের জিপিএস আর প্রযুক্তিগত সুবিধা দিচ্ছে চীন। জাতিসংঘেও তারা ইরানে হামলার বিরুদ্ধে তোপ দেগেছে। এ পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আড়াই হাজার স্থল সেনা পাঠাচ্ছেন। বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, এখন ইরানে স্থল অভিযান শুরু হলে সেটি শুধু আর আঞ্চলিক যুদ্ধে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা বিশ্বকে ঠেলে দিতে পারে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে। ইরান যুদ্ধ ঘিরে বিশ্বযুদ্ধের ঝুঁকি নিয়ে বিস্তারিত জানাচ্ছেন হুমায়ূন কবির

ইরানের সামরিক শক্তি, ভৌগোলিক অবস্থান এবং রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্কসহ বিস্তৃত আঞ্চলিক প্রভাব—এই তিনের সমন্বয়ে ইরানকে অনেক বিশেষজ্ঞই মধ্যপ্রাচ্যে ‘কৌশলগত কেন্দ্রবিন্দু’ হিসেবে দেখেন। ফলে দেশটিতে সরাসরি সেনা অভিযান মানে শুধু ইরানের সঙ্গে সংঘাত নয়, বরং পুরো অঞ্চলের শক্তির ভারসাম্য ভেঙে পড়ার ঝুঁকি।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক জন জে মিয়ারশেইমার মনে করেন, ইরানের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ দ্রুতই বহু দেশের সম্পৃক্ততায় বড় আকার নিতে পারে। একই ধরনের সতর্কতা দিয়েছেন বৈশ্বিক ঝুঁকি বিশ্লেষক ইয়ান ব্রিমারও। তাদের মতে, ইরানের বৈশ্বিক মিত্র ও প্রক্সি শক্তিগুলো সক্রিয় হলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে লেবানন, সিরিয়া, ইরাক ও ইয়েমেন পর্যন্ত। এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পথগুলোর একটি হরমুজ প্রণালি, যা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্ব অর্থনীতিতেও দেখা দিতে পারে বড় ধরনের ধাক্কা।

আঞ্চলিক যুদ্ধ, সীমিত যুদ্ধ বা নানা ধরনের হাইব্রিড ও অসম যুদ্ধের তুলনায় একটি বিশ্বযুদ্ধ মহাশক্তির রাজনীতি, স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ওপর অনেক বেশি প্রভাব ফেলে। হ্যাঁ, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তবে তা অঞ্চল ছাড়িয়ে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। কিন্তু এই বা অন্য কোনো সংঘাতকে বিশ্বযুদ্ধ বলতে হলে চারটি শর্ত পূরণ করতে হবে। প্রথমত, একটি বিশ্বযুদ্ধে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সব বা অধিকাংশ মহাশক্তি সরাসরি পরস্পরের মুখোমুখি হয়। দ্বিতীয়ত, যুদ্ধ-সংক্রান্ত সামরিক অভিযান বৈশ্বিক পরিসরে বিস্তৃত হয় বা অন্তত দুই বা ততোধিক মহাদেশে সংঘটিত হয়। তৃতীয়ত, বিশ্বযুদ্ধ হলো সর্বাত্মক যুদ্ধ, সীমিত যুদ্ধ নয়। অর্থাৎ মহাশক্তিগুলো তাদের সামরিক শক্তি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদের বিপুল অংশ যুদ্ধে নিয়োজিত করে। চতুর্থত, যুদ্ধের ফলাফল হতে হবে পদ্ধতিগত বা কাঠামোগত প্রভাববাহী, অর্থাৎ মহাশক্তিগুলোর শক্তির ভারসাম্যে স্পষ্ট পরিবর্তন ঘটতে হবে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ স্পষ্টতই এই চারটি মানদণ্ড পূরণ করেছিল। এতে তৎকালীন সব মহাশক্তি জড়িত ছিল, যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়েছিল সব বসবাসযোগ্য মহাদেশে, এটি ছিল সর্বাত্মক যুদ্ধ এবং এর ফলাফল ছিল গভীর পদ্ধতিগত পরিবর্তন। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন সুপারপাওয়ার হিসেবে উঠে আসে, আর ইউরোপের পূর্বতন মহাশক্তিগুলো ধীরে ধীরে তাদের মর্যাদা ও উপনিবেশ হারায়। এ যুদ্ধের ফলেই জাতিসংঘ এবং ব্রেটন উডস প্রতিষ্ঠানগুলোর সৃষ্টি হয়, যা বৈশ্বিক ব্যবস্থাকে সংগঠিত করার এক সম্পূর্ণ নতুন পদ্ধতি।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ মূলত ইউরোপকেন্দ্রিক হলেও শেষ পর্যন্ত তৎকালীন সব মহাশক্তিকে এতে জড়িয়ে ফেলে, যার মধ্যে ক্ষয়িষ্ণু ওসমানী সাম্রাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রও ছিল। যুদ্ধটি বৈশ্বিক রূপ নেয়, আফ্রিকা ও এশিয়া-প্রশান্ত অঞ্চলে ইউরোপীয় উপনিবেশগুলোর কারণে একাধিক ফ্রন্ট তৈরি হয়।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের লড়াই: আঞ্চলিক যুদ্ধ

ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এখন পর্যন্ত আঞ্চলিক যুদ্ধ। যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা, জ্বালানির দামে নাটকীয় প্রভাব, আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে বিঘ্ন এবং ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনে বহু দেশের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও এটি আঞ্চলিকই রয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত রাশিয়া ও চীনের মতো সুপারপাওয়ার দেশগুলো সরাসরি যুদ্ধে জড়ায়নি। তবে খবর বেরিয়েছে যে রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য দিচ্ছে এবং চীন জিপিএসসহ প্রযুক্তিগত সুবিধা দিচ্ছে।

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে বিশ্লেষকদের সতর্কতা

ইরানে স্থল অভিযান পরিচালনা করা আফগানিস্তান বা ইরাকের মতো সহজ হবে না। কারণ দেশটির প্রাকৃতিক অবস্থান বিপৎসংকুল। যার চারপাশে পাহাড়, মরুভূমি ও সাগর দিয়ে পরিবেষ্টিত। এর মধ্যে দেশটিতে স্থল অভিযানে পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা হলে ইরানও দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে যেতে পারে।

ইউরোশিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট ইয়ান ব্রিমার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে সফল হলেও ইরান যুদ্ধের রাজনৈতিক ও কৌশলগত পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। যুদ্ধ দীর্ঘ হলে তা আঞ্চলিক সংঘর্ষকে বড় আকারে ছড়িয়ে দিতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিবিদ ও কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক জেফ্রি স্যাকস সতর্ক করে বলেছেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র স্থল অভিযান চালালে খুব সহজেই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরিণত হতে পারে, কারণ ইরানের পেছনে রাশিয়া বা অন্য শক্তির সমর্থন থাকতে পারে।

বাকিংহাম ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও ব্রিটিশ নিরাপত্তা বিশ্লেষক অ্যান্থনি গ্লিস বলেন, ইরানকে কেন্দ্র করে বড় যুদ্ধ শুরু হলে তা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সম্ভাব্য ‘ব্লুপ্রিন্ট’ হয়ে উঠতে পারে—বিশেষ করে যদি আঞ্চলিক মিত্র ও আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো এতে জড়িয়ে পড়ে।